রাজ্যের প্রথম দফা নির্বাচনে প্রতি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা সম্ভব । জানা যাচ্ছে বর্তমানে যে সংখ্যক আধা সেনা রাজ্যে রয়েছে সেই সংখ্যক আধা সেনা প্রতি বুথে মোতায়েন রেখে ভোটগ্রহণ তখনই সম্ভব হবে যখন রেসপন্স টিম এবং কুইক রেসপন্স টিমের মত অন্য সার্বিক নিরাপত্তা রাজ্য বাহিনীর সাহায্যে ব্যবস্থা করা যাবে ।
প্রথম দফা নির্বাচনে বাহিনী মোতায়েন নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে এমনই প্রস্তাব দিল রাজ্য সরকার তথা রাজ্য পুলিশের নোডাল অফিসার । নির্বাচন কমিশন রাজ্যের পাঠানো এই বাহিনী মোতায়েন পরিকল্পনায় শিল-মোহর দিলেই শুধুমাত্র প্রতি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রেখে ভোট গ্রহণ করা যাবে বলে জানা যায় । রাজ্য সরকার যে প্রস্তাব দিয়েছে তাতে বলা হয়েছে, বুথ প্রেমিসেস, স্ট্রং রুমের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে সিএপিএফ । স্পর্শকাতর বুথের নিরিখে এবং জেলাভিত্তিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা অনুযায়ী মোতায়েন করা হবে ২৭৭ কোম্পানি বাহিনী ।
অন্যদিকে এক থেকে তিনটি বুথ প্রেমিসেস হলে হাফ সেকশন করে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে । তিন থেকে পাঁচটি বুথ প্রেমিসেস হলে এক সেকশন করে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে । ছয় থেকে আটটি বুথ প্রেমিসস হলে দেড় সেকশন করে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে ।
একই সঙ্গে জানা যায়, প্রথম দফা নির্বাচনে ২৭৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীর মধ্যে জলপাইগুড়িতে ৭৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে । শিলিগুড়ি(পিসি)তে মোতায়েন করা হবে ১৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী । আলিপুরদুয়ারে মোতায়েন করা হবে ৬৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী । কোচবিহারে মোতায়েন করা হবে ১১২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী ।
প্রথম দফার নির্বাচনে ১০৮৭৫ জন রাজ্যে পুলিশকে নিরাপত্তার কাজে ব্যবহার করতে হবে একইসঙ্গে, প্রথম দফায় মোতায়েন করা হবে ২৬৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী ।
জলপাইগুড়িতে কিউআরটি থাকবে ২২ কোম্পানি, আলিপুরদুয়ারে ১৯, কোচবিহারে ২৭ কোম্পানি এবং শিলিগুড়ি(পিসি)তে ৬ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে । মোট ৭৪ কোম্পানি কিউআরটি থাকবে বলে জানা গিয়েছে । দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে স্পর্শকাতর অঞ্চলে ১৪ কোম্পানি কোম্পানি সিএপিএফ কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে । এছাড়া দ্বিতীয় দফায় এক এক কোম্পানি করে দার্জিলিং, কালিম্পং, ইসলামপুর, রায়গঞ্জ, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদা, মুর্শিদাবাদ, বসিরহাট, বনগাঁ, পূর্ব মেদিনীপুর, চন্দননগরে, হাওড়া, ব্যারাকপুর, কলকাতা পুলিশে এক কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করা হবে । প্রত্যেকটি কেন্দ্রে এক কোম্পানি করে বাহিনী মোতায়েন থাকবে ।
প্রথম দফা নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটি করে বুথে একজন করে লাঠিধারী ও হাফ সেকশান কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকবে । দুটি করে বুথ হলে দুজন লাঠিধারী ও হাফ সেকশন কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে । তিনটি বুথ হলে তিনজন লাঠীধারী ও এক সেকশন করে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে । চারটি বুথ হলে চারজন করে লাঠীধারী এবং এক সেকশন করে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে । পাঁচটি করে বুথ হলে এক সেকশন করে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পাঁচজন লাঠীধরী পুলিশ থাকবে । ছয়টি করে বুথ প্রেমিসেস হলে দেড় সেকশন করে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে। সাতটি করে বুথ প্রেমিসেস হলে দেড় সেকশন করে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে । একইভাবে আটটি করে বুথ প্রেমিসস হলে আটজন লাঠিধারি এবং দেড় সেকশন কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে । প্রথম দফা নির্বাচনে মোট ৪০৩টি বুথ প্রেমিসেস এবং ৫৮১৪টি মোট বুথ রয়েছে । এর মধ্যে একটি ভোট কেন্দ্রে তিন সেকশন করে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকবে । রাজ্য পুলিশের একজন সশস্ত্র ইন্সপেক্টর এসআই, সশস্ত্র এসআই বা এসআর, একজন সশস্ত্র কনস্টেবল, একজন করে লেডি কনস্টেবল, একজন লাঠিধারি এবং এনভিফ ন্যাশনাল ভলান্টিয়ার ফোর্সকে ভোটে নিরাপত্তার কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন । এছাড়া থাকছে কিউয়ারটি টিম, সেক্টর আরটি মোবাইল, এইচ আর এফ এস, নাকা, পিএসএ স্ট্রাইকিং ফোর্স, ডিস্ট্রিক্ট ষ্ট্রাইকিং ফোর্স সহ অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
- সন্দেশখালি দুর্ঘটনায় মামলা দায়ের ন্যাজাট থানায়, অভিযুক্ত ৮ - December 11, 2025
- ইন্ডিগোর সমস্যা নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী, কংগ্রেস - December 8, 2025
- সংসদে কংগ্রেসকে নিশানা নরেন্দ্র মোদীর - December 8, 2025

