কেক তৈরি করে স্বনির্ভর তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী

নিত্য নতুন রান্না করে বন্ধুদের খাওয়ানোর সখ ছিল তাঁর । অজান্তেই সেই সখ পরিণত হয়েছে ব্যবসায় । কেক বিক্রি করে স্বনির্ভর হলেন তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী । উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁর দীনবন্ধু নগরের মৌসুমি দে পড়াশোনার পাশাপাশি তৈরি করছেন রকমারি কেক ।

নিত্য নতুন রান্না করে বন্ধুদের খাওয়াতে ভালোবাসেন তিনি । নিজের অজান্তে সেই সখ পরিনত হয়ে গিয়েছে ব্যবসায় । কেক বিক্রি করে আজ স্বনির্ভর উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁর দীনবন্ধু নগরের মৌসুমি দে । মৌসুমী তৃতীয়বর্ষের পড়ুয়া । মুক্ত বিদ্যালয় থেকে ভূগোলে অনার্স করছেন । পড়াশোনার পাশাপাশি বাড়িতে ঘরোয়া পদ্ধতিতে রকমারি কেক তৈরি করছেন তিনি । বড় দিনের আগে বরাদও নিহাত কম পাননি তিনি ।

মৌসুমী জানান, পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের রান্না করে পরিবারের সকলকে ও বন্ধুদের খাওয়াতে ভালো লাগে তাঁর । লকডাউনে ঘরবন্দি থাকা অবস্থায় কেক তৈরি করার ইচ্ছে হয় তাঁর । লোকমুখে শুনে বাড়িতে কেক তৈরি করতে শুরু করেছিলেন । প্রথমদিকে মনের মত না হলেও ধীরে ধীরে পরিপূর্ণতা আসে । আধুনিক মানের কেক তৈরি করার সেই সময় তিন দিনের প্রশিক্ষণ নিয়েছিল মৌসুমী । ব্যবসা করবেন বলে তাঁর কোন ইচ্ছা ছিল না । প্রশিক্ষণ শেষে বাড়ির অনুষ্ঠান, বন্ধুদের জন্মদিনে কেক উপহার দিতেন । যা সকলের কাছে প্রিয় হয়ে ওঠে । হঠাৎ একদিন তাঁর এক বন্ধু জন্মদিনের কেক তৈরি করার বরাদ দেন মৌসুমিকে । সেই কেক তৈরি করে প্রশংসাও পান মৌসুমী । তারপর থেকে ছোটখাটো বরাত আসতে শুরু করে । চাহিদা মত কেক তৈরি করতে শুরু করেন মৌসুমী ।

মৌসুমির কথায়, বন্ধুদের আবদারে কেক তৈরি করে দিতে দিতে কখন যে তার কেকের ব্যবসা শুরু হয় তিনি নিজেও বুঝে উঠতে পারেননি । আজ নিয়মিত কেক তৈরির বরাত আসে বাড়িতে। বড় দিন উপলক্ষে বহু মানুষ তাকে কেক তৈরির বরাত দিয়েছে । রাত দিন এক করে কেক তৈরির করে চলেছেন মৌসুমী ।

মেয়ের কাজের চাপ দেখে তাঁকে মাঝে মধ্যে সহযোগীতা করেন মৌসুমীর মা মীনাক্ষী দে । তিনি বলেন, ‘মেয়ে রান্না করতে ভালোবাসে । সেই হিসাবে কেক তৈরি করা শেখা । আমরা চেয়েছিলাম মেয়ে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে চাকরি করুক। কিন্তু এখন দেখি এই ব্যবসার দিকে ওর মনযোগ বেশি। পড়াশোনার পাশাপাশি কেক তৈরির করে বিক্রি করছে । সেই কারনে আমরাও বাঁধা দিই না’।

মৌসুমীর এক বন্ধু দেবজ্যোতি উপাধ্যায় বলেন, মৌসুমী রান্না করে আমাদের খাওয়াতে ভালোবাসে। বহুবার পোড়া কেক খাইয়েছে । এখন ওর কাছ থেকে কিনে খেতে হয় । আমাদের খুব ভালো লাগে ওর সখকে ও পেশা করতে পেরেছে ।

নিউজ টাইম চ্যানেলের খবরটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
Inform others ?
Share On Youtube
Show Buttons
Share On Youtube
Hide Buttons
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
Facebook
YouTube