আবার সমুদ্রে পাড়ি দেবেন মৎস্যজীবীরা

৬১ দিন বন্ধ থাকার পর আগামীকাল ১৫ ই জুন থেকে শুরু হচ্ছে সামুদ্রিক মৎস্য শিকার । শেষ মুহূর্তে জোর কদমে চলছে তারই প্রস্তুতি । জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নোনা জলের ফসল তুলতে পেশার তাগিদে মৎস্যজীবীরা রওনা দেবেন গভীর সমুদ্রে । তবে, মন তাদের থাকছে পঞ্চায়েত ভোটে । গণতন্ত্রের উৎসবে সামিল হতে চাইছেন সব মৎস্যজীবীরা । 

এপ্রিলের ১৫ তারিখ থেকে জুনের ১৫ তারিখ দু’মাস বন্ধ থাকে সামুদ্রিক মৎস্য শিকার । এই দুই মাস সামুদ্রিক মাছের প্রজনন কাল । ১৫ই জুনের পর শংকরপুর, পেটুয়াঘাট, শৌলা সহ পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন মৎস্য বন্দর থেকে একে একে ট্রলার পাড়ি দেবে গভীর সমুদ্রে । ছোট বড় নৌকা ও ট্রলার মিলিয়ে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় সমুদ্রে মৎস্য শিকারে যায় সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার নৌকা । যার মধ্যে বড় ট্রলার প্রায় দেড় হাজার ।

সরকারি অনুমতিপত্র মিললেই ধীরে ধীরে নৌকাগুলি পাড়ি দেবে সমুদ্রে । তারপর কখনও সাত ঘন্টা, কখনও দশ ঘন্টা, সমুদ্র পথ পেরোনোর পর ফেলা হবে জাল । তারপর সমুদ্রের ফসলে ভরে উঠবে ট্রলারের পেট । এভাবেই উত্তাল সমুদ্রের বুক থেকে মৎস্যজীবীরা আমাদের জন্য আহরণ করে আনবেন ইলিশ, পমফ্রেট, ভোলা, চিংড়ি, পার্শে সহ বহু রকম সামুদ্রিক মাছ ।

মাছ নিয়ে ফিরে আসবেন কখনও চার দিনে, কখনও বা সাত দিনে । সমুদ্রে রওনা দেওয়ার আগে মাছ ধরার জাল, মাছ সংরক্ষণ করার বরফ, ট্রলারের তেল, নিজেদের খাওয়ার চাল, রান্নার গ্যাস সহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে নিচ্ছেন তারা ।

মৎস্যজীবীরা গভীর সমুদ্রে যাচ্ছেন ‘পেটের দায়’ নিয়ে । তবে, এবার যেহেতু পঞ্চায়েত ভোট রয়েছে, তাই তারাও চাইছেন গণতন্ত্রের এই উৎসবের অংশগ্রহণ করতে । কিন্তু তা নির্ভর করছে ট্রলারের মালিকদের অনুমতির উপর ।

সামুদ্রিক ঝড়-ঝঞ্ঝা সহ বিভিন্ন কারণে জীবনের ঝুঁকি থাকে সামুদ্রিক মৎস্যজীবীদের । তাই মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তার জন্য ট্রলারে থাকছে লাইফ জ্যাকেট । এছাড়াও অগ্নি নির্বাপন যন্ত্র, ঔষধপত্র, রেডিও সহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি সাথে নিয়েছেন তাঁরা । সামুদ্রিক মৎস্যজীবীদের জন্য বিভিন্ন রকম বীমার ব্যবস্থা রয়েছে রাজ্য সরকার ও কেন্দ্র সরকারের তরফ থেকে । তেমনই তাঁদের জন্য বীমার ব্যবস্থা করেছেন ট্রলার মালিকরাও ।

সামুদ্রিক মাছের প্রজননের জন্য মৎস্য শিকার বন্ধ ছিল ৬১ দিন । সেই সময়ে ট্রলার রং করা, মেশিনের কাজকর্ম সেরে ফেলেছেন ট্রলার মালিকরা । সরকারি অনুমোদন পেলেই আগামী কাল থেকে ট্রলার সব পাড়ি দেবে গভীর সমুদ্রে।   আর, পঞ্চায়েত ভোটের প্রসঙ্গ উঠতেই এক ট্রলার মালিকদের সাফ কথা, অবশ্যই সব মৎস্যজীবীরা অংশগ্রহণ করবেন পঞ্চায়েতের এই ভোট প্রক্রিয়ায় । ভোটের আগেই তারা ফিরে আসবেন গভীর সমুদ্র থেকে এবং পৌঁছে যাবেন যে যার বাড়ি । ভোট দেবেন সকলেই ।

নিউজ টাইম চ্যানেলের খবরটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
Inform others ?
Share On Youtube
Show Buttons
Share On Youtube
Hide Buttons
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
Facebook
YouTube