একটা সাধারণ কাঠের চেয়ার এক মহামানবের পুণ্যস্পর্শে হয়ে ওঠে ‘অসাধারণ’ । নেতাজী স্পর্শধন্য সেই কাঠের চেয়ার আজও দেবজ্ঞানে পুজাে পায় বাঁকুড়ার এক প্রত্যন্ত গ্রামে ।
সালটা ১৯৪০, ওই বছরের ২৮ এপ্রিল, রবিবার বাঁকুড়ায় পা রাখেন নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু । জেলার গঙ্গাজলঘাটিতে এক সভায় বক্তব্য রাখেন তিনি । উদ্যোক্তাদের পক্ষে সভামঞ্চে অন্যান্য নেতাদের জন্য কাঠের সাধারণ চেয়ারের ব্যবস্থা করা হলেও নেতাজীর জন্য একটি বিশেষ সোফার ব্যবস্থা করা হয়েছিল ।
কিন্তু তিনি ওই সোফা সরিয়ে দিয়ে টেনে নিয়েছিলেন একটি কাঠের চেয়ার । ওই সভামঞ্চে নেতাজী যে চেয়ারটিতে বসেছিলেন সেই চেয়ারটি আনা হয়েছিল স্থানীয় চিকিৎসক রামরূপ কর্মকারের ওষুধের দোকান থেকে । নেতাজী সুভাষচন্দ্র সেখান থেকে ফিরে যাওয়ার পর নেতাজীর স্পর্শ পাওয়া ওই কাঠের চেয়ার নিজের মাথায় করে দেশুড়িয়া গ্রামে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান চিকিৎসক রামরূপ কর্মকার । সেই চেয়ার আজও রামরূপ বাবুর বাড়িতে ঠাকুর ঘরে সযত্নে রক্ষিত ।
সেখানে অন্যান্য দেবতার সঙ্গে ওই চেয়ারে নেতাজীর ছবি রেখে নিত্য পুজা করা হয় । গঙ্গাজলঘাটির সভা শেষে দেশুড়িয়া হয়ে বেলিয়াতোড়ের পথে রওনা দেন নেতাজী । নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু তাঁদের গ্রামের পথ দিয়ে যাবেন এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় বিড়রা গ্রামের মানুষ তাঁকে একটিবার চোখের দেখা দেখতে ও তাঁর মুখে কিছু কথা শুনতে রাস্তার দু’পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে পড়েন । কেউ কেউ আবার শুয়ে পড়েন রাস্তাতেই ।এই অবস্থায় গ্রামের বটতলায় ওই হুডখোলা গাড়ি থেকে নেমে ‘মিনিট পাঁচ-সাত’ বক্তব্য রাখেন তিনি । সেই ঘটনা নিজের চোখে দেখেন রামহরিপুর রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক ননীগোপাল রায় । তখন তাঁর বয়স ছয় ।
নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু বিড়রা গ্রামের যে জায়গায় দাঁড়িয়ে বক্তব্য রেখেছিলেন ঠিক সেই জায়গাতেও রামহরিপুর রামকৃষ্ণ মিশনের সম্পাদক স্বামী বামানন্দ মহারাজের প্রেরণায় ও গ্রামবাসীদের সম্মিলীত প্রচেষ্টায় তাঁর আবক্ষ মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে । প্রতি বছর যথাযোগ্য মর্যাদায় নেতাজী জন্ম জয়ন্তী পালন করা হয়ে থাকে সেখানে ।
- সন্দেশখালি দুর্ঘটনায় মামলা দায়ের ন্যাজাট থানায়, অভিযুক্ত ৮ - December 11, 2025
- ইন্ডিগোর সমস্যা নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী, কংগ্রেস - December 8, 2025
- সংসদে কংগ্রেসকে নিশানা নরেন্দ্র মোদীর - December 8, 2025

