মনের জোরের কাছে হার মানল প্রতিবন্ধকতা!

স্বপ্নকে সফল করার ইচ্ছে আর অদম্য মনের জোর । এই দুই থাকলে কোন প্রতিবন্ধকতাই যে বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না তা যেন বারেবারে প্রমাণিত হচ্ছে । তার নজির দক্ষিণ দিনাজপুরের কামারপাড়ার দেড় ফুট উচ্চতার বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন পায়েল ।

পায়েলের কৃতিত্বে রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে উঠেছে গোটা এলাকা । জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধকতার সাথে লড়াই তাঁর । সোজা হয়ে দাঁড়ানো তো দূর পিঠ সোজা করে বসে থাকতেও পারে না । শীর্ন লিকলিকে দুই হাতে লেখালেখি ও অতি-হালকা কাজ ছাড়া কিছুই করে উঠতে পারে না সে । কোথাও যাতায়াত করতে হলে মায়ের কোলই একমাত্র মাধ্যম। এমনকি স্কুলে যাতায়াতও মায়ের কোলেই । অভাবী ঘরের অসাধারণ প্রতিভাধর এমন মেয়ের ভবিষ্যৎ স্বপ্ন পূরণ করা নিয়ে চিন্তায় পড়ে পরিবার ।

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাঁর উচ্চাশাকে হার মানাতে পারেনি । এবারের উচ্চ মাধ্যমিকে পায়েল পাল ৪৬০ পেয়ে তাঁর সহপাঠী, শিক্ষক, প্রতিবেশী এবং আত্মীয় স্বজনদের নয়নের মনি হয়ে উঠেছে । দক্ষিণ দিনাজপুরের কামারপাড়ার পালপাড়ায় বাড়ি পায়েলের । জন্ম থেকেই শারীরিক নানান সমস্যায় ভুগতে হয় তাঁকে । অন্যান্য বাচ্চাদের মতো সে বেড়ে উঠতে পারেনি । বুঁকের নিচ থেকে পা সবই অসার ।

বাদামাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী পায়েল পাল এবারের উচ্চ মাধ্যমিকে ৪৬০ নম্বর পেয়েছে । পায়েলের প্রথম স্বপ্ন সে আরও পড়াশোনা চালিয়ে ভবিষ্যতে শিক্ষিকা হবে । কিন্তু শারীরিক প্রতিবন্ধকতায় সে যে আর দশজনের মতো এক কক্ষ থেকে আরেক কক্ষে যাতায়াত করতে পারবে না । তাই সে শিক্ষিকা হওয়ার স্বপ্ন ছেড়ে আগামীতে ব্যাংক অফিসার হতে চায় ।

পায়েলের পিতা দিগেন পাল পেশায় সামান্য দর্জি । দোকানে সেলাই মেশিনে জামাকাপড় সেলাই ও পোশাক বিক্রি করে যা রোজগার তাই দিয়েই এক ছেলে এক মেয়ের লেখাপড়া চিকিৎসাপত্র ও নুন ভাতের সংস্থান করেন । জন্মের পর থেকে শারীরিক ভাবে অক্ষম কন্যাকে স্বাভাবিক করে তুলতে কলকাতা চেন্নাই বিভিন্ন এলাকার হাসপাতালে ছুটে বেড়িয়েছেন। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন হলেও ছোট থেকেই পড়াশুনার প্রতি পায়েলের অদম্য ঝোক বলে পরিবারের লোকেরা জানিয়েছেন।

নিউজ টাইম চ্যানেলের খবরটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
Inform others ?
Share On Youtube
Show Buttons
Share On Youtube
Hide Buttons
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
Facebook
YouTube