‘কথায় রয়েছে সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবার’। রাজ্য সরকারের দৌলতে সে কথা এখন অতীত হয়ে গিয়েছে।মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তত্ত্বাবধানে অনেক পরিবর্তন ঘটেছে গঙ্গাসাগরে। একের পর এক দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে গঙ্গাসাগর মেলাতে বিশ্বের মানচিত্রে একটি শ্রেষ্ঠ মেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে বদ্ধপরিকর রাজ্য সরকার। ভারতবর্ষের দ্বিতীয় বৃহত্তম মেলা এই গঙ্গাসাগর মেলা কুম্ভ মেলার পরেই এই গঙ্গাসাগর মেলায় লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হয়।
আর মাত্র কয়েকটা দিনের অপেক্ষা। ২০২৪ সালে জানুয়ারি মাসের ৮ তারিখ থেকে শুরু হতে চলেছে গঙ্গাসাগর মেলা । এই মেলা কে কেন্দ্র করে একাধিক প্রশাসনিক বৈঠক ইতিমধ্যে সেরে ফেলা হয়েছে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে। শুক্রবার দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা আলিপুরে জেলাশাসক সুমিত গুপ্তার উপস্থিতিতে প্রশাসনিক কর্তা ব্যক্তিদের সঙ্গে একটি বৈঠক করা হয়। কার্যত বলা যেতেই পারে এই প্রশাসনিক বৈঠক গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি নিয়েই । এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার সভাধিপতি নীলিমা বিশাল মিস্ত্রি , উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলার একাধিক প্রশাসনিক আধিকারিকেরা। গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৪ কে সামনে রেখে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এদিন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাশাসক সমিত গুপ্ত একটি সাংবাদিক বৈঠক করে জানান,আগামী ৮ জানুয়ারি থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে মেলা। ১৫ ই জানুয়ারি রাত ১২ টা বেজে ১৩ মিনিট থেকে ১৬ জানুয়ারি দুপুর ১২ টা বেজে ১৩ মিনিট অবদি থাকছে পূণ্যস্নানের সময়। পুণ্যার্থীদের যাতে কোনো অসুবিধা না হয় তার জন্য, ৬০ লক্ষ জলের পাউচের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাস্তায় ফগ লাইট ব্যবহার বেশি হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পূর্ণার্থীদের সুবিদার্থে ফুড সেফটি অফিসারেরা থাকবেন। ২২৫০ সরকারি বাস, ২৫০ টি বেসরকারি বাস , ৬ টি বার্জ, ৩২ টি ভেসেল, ১০০ টি লঞ্চ, ২১ টি জেটি ব্যবহার করা হবে। কার্গো ভেসেলের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে রাজ্য সরকার। ৬৬ টা ট্রেন এক্সট্রা চলবে বলে জানিয়েছেন।কোন প্রকার দুর্ঘটনা যাতে না হয়, তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে রাজ্য সরকার। পুণ্যার্থীদের জন্য ৭ টি বড় হাসপাতাল ও ৫ টি ক্ষণস্থায়ী হাসপাতালের ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাসপাতালে থাকছে ৩০০ টি বেডের ব্যবস্থা, থাকছে এমার্জেন্সি কেয়ার ইউনিট। ২৮ জায়গায় ফাস্টেড করার জন্য চিকিৎসক সহ ১২ টি পয়েন্টে থাকবেন মেডিকেল টিম। দুর্ঘটনা ঘটলে পিজি, এন আর এস ও ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজে বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। পুণ্যার্থীদের সুবিদার্থে থাকছে ১০০ টির বেশি অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা। থাকছে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স। দুর্ঘটনা এড়াতে থাকবে ২৪০০ সিভিল ডিফেন্স ভলেন্টিয়ার্স। ভলেন্টিয়ারদের ইন্সপেকশনের জন্য ৫০ টি বাইকের ব্যবস্থা করা হয়েছে। থাকছে টেম্পোরারি ফায়ার স্টেশনে ৫০ টির বেশি দমকল ইঞ্জিন। মেলায় ১০ হাজারের বেশি টয়লেটের ব্যবস্থা করেছেন তারা। আবর্জনা পরিষ্কারের ও সমুদ্রসৈকত পরিষ্কার রাখতে ৩ হাজার ভলেন্টিয়ার্সের ব্যবস্থা। ১৪২ টি এনজিও থেকে ৬০০০ এর বেশি ভলেন্টিয়ার্স থাকবে ।পুণ্যার্থীদের সুবিদার্থে স্যাটেলাইট ট্রেকিং ও জিপিএস ট্রেকিং ব্যবস্থা করছে ইসরো। ১১৫০ টি সিসিটিভি ও ২৩ টি ড্রোন দিয়ে নজরদারি চালাবে পুলিশ। তীর্থযাত্রী ও মেলার সাথে যুক্ত সকল সরকারি ও বেসরকারি কর্মী, মিডিয়া কর্মীদের জন্য থাকছে ৫ লক্ষ টাকার ইন্সোরেন্স কভারেজ।
গতবছর ঘন কুয়াশার কারণে ভেসেল চলাচলে কিছুটা অসুবিধা হয়েছিল। সেই অসুবিধার কারণে প্রায় কয়েক ঘন্টা যাবত বিভিন্ন ভেসেল ঘাটে কয়েক লক্ষ্য পুণ্যার্থীদের অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। গত বছরের সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবছর ভেসেল গুলিতে থাকছে অ্যান্টি ফগ লাইট ও ন্যারোগেশান সাউন্ড সিস্টেম। কিভাবে কাজ করবেন ন্যারোগেশন সাউন্ড সিস্টেম সেটিও বিস্তারিত জানালেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক সুমিত গুপ্তা। তিনি বলেন, ভেসেল যাতায়াতের যে জলপথ রয়েছে সেই জলপথে বিভিন্ন ছোট ছোট নৌকাতে এই সাউন্ড সিস্টেম ও বিশেষ আলোর ব্যবস্থা করা হবে। এর মাধ্যমে ঘন কুয়াশার মধ্যেও সঠিক দিক নির্ধারণ করতে পারবে ভেসেলের চালকেরা। পুণ্যার্থীদের কোনোরকম যাতে না অসুবিধা না হয় সেদিকেও বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে। গঙ্গাসাগর মেলা প্রাঙ্গণে তৈরি করা হয়েছে মেগা কন্ট্রোলরুম। এই কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সম্পূর্ণ মেলাটি কে নজরদারির মধ্যে রাখা হবে। নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে গঙ্গাসাগর মেলা কে কেন্দ্র করে। সুষ্ঠুভাবে গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৪ কে সমাপ্তি করতে বদ্ধপরিকর জেলা প্রশাসন।
- সন্দেশখালি দুর্ঘটনায় মামলা দায়ের ন্যাজাট থানায়, অভিযুক্ত ৮ - December 11, 2025
- ইন্ডিগোর সমস্যা নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী, কংগ্রেস - December 8, 2025
- সংসদে কংগ্রেসকে নিশানা নরেন্দ্র মোদীর - December 8, 2025

