গঙ্গাসাগরে পা রেখেছেন ৪৫ লক্ষ পুণ্যার্থী

ইতিমধ্যেই ৪৫ লক্ষ পুণ্যার্থী গঙ্গাসাগরে পা রেখেছেন । শনিবার এমনটাই দাবি উঠছে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে । গত ৮ই জানুয়ারি গঙ্গাসাগর মেলার উদ্বোধন করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । উদ্বোধনের পর থেকেই পুণ্যার্থীদের ঢল নেমেছে গঙ্গাসাগরের এই বেলাভূমিতে । ১৩ তারিখ অর্থাৎ শনিবার দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ৪৫ লক্ষ পণ্যার্থী গঙ্গাসাগরে পা রেখেছেন বলে দাবি দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের ।

শনিবার বিকেলে গঙ্গাসাগরের মেলা অফিসে একটি সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস সে কথাই ঘোষণা করলেন । এদিকের সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পরিষদীয় বিষয়ক দপ্তরের মন্ত্রী শোভন দেব চট্টোপাধ্যায়, রাজ্যের বিদ্যুৎ আবাসন ও যুব কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, পরিবহন দপ্তরের মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী, সেচ ও জলপথ দপ্তরের মন্ত্রী পার্থ ভৌমিক, সুন্দরবন উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী বঙ্কিম হাজরা, অগ্নি নির্বাপন ও জরুরী পরিষেবা বিষয়ক দপ্তরের মন্ত্রী সুজিত বোস ও রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন সহ দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা শাসক সমীর গুপ্তা এবং সুন্দরবন পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার কোটেশ্বর রাও ।

এদিনের সাংবাদিক বৈঠকের শুরুতেই রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস জানান ৯ই জানুয়ারি থেকে ১৭ই জানুয়ারি পর্যন্ত গঙ্গাসাগর মেলায় আগত তীর্থযাত্রীদের জন্য মাথাপিছু পাঁচ লক্ষ টাকার বীমা ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার । এই পরিষেবা সরকারি কর্মী, পুলিশ কর্মী, স্বাস্থ্যকর্মী, সাংবাদিক, পরিবহন কর্মী এবং স্বেচ্ছাসেবীদেরও এই বিমার আওতায় রাখা হয়েছে । এছাড়া কপিলমুনি আশ্রম সহ মেলা চত্বরকে সুন্দরভাবে সুসজ্জিত করে তোলা হয়েছে । নতুন করে বন্দর সংলগ্ন এলাকায় সরোবর, বিশ্রামাগার, নতুন পাকা রাস্তা, স্ট্রিটলাইট, তীর্থযাত্রী নিবাস, পানীয় জলের ব্যবস্থা ও দশ হাজারেরও বেশি শৌচালয় গড়ে তোলা হয়েছে গঙ্গাসাগর প্রাঙ্গনে ।

এবারের মেলায় পূন্যার্থীদের জন্য ২২ টি জেটি তৈরি করা হয়েছে । তীর্থযাত্রীদের চলাচলের স্বার্থে আড়াই হাজার বাস, ছটি বার্জ,৩৮ টি ভেসেল ও ১০০ টি লঞ্চের ব্যবস্থা করা হয়েছে । পাশাপাশি ঘন কুয়াশায় তীর্থযাত্রীরা যাতে নিরাপদে পারাপা করতে পারেন তার জন্য মুড়িগঙ্গা নদীতে থাকা বিদ্যুতের টাওয়ারে এবং জেটিতে শক্তিশালী কুয়াশা ভেদে আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে । প্রতিটি যানবাহন এবং ভেসেল লঞ্চকে জিপিএস ট্র্যাকিং-এর সাহায্যে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে ।

পুণ্যার্থীদের সুরক্ষার স্বার্থে ১৪ হাজারেরও বেশি পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে গঙ্গাসাগর প্রাঙ্গনে । ২৪০০ জন সিভিল ডিফেন্সের স্বেচ্ছাসেবক ও অসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তরের জল প্রহরী তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিমুহূর্তে সজাগ রয়েছেন গঙ্গাসাগর প্রাঙ্গনে । এছাড়াও যে সমস্ত পুন্যার্থী গঙ্গাসাগরে আসতে পারছেন না তাদের জন্য কপিলমুনি মন্দিরের প্রসাদ এবং পবিত্র গঙ্গাজল অনলাইন বুকিং-এর মাধ্যমে বাড়িতে বসেই যাতে তারা পেতে পারেন তার ব্যবস্থা করা হয়েছে । এবছর মকর সংক্রান্তির পুন্য স্নান রবিবার রাত্রি ১২ টা ১৩ মিনিট থেকে শুরু করে সোমবার রাত্রি ১২টা ১৩ মিনিট পর্যন্ত চলবে বলেও প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে ।

নিউজ টাইম চ্যানেলের খবরটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
Inform others ?
Share On Youtube
Show Buttons
Share On Youtube
Hide Buttons
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
Facebook
YouTube