নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক :
মঙ্গলবার, আশিতে পা দিলেন বলিউডের শাহেনশা। অমিতাভ বচ্চন’কে
আজকাল ‘নাম তো সুনাহি হোগা’ বলতে হয় না। আট থেকে আশি একডাকে চেনে বিগ বচ্চনকে।প্রায়
৫০ বছর হয়ে গেল তিনি বলিউডের প্রথম সারিতে সমস্ত আলো নিয়ে বসে রয়েছেন। অ্যাঙ্গরি ইয়াং
ম্যান কিংবা শাহেনশার মতো আইকনিক চরিত্র থেকে বেরিয়ে এসে নিজেকে প্রতি পদে ভেঙেছেন,
গড়েছেন। সৃষ্টি করেছেন নতুন চরিত্র। বয়স বাড়লেও অদম্য মনের জোর নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা
চালিয়ে গিয়েছেন নিজের অভিনয় সত্বা নিয়ে।
গতকাল গভীর রাতে, বিগ-বি’র বাড়ি ‘জলসার’ সামনে ভিড় জমিয়েছিলেন
অগুন্তি ভক্তরা। চিরাচরিত ভঙ্গিতে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে এসে ভক্তদের অভিবাদন ও ভালোবাসা
ছুঁড়ে দেন তিনি। তবে এই জলসার মূল কেন্দ্রবিন্দু হওয়া তেমন সহজ ছিল না।
একসময় কলকাতার বুকেই কাজ করতেন অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন। তবে স্বপ্ন
দেখতেন, বায়োস্কোপের হিরো হবেন। শুরুতে বলিউডে একটা সুযোগ পেতে অনেক কাঠ-খড় পোড়াতে
হয়েছে তাঁকে। যে বিগ-বি’র উচ্চতার জন্য এত প্রশংসা পেয়ে থাকেন, একসময় সেই উচ্চতার জন্যই
তাঁকে চরিত্র দিতে চাইনি প্রযোজকরা। এমনকি অল ইন্ডিয়া রেডিও তাঁকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।
প্রবল অর্থকষ্টে-মানসিক যন্ত্রনায় এক প্রকার ভেঙে পড়েছিলেন তিনি।
ভেবেছিলেন, দেওয়ালে বুঝি পিঠ ঠেকে গিয়েছে।যখন এক প্রকার আশা
ছেড়ে দিয়েছেন, তখনই তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় ‘সাত হিন্দুস্তানি’। প্রথম ছবিতে অভিনয়
করেই জাতীয় পুরষ্কার পান তিনি। প্রথম সিনেমায় জাতীয় পুরস্কার পেলে সাধারণত জীবনযাত্রা
সহজ হয়ে যায় অনেক অভিনেতার। তবে ভাগ্য বারবার পরীক্ষা নিয়েছে তার। ‘সাত হিন্দুস্তানি’
জনপ্রিয়তা পাওয়ার পরও অন্য চরিত্র পেতে প্রায় ২ বছর পরিশ্রম করতে হয় তাঁকে। এরপর হাতে
আসে ‘আনন্দ’,’জনজির’। এই দুটি সিনেমা অমিতাভ বচ্চনের জীবন বদলে দেয়। একেবারে মাটির
তাল থেকে নিজের মূর্তি নিজেই তৈরী করেছেন তিনি।‘পা’ থেকে ‘পিকু’ আজও সেই অধ্যাবসায়
আজও অব্যহত।