তীব্র গরম। দক্ষিণবঙ্গের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বারছে উত্তরের তাপমাত্রার পারদ। উত্তরবঙ্গের প্রায় সবকটি জেলাতেই আগামী কয়েকদিন তুমুল দাবদাহের পূর্বাভাস। তাপ প্রবাহের ছবিটা দক্ষিণবঙ্গের মতোই উত্তরবঙ্গেও একই। তাপমাত্রা পারদ প্রায় ৪০ ডিগ্রি ছুঁই ছুঁই। সঙ্গে বইছে গরম হাওয়। গরমে নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে সমগ্র রাজ্যবাসীর। রেহাই পেতে একপ্রকার গৃহবন্দি হয়েছেন সাধারণ মানুষ। আবহাওয়ার এই খামখেয়ালিপনায় ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কায় করছে চা শিল্প মহল।
যদিও এপ্রিল মাসে প্রতি বছরই কলকাতার পারদ থাকে চল্লিশের কাছাকাছি কিন্তু উত্তরবঙ্গের ছবিটা থাকে একেবারেই আলাদা ছিল। প্রতিবছরই এই সময় উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে নিয়মিত বৃষ্টিপাত হওয়ার দরুন এর পূর্বে তাপমাত্রা কখনোই ৩০ পার করেনি। কিন্তু এবছর ঠিক তার উল্টো চিত্র। একদিকে তীব্র দহন, রাতের ও দিনের তাপমাত্রায় ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের পার্থক্যে চায়ের সেকেন্ড ফ্লাসের উৎপাদনে ব্যপক ঘাটতির আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন উত্তরবঙ্গের চা শিল্প মহল। দিন ও রাতের তাপমাত্রার ওই তারতম্যের কারনে সিংহভাগ চা বাগানে স্কর্চিং দেখা দিয়েছে। ওই রোগে আক্রান্ত হয়ে চা গাছের পাতা হলুদ হয়ে গিয়ে নেতিয়ে পড়ছে। বাড়তি খরচ করে, কৃত্রিম জলসেচ করেও স্কর্চিং আটকানো সম্ভব হচ্ছে না। তীব্র গরমের সুুযোগ নিয়ে লুপার পোকা ও রেডস্পাইডারের দল একরাতেই সর্বনাশ করে দিচ্ছে হেক্টরের পর হেক্টর চা গাছের। উত্তরবঙ্গের তরাই ও ডুয়ার্সের প্রায় ২০০ টি বাগানের একই ছবি।
দু’সপ্তাহ ধরে টানা তাপপ্রাহের ফলে চা পাতা উৎপাদন প্রায় বন্ধ হতে বসেছে। চা বাগান মালিক থেকে শুরু করে শ্রমিক সকলেই রয়েছে বৃষ্টির অপেক্ষায়। কারণ, বৃষ্টি না হলে এবং এই তাপপ্রবাহ কিছুটা না কমলে এই চায়ের ফলন একেবারেই বন্ধ হয়ে যেতে পারে । এক কথায় বলা যেতেই পারে, বর্তমানে উত্তরের এই চা শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে আবহাওয়ার পরিবর্তনের ওপর।
- সন্দেশখালি দুর্ঘটনায় মামলা দায়ের ন্যাজাট থানায়, অভিযুক্ত ৮ - December 11, 2025
- ইন্ডিগোর সমস্যা নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী, কংগ্রেস - December 8, 2025
- সংসদে কংগ্রেসকে নিশানা নরেন্দ্র মোদীর - December 8, 2025

