২৫শে ডিসেম্বর বড়দিনে বাঘমুন্ডির পাহাড়ের কোলে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় । ঝাড়খণ্ড সীমান্তে পশ্চিমবঙ্গের সবুজ উপত্যকা পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডীর অযোধ্যা পাহাড়। বহু কবি-সাহিত্যিকদের সৃষ্টিকর্মের আঁতুরঘর এই পাহাড়। অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমি। প্রকৃতিতে প্রাধান্য পেয়েছে জঙ্গল আর পাহাড়। গাঢ় সবুজ অরণ্য দিগন্তে প্রসারিত, নীচেও তার সবুজের সমুদ্র। লালমাটির কাঁকুড়ে মায়া মাখানো স্বপ্নময় পথ। এই দীর্ঘ সবুজ জঙ্গল আর ছোটবড় পাহাড় ঘিরেই এখানকার প্রান্তভূমির সাধারণ মানুষের জীবন-যাপনের ছন্দ।
নীল আকাশ জুড়েই সাদা মেঘের ভেলা। জঙ্গলমহলের বিভিন্ন এলাকায় শীতের আগমনে নানান ফুলের সমারোহ। এ-এক অন্যভুবন। শীতে জঙ্গলমহলের প্রকৃতি নবসাজে সজ্জিত। রাস্তার দুপাশের সবুজের সমুদ্র। কুয়াশার চাদরে ঢাকা জঙ্গলমহলের সকাল বেশ আকর্ষণীয়। পূবদিকে সূর্যদেব কাঁচাসোনা রঙ ছড়িয়ে উঁকি দিতে শুরু করেছে। এক মায়ামাখানো পরিবেশ। শুধু মুগ্ধতার পরশ।
বাঘমুন্ডি ব্লকের ভূমিরূপ পাথুরে আর ঢালু। অযোধ্যা পাহাড় ও সংরক্ষিত বনাঞ্চলের অতিনিকটে এটি অবস্থিত। পর্যটকেরা অযোধ্যা ভ্রমণকালে বাঘমুন্ডিতে রাত্রিযাপনের সুবিধা ভোগ করেন। এই মুহূর্তে আধুনিক সুযোগ সুবিধাযুক্ত বেশ কয়েকটি রিসোর্ট বাগমুন্ডিতে আছে।
শীতের রোদে কুয়াশামাখা পাহাড় চূড়ার মনোমুগ্ধকর সারি। পাদদেশ থেকে তাকালে গুর্গাবুরু, মাঠাবুরু, গজাবুরু, ফুলডংরি, লাহাডুংরু, এই রকম বিভিন্ন নামের চূড়া দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। পাহাড়ের গায়ের অসংখ্য গাছের বাহারে মুগ্ধ হতে বাধ্য। শাল, সেগুন, পলাশ, পিয়াল আমলকি, বয়ড়া হরিতকি গাছের আধিক্য। বাঘমুন্ডির চারিদিক জুড়েই আছে বিভিন্ন নামের ঝরনা। এদের নাম বিচিত্র- সামরিক, ল্যাকড়াগড়া, মাচকাঁদা, কাডরুগাড়া। সৌভাগ্যবশত চোখে পড়তে পারে শেয়াল, সজারু, ভালু,খরগোশ, বনমোরগ, ধনেশ ছাড়াও দলমা থেকে নেমে আসা হাতির পাল।
পাহাড়ের মাথায় বসে দেখা যায় ছোট ছোট সবুজ মায়ামাখানো স্বপ্নের গ্রাম, পুকুর, চাষের বিস্তীর্ণ ক্ষেত, বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠ, আর অসংখ্য কাঁচ-পাকা বাড়ি। যৌবনবতী শৈলশ্রেনীর সঙ্গে মায়াজাগানো শ্যামল অরণ্যের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য বহুদিন অমলিন হয়ে থাকবে। বাগমুন্ডির পাহাড়ের সবুজ জঙ্গল আর মাথা উঁচু করে সুনীল আকাশে বিচরণ করা পাহাড়চূড়া দেখে মুগ্ধ বিস্ময়ে বাগমুন্ডির বনবাংলোর নাম রেখেছিলেন–বনজ্যোস্না। আজও বনজ্যোস্না ভ্রমণ পিপাসুদের স্বর্গরাজ্য। পাহাড়ের ঝর্ণায় সুসজ্জিত বাগমুন্ডির পাহাড়চিত্র পর্যটকদের বিস্মিত করে। খুব কাছে আছে ছৌ-সম্রাট গম্ভীর শিং মুড়ার নামে ছৌ-নৃত্য আকাদেমি।অন্যদিকে অবস্থিত ভারতসেবাশ্রম সংঘের মন্দির। যোগিনী পাহাড়ের অবস্থান এই বাগমুন্ডিতে। বাগমুন্ডির শহরে আধুনিকতার ছাপ । বহু হোটেল ও রিসোর্ট তৈরি হচ্ছে।পর্যটকদের আকর্ষণ এখানকার প্রান্তভূমির প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বপ্নের শিল্প ছৌনাচের আঁতুরঘর চড়িদা। এখানে রাস্তার দুপাশে রয়েছে মুখোশের দোকান। পর্যটন নুতন জোয়ার আনছে। শীতকালে ভ্রমণকারীদের দল বাগমুন্ডির পাহাড়ে ছুটে আসেন বনভোজনের জন্য।
- সন্দেশখালি দুর্ঘটনায় মামলা দায়ের ন্যাজাট থানায়, অভিযুক্ত ৮ - December 11, 2025
- ইন্ডিগোর সমস্যা নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী, কংগ্রেস - December 8, 2025
- সংসদে কংগ্রেসকে নিশানা নরেন্দ্র মোদীর - December 8, 2025

