সন্দেশখালিতে নির্যাতিতাদের সঙ্গে কথা বলল মহিলা কমিশন, উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য!

সন্দেশখালিতে পুলিশ যে ১০ জনের বিশেষ দল তৈরির কথা ঘোষণা করেছিল সোমবার, মঙ্গলবার সকালে সেই দলের প্রধান হিসাবে ডিআইজি সিআইডি সোমা দাস মিত্র সন্দেশখালি থানায় পৌঁছলেন। তাঁর সঙ্গেই থানায় ঢোকেন আরও এক ডিআইজি পদমর্যাদার আইপিএস আধিকারিক দেবস্মিতা দাসও।

পুলিশ সূত্রে খবর, জাতীয় মহিলা কমিশন এবং রাজ্যের ১০ জন মহিলা পুলিশের প্রতিনিধি দল সন্দেশখালি থানার আধিকারিকের সঙ্গে বৈঠক করেন। ডিআইজি সোমা দাসের নেতৃত্বে মহিলা পুলিশ আধিকারিকদের প্রতিনিধি দল সন্দেশখালি থানা থেকে বেরোল। জাতীয় মহিলা কমিশনের প্রতিনিধি দলও এসেছে।

গত কয়েকদিনে দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে সন্দেশখালিতে। উত্তপ্ত জনতা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। বিক্ষোভের সামনের সারিতে ছিলেন সন্দেশখালির মহিলারা। তাঁদের অভিযোগ ছিল, এলাকার কমবয়সি সুন্দরী মহিলাদের ডেকে নিয়ে যাওয়া হত, নিয়ে যেতেন শাহজাহানের শাগরেদ শিবপ্রসাদ হাজরার বাহিনীর লোকেরা। জোর করে তাঁদের মিটিং-মিছিলে ডেকে নিয়ে যাওয়া তো বটেই, রাতের দিকেও বাড়িতে ডেকে পাঠানো হত। না গেলেই দেওয়া হত হুমকি। শ্লীলতাহানিরও অভিযোগ তুলেছিলেন মহিলাদের একাংশ। সেই সব অভিযোগ নিয়ে রাজ্য জুড়ে তো বটেই, এ বার জাতীয় স্তরেও সরব হয়েছেন বিরোধীরা। 

চাঞ্চল্যকর ছবি সন্দেশখালির পাত্রপাড়ায়। জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্যরা এলেন, তবে দেখা করতে পারলেন না কোনও অত্যাচারিত হওয়া মহিলাদের সঙ্গে। পুলিশের তরফ থেকেই দু’টি বাড়িতে আগে থেকে বলে রাখা হয়েছিল যে, এই বাড়িগুলিতে যাবেন জাতীয় মহিলা কমিশনের ২ সদস্য। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে বাড়িতে আসার পরও খোঁজ পাওয়া গেল না তাঁদের। বারংবার ফোন করার পরও ফোন তুললেন না পরিবারের কোনও সদস্য। জাতীয় মহিলা কমিশনের সদসদের সঙ্গে পুলিশের সঙ্গে কো-অর্ডিনেশনের অভাব দেখা যাচ্ছে।

তবে অধিকাংশ মহিলাই মুখ ঢেকে জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের কথা থেকেই উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য! এতো উত্তেজনা, বিক্ষোভ, প্রতিবাদের মাঝেও তাঁরা অত্যাচারের শিকার! এমনই দাবি করেছেন সন্দেশখালির মহিলারা।

জাতীয় মহিলা কমিশনের পক্ষ থেকে জানান হয়েছে, “আমরা ভয় কাটানোর জন্য এসেছিলাম। যারা স্পেসিফিক কিছু বলতে চেয়েছে, প্রত্যেকের সঙ্গে কথা বলেছি, আমরা সবাই মহিলা টিম। যেটা করার দরকার সেটা করা হবে। আজ ৪টে রিটেন কমপ্লেন আমরা পেয়েছি। ওনাদের যেটা মনে হয়েছে ওনারা সেটাই বলেছেন। শারীরিকভাবে নির্যাতনের কথা বলতে গিয়ে কেউ কেউ বলেন, মহিলাদের মারধর করা হয়েছে। কেউ বলেন, মিটিংয়ের নামে মহিলাদের তুলে নিয়ে গিয়ে পার্টি অফিসে বসিয়ে রাখা বা নির্যাতন করা হয় বলেও ভয় দেখানো হয়েছে। গ্রামের মহিলারা কমপ্লেনের মাধ্যমে জানিয়েছেন, ওনাদের ভয় দেখানো হতো।”

নিউজ টাইম চ্যানেলের খবরটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
Inform others ?
Share On Youtube
Show Buttons
Share On Youtube
Hide Buttons
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
Facebook
YouTube