শিক্ষকের অভাবে স্কুলে তালা!

স্কুলে বন্ধ হয়ে গেল পঠন পাঠন । টিসি দিয়ে দেওয়া হয়েছে সেই স্কুলের পড়ুয়াদের । স্কুল প্রাঙ্গণে নেই পড়ুয়াদের কোলাহল; শুধু বিচরণ করছে ছাগল, মুরগি । রাজ্যে যখন একদিকে শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে লাগাতার আন্দোলন চলছে আর অন্যদিকে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে তোলপাড় হয়ে চলেছে রাজ্য । ঠিক সেই সময়ে দাঁড়িয়ে শিক্ষকের অভাবে স্কুলে তালা ঝুলতে দেখা গেল । ডোমজুড় ব্লকের অন্তর্ভুক্ত মাকড়দহ ২ নম্বর পঞ্চায়েত এলাকায় পায়রাটুঙ্গী গ্রামের নামেই পায়রাটুঙ্গী মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে দেখাগেল স্কুলের দরজায় তালা ঝুলছে।

কেন স্কুল বন্ধ স্কুল? কারণ খুঁজতে গ্রামে ঘুরতেই বেরিয়ে এল ঝুলি থেকে বিড়াল । শোনা গেল বেশ কিছুদিন হল এই স্কুলে তালা পড়েছে কেবল মাত্র শিক্ষকের অভাবে । গ্রামবাসীরা জানালেন পায়রাটুঙ্গী মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্রে তালা ঝুলতে দেখে কষ্টে চোখে জল আসছে তাঁদের । অভিভাবক, শেখ আহমেদ আলি বলেন, “স্কুল ভালই চলত । গ্রামের প্রায় ৩০০ ছাত্র ছিল এই স্কুলে । গ্রামবাসীর স্বার্থে বহু কষ্টে তৈরি করা হয়েছিল এই স্কুল । এখন দেখলে কষ্টে চোখে জল আসছে” ।

আরও এক অভিভাবক নাসিম মোল্লা বলেন, “ঠিকঠাক চলছিল স্কুলটি । ছাত্র সংখ্যায় নেহাত কম ছিল না । ৬ জন শিক্ষক শিক্ষিকা ছিলেন । ২০১৮ সালের পর থেকে শিক্ষক শিক্ষিকার সংখ্যা কমতে কমতে শেষে ১ জন শিক্ষিকায় ঠেকেছিল । নতুন করে কোন শিক্ষক নিয়োগ করা হয়নি সেখানে” । জানা যায়, স্কুলের পঠন পাঠন বজায় রাখার জন্য গ্রামবাসীরা বিকল্প প্রস্তাব দিলেও নিয়মের বেড়াজালের কারণে তা সম্ভব নয় বলে জানানো হয় প্রশাসনিক স্তর থেকে । পঞ্চায়েত থেকে ধাপে ধাপে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে জানানোর পরে শেষে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীর কাছেও এবিষয়ে জানানো হয়েছে বলে তাঁর দাবি । তবে কতটা কী সুরাহা হবে তা এখন অজানা ।

জমিদাতা পরিবারের সদস্য এবং গ্রামবাসী দাউদ মোল্লা জানান, “গ্রামের ছেলে মেয়েরা পড়বে বলে জমি দেওয়া হয়েছিল । কিন্তু শিক্ষকের অভাবে সেখানে পঠন পাঠন বন্ধ হয়ে যাওয়া খুবই বেদনা দায়ক” । তাঁর দাবি পুনরায় স্কুল চালু করা হোক । সেই স্কুলেরই ছাত্র তাজ মহম্মদ জানান শিক্ষক, শিক্ষিকা নেই বলে স্কুল থেকে টি সি দিয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁদের । এখন গ্রামের বাইরে বলুহাটি এলাকায় স্কুলে ভর্তি হতে হয়েছে তাঁকে ।

প্রসঙ্গত, সকলের জন্য শিক্ষা এই স্লোগানকে সামনে রেখে গ্রামে গ্রামে শিক্ষার প্রসার ঘটাতে পঞ্চায়েত এলাকায় গড়ে তোলা হয় SSK (শিশু শিক্ষাকেন্দ্র)এবং MSK (মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্র)গুলি। ১৯৯৭ সাল থেকে SSK গুলিতে প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণী এবং ২০০৩ সাল থেকে MSK গুলিতে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্য্যন্ত পঠন পাঠনের ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয় এবং চালু হয়।

হাওড়া জেলা MSK দপ্তর সূত্রে জানা যায়, কোন অঞ্চল থেকে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের যেসকল আপার প্রাইমারি বিদ্যালয়ের দূরত্ব তিন কিলোমিটার বা তার বেশি, সেক্ষেত্রে গ্রামের ছেলে মেয়েদের সুবিধার্থে সেই অঞ্চলের মধ্যে এই MSK স্কুল গড়া হয় । ২০১৪ সালে তৎকালীন পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখার্জির আমলে একটি নির্দেশিকা অনুযায়ী কোন ব্যক্তিগত জমি বা বিল্ডিংয়ে এই প্রতিষ্ঠান থাকবে না । তারপর থেকে সরকারি হস্তক্ষেপে এই স্কুলগুলি সরকারি আওতায় আনা হয় । জেলায় MSK স্কুল আছে ২৭ টি । প্রত্যেক স্কুলে ৬ টি বিষয়ের জন্য ৬ জন করে শিক্ষক বা শিক্ষিকা থাকার কথা । জেলা দপ্তর সুত্রে জনা গেছে ২৭ টি স্কুলে বর্তমানে ৮৪ জন শিক্ষক শিক্ষিকা আছেন ।

দফতর সূত্রে আরও জানা যায়, পঞ্চায়েতের দায়িত্বে চলছিল স্কুলগুলি । ২০২০ সালের গোড়ার দিকে এই MSK রাজ্য শিক্ষা দপ্তরের হাতে চলে যায় অর্থাৎ বর্তমানে এগুলি সরাসরি রাজ্য সরকারের শিক্ষা দপ্তরের আওতাভুক্ত । সুতরাং স্বাভাবিকভাবেই এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভালো মন্দ, চালু রাখা বা বন্ধ করে দেওয়া বা বিকল্প কোন পরিকল্পনার যাবতীয় দায় এবং দায়িত্ব সরকারের ওপরে বর্তায় বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল ।

এদিকে পায়রাটুঙ্গী মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্রে তালা বন্ধ প্রসঙ্গে ডোমজুড়ের বিধায়ক কল্যাণ ঘোষ জানিয়েছেন, MSK সর্বশিক্ষা অভিযানের মারফৎ চলত । এখন তা আর নেই । তাছাড়াও ছাত্র ছাত্রীর সংখ্যা কমে গেছে সেখানে । তবে তিনি বিকল্প উপায়ের জন্য শিক্ষামন্ত্রীকে জানিয়েছেন । এখন দেখার এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যত কোন দিকে যায়।

নিউজ টাইম চ্যানেলের খবরটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
Inform others ?
Share On Youtube
Show Buttons
Share On Youtube
Hide Buttons
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
Facebook
YouTube