ক্রমশই সুস্থতার আশা কমছে সৌমিত্রের! তবে হাল ছাড়ছেন না চিকিৎসকেরা

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : বয়স তাঁর ৮৫। শরীরে রয়ে গিয়েছে পুরাতন ক্যানসারের ব্যাধি। সঙ্গে তাঁর শরীরে অনুপ্রবেশ ঘটেছে কোভিডের। তাই সেরে উঠতে গিয়েও সেরে উঠতে পারছেন না বাঙালির ফেলুদা। আর এখন সব রকমের চেষ্টা চালিয়েও যখন অবস্থার বিশেষ কোনও উন্নতি দেখতে পাচ্ছেন না চিকিৎসকেরা তখন অনেকেই মনে করছেন যত বেশি সময় সৌমিত্রবাবু হাসপাতালে থাকবেন ততই তাঁর পুরোপুরি সেরে ওঠবার সম্ভবানা কমে আসবে। তবে এখনই হাল ছাড়তে নারাজ চিকিৎসকেরা। এদিন থেকে তাঁর নতুন থেরাপি শুরু হচ্ছে মূলত স্নায়নিক সমস্যা কাটিয়ে তোলার জন্য। এখন দেখার বিষয় এই থেরাপিতে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের শরীর কতখানি সাড়া দেয়।

বেলভিউ হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রবীণ অভিনেতার অবস্থা এখনও সংকটজনক হয়েই রয়ে গিয়েছে। তবে তাঁর হার্ট ঠিকভাবে কাজ করছে। ডায়ালিসিসের পর ধীরে ধীরে কিডনি দুটি ফের কাজ করা শুরু করেছে। শরীরে অ্যান্টি-বায়োটিকগুলি সঠিক ভাবেই কাজ করছে। সেই কারণে শুক্রবার সৌমিত্রবাবুর তৃতীয়বার ডায়ালিসেস করানো হয়নি। আজ নেফ্রোলজিস্টদের বোর্ড মিলিত হয়ে সিদ্ধান্ত নেবে তাঁর ফের ডায়ালিসিস করা হবে কিনা। এদিন থেকেই তাঁর চিকিৎসাপদ্ধতিতে বদল আনা হচ্ছে মূলত স্নায়বিক পরিস্থিতির উন্নতি ঘটান ওর জন্য। এই বিষয়ে সৌমিত্রবাবুর চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান চিকিত্সক অরিন্দম কর জানিয়েছেন, ‘হাসপাতালের আইসিইউতে দীর্ঘদিন থাকা এবং চিকিত্সাজনিত হস্তক্ষেপ ওঁনার শরীরের উপর একটা কঠিন প্রতিক্রিয়া তৈরি করছে। সবরকম চেষ্টা সত্ত্বেও প্রত্যেকটা চলে যাওয়া দিনের সঙ্গে ওঁনার সুস্থ হয়ে ওঠবার চান্স কমে যাচ্ছে। আমরা আমাদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করছি। দেখা যাক। গত সোমবার থেকে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রয়েছেন সৌমিত্রবাবু। শনিবার থেকে আমরা নতুন স্ট্র্যাটেজি তৈরি করে ওঁনার স্নায়বিক সমস্যার উন্নতি ঘটানোর চেষ্টা করব। এনসেফ্যালোপ্যাথির সমস্যা কাটানোর জন্য আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি।’
 
সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের আরোগ্য কামনা করে গত ২৬ দিন ধরে প্রার্থনা করছেন তাঁর অনুরাগীরা। ১৫ জন সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল সময়ের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন বর্ষীয়ান অভিনেতাকে সুস্থ করে তুলতে। তাবে তাঁদের আশঙ্ক্ষা যত বেশি সময় সৌমিত্রবাবু হাসপাতালে থাকবেন ততই তাঁর পুরোপুরি সেরে ওঠবার সম্ভবানা কমে আসবে। এদিনও সকালে সৌমিত্রবাবুকে দেখতে আসেন তাঁর পরিজনেরা। এদিন তাঁর নতুন করে জ্বর আসেনি তাঁর। হার্টরেটও ভালো। রক্তচাপও নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু গ্লাসগো কোমা স্কেল ১০ হয়ে গিয়েছে। কিডনি সচল হওয়ায় দেহে  ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিন স্বাভাবিক। এখন সবাই চাইছেন সৌমিত্রবাবুর দ্রুত আরাগ্য। যদিও সেখানেই কার্যত আশার কোনও আলো দেখতে পাচ্ছেন না চিকিৎসকেরা।

Inform others ?
Share On Youtube
Show Buttons
Share On Youtube
Hide Buttons
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
Facebook
YouTube