কমলা কামিনী পুজোতে মেতে উঠল মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ

চৈত্র মাসে কমলা কামিনী পুজোতে মেতে উঠলেন গ্রামের বাসিন্দারা । মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জের দফরপুর গ্রামে বসন্তে দুর্গাপুজোতে মেতে উঠেছেন সকলে । জমিদার পঙ্কজ কুমার দাসের স্মরণে এই কমলা কামিনীর পুজোর আয়োজন করা হয় বলে জানা গিয়েছে । ১৩২৮ সালে পুজোর সূচনা করা হয় । সেই থেকে শুরু করে এই পুজো চলছে আজও । পুজো উপলক্ষে যেমন মেলার আয়োজন হয় ঠিক তেমনই আছে গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে উন্মাদনা।

জানা যায়, ব্রিটিশ আমলে মুর্শিদাবাদ জেলার বিভিন্ন জায়গায় তৎকালীন সময়ে নীল চাষ ও পলু চাষ করা হত। জমিদার পঙ্কজ কুমার দাস নিঃসন্তান ছিলেন বলে জানা যায় । লালগোলার মহারাজার কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে এই পুজো শুরু হয় । তৎকালীন সময়ে নীল চাষ ও পলু চাষের ব্যবসার বৃদ্ধির জন্য ১৩২৮ সালে এই কমলা কামিনীর পুজোর সৃষ্টি হয় ব্রিটিশ আমলে ।

তবে আজ আছে নীল কুঠিরের কিছু নির্দশন থাকলেও আজ তা কালের নিয়মে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে । এই পুজোকে কেন্দ্র করে আগে আলকাপ বাউল সহ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হলেও এখন আর তা হয়না । আগে সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী দশমী চারদিন ধরে পুজো চলতো, যা আজও চলে আসছে একই নিয়ম নিষ্ঠার সহকারে । বর্তমানে এখন ষষ্ঠী থেকে পুজো শুরু হয় যা শেষ হয় দশমীর দিনে । দুর্গাপুজো ঠিক যেমন ভাবেই পুজো হয় সেই ভাবেই কমলা কামিনীর পুজো চলে গ্রামে । এই চারদিন ধরেই দুর্গাপুজোর মতোই পুজোর আনন্দে মেতে ওঠেন গ্রামের সকল স্তরের মানুষ । তবে এই পুজোকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ মেলাও বসে ।

কথিত আছে, দেবী কমলা কামিনী বা কমলা হল দশ মহাবিদ্যার দশম মহাবিদ্যা । ইনি চন্দ্রের ঈষ্টদেবী । মা কমলা হলেন ধনসম্পদ, আধ্যাত্মিক সম্পদ, সৌভাগ্য ও সৌন্দর্যের দেবী । সেই সঙ্গে তিনি বরাভয় প্রদায়িনী শুদ্ধ চৈতন্যের দেবী । তাঁকে তান্ত্রিক লক্ষ্মীও বলা হয় ।

কমলা হচ্ছে পদ্মের প্রতিশব্দ । কমলা কামিনী দেবীর যে রুপ কল্পনা করা হয় তাতে দেখা যায় দেবীকে চারটি বড় হাতি স্নান করাচ্ছেন এবং দেবী পদ্মের উপর অধিষ্ঠিতা । তার চারটি হাত রয়েছে । দেবীর চারটি হাতে দু’টি পদ্ম ও বরাভয় মুদ্রা । মাথায় রত্নমুকুট,দেবী পট্টবস্ত্র-পরিহিতা । তাই দেবী দুর্গার অপররুপ হিসেবে এই কমলা কামিনীর পুজো আজও চলে আসছে দফরপুর গ্রামে ।

নিউজ টাইম চ্যানেলের খবরটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
Inform others ?
Share On Youtube
Show Buttons
Share On Youtube
Hide Buttons
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
Facebook
YouTube