রাস্তা নেই, নেই পানীয় জলের ব্যবস্থাটুকুও! গ্রাম জুড়ে শুধুই রাজনৈতিক তরজা

“আচ্ছে দিন” এখানে এসে পথ ভুলে গিয়েছে ৷ আর নীল সাদার উন্নয়ন কোথায় যে হয়েছে নিরুদ্দেশ ! স্বাধীনতার ৭৬ বর্ষে দাঁড়িয়ে আজও গ্রামে নেই রাস্তা । নেই পানীয় জলের ব্যবস্থাটুকু । বাধ্য হয়ে নদীর জল পান করেন পুরুলিয়া জেলার কুমারডি টোলার বাসিন্দারা । গ্রামের অনুন্নয়নকে ঘিরে বিজেপি-তৃণমূলের তরজা তুঙ্গে । ঘটনাটি ঝালদা থানার মাঠারী খামার গ্রাম পঞ্চায়েতের পাঁড়রী গ্রামের কুমারডি টোলার।

এলাকাবাসীর মুখে শোনা গেল গ্রামের নাম সিংহীর বন । সামনে লোকসভা নির্বাচন । তবে গ্রামবাসীরা প্রায় কেউই জানেন না যে তাঁদের সাংসদ কে? এলাকা থেকে জিতে বিধানসভায় তাঁদের হয়ে কোন তৃণমূলের বিধায়ক প্রশ্ন তোলার দায়িত্ব পেয়েছেন তাও গ্রামবাসীদের অজানা ।

তবে হ্যাঁ, দেশের প্রধানমন্ত্রীর নাম যে নরেন্দ্র মোদি সেটুকু জানেন বাসিন্দারা । জানেন তাঁদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । এই জ্ঞানটুকু সম্বল করে ফের ভোটের মুখে সিংহীর বন গ্রামের মানুষ । গ্রামের ওই পাড়ায় প্রায় আটটি পরিবারের বসবাস । প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে এখানে বসবাস করছেন তারা । সেই শুরু থেকে
তারা নদীর ধারে দাঁড়িয়ে পানীয় জল সংগ্রহ করেন ।

তবে শুধু পানীয় জলের সমস্যাই নয়, গ্রামে ঢোকার জন্য কোন রাস্তাও নেই । ফলে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে বা সন্তান সম্ভবা মহিলাদের ডুলিতে করে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে পাকা রাস্তা পর্যন্ত নিয়ে যেতে হয় । সেখানে দাঁড়িয়ে থাকে অ্যাম্বুল্যান্স । গ্রামে ঢোকার উপায় নেই তার ।

তবে কি চির বঞ্চনার ঘেরাটোপেই থাকবে সিংহীরবন গ্রাম? না, তা কেন? গ্রামের বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, সরকারের ঘর থেকে রেশনের চাল গম পেয়ে যান তারা । সামান্য চাষ আবাদ আছে তাঁদের। সংসার কোনরকদে চলে যায় ।

তাদের দাবি, লোকসভা নির্বাচনে যেই জয়ী হোক যেন তাদের এই মরণ মুশকিল সমস্যার সমাধান করেন । গ্রাম ঘিরে রয়েছে বন দপ্তরের জমি । সেই জমির পাট্টা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক জনগণের জন্য, এমনই দাবি তুলেছেন তারা ।

এই বিষয়ে পুরুলিয়া লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী তথা বিদায়ী সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো জানান, ‘বর্তমান রাজ্য সরকার ইচ্ছাকৃত ভাবে বিরোধীদের কাজ করতে দিচ্ছে না । কেন্দ্রের “জল জীবন মিশন”-এর কাজ হচ্ছে না এলাকায় । তাই এই সমস্যা রয়ে গিয়েছে । জেলার মানুষ এই বঞ্চনার জবাব নির্বাচনে দেবেন’ ।

অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী শান্তিরাম মাহাতোর দাবি, ‘জল জীবন মিশন কেন্দ্রীয় প্রকল্প । বিষয়টি সাংসদ সাহেবের দেখা উচিত ছিল । তিনি দেখেননি বলে এই সমস্যা রয়ে গিয়েছে’ । বহু গ্রামে যে এখনও সরকারি ভাবে রাস্তা নেই, সে বিষয়টি স্বীকার করেছেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ । তিনি বলেন, ‘বিষয়গুলি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি’।

অন্যদিকে মাঠারী খামার গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান মাধুরী সিং মুড়া জানান, ‘কুমারডি টোলা বস্তিটি বন দপ্তরের জমির উপর থাকায় পঞ্চায়েত থেকে কাজ করতে সমস্যা হয় । তবুও আমরা ওই এলাকায় ডিপ বোরিং করার চেষ্টা করেছি। বোরিং সফল হয়নি। আগামী দিনে যাতে এই সমস্যার সমাধান হয়, পঞ্চায়েতের সেই চেষ্টা থাকবে।

নিউজ টাইম চ্যানেলের খবরটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
Inform others ?
Share On Youtube
Show Buttons
Share On Youtube
Hide Buttons
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
Facebook
YouTube