করোনায় পুলিশি নজরদারি আরও কড়া হল, দেখুন কোথায় কোথায় হল পরিবর্তন

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : করোনা মোকাবিলায় গোটা দেশে জনজীবন থমকে গেছে। প্রথম পর্যায়ের লকডাউন শেষ হয়ে শুরু হয়েছে দ্বিতীয় প‌র্যয়ের লকডাউন। ইতিমধ্যেই দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ১৪ হাজার ছাড়িয়েছে। করোনা সংক্রমণ রোখার মরিয়া চেষ্টা করছে প্রশাসন।

দেশ জুড়ে ১৭০ টি হটস্পট চিহ্নিত হয়েছে। ‌যার মধ্যে আছে কলকাতাও। তাই এবার কলকাতায় লকডাউন কা‌র্যকর করতে তৎপর হল কলকাতা পুলিশ সহ রাজ্য প্রশাসন।

শহর কলকাতায় ক্রমাগত বেড়ে চলেছে সংক্রমণ। শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন কলকাতার বেশ কিছু অংশে গত কয়েকদিনে উদ্বেগজনক ভাবে বেড়েছে আক্রান্তের সংখ্যা। উত্তর ও মধ্য কলকাতার এই সমস্ত অঞ্চলগুলিকে সিল করে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এখানকার মানুষ বাড়ি থেকে বেরোতে পারবেন না, এবং পাড়াতেও মেলামেশা করা ‌যাবেনা।

শুক্রবার মধ্যরাত থেকে কড়াকড়ি শুরু হয় লকডাউনের। শনিবার দুপুর থেকে শহরে নেমেছে সশস্ত্র পুলিশ। কেন্দ্রের তরফ থেকে চিহ্নিত স্পর্শকাতর এলাকাগুলিকে কড়া নজরে রাখা হচ্ছে। রয়েছে কমব্যাট ফোর্সও।

কোলকাতার ‌যে এলাকাগুলিকে সীল করা হল, তা হল –

উত্তর কলকাতায় –

  • কাশীপুর, বেলগাছিয়া।
  • বরাহনগর পুরসভার ১০ এবং ১৮ নম্বর ওয়ার্ড।
  • দক্ষিণ দমদম পুরসভার কয়েকটি এলাকা।
 

মধ্য কলকাতা –

  • কলুটোলা, মেছুয়া, জোড়াসাঁকো এবং বৌবাজার এলাকা।
  • আর্মহার্স্ট স্ট্রীট এবং এপিসি রোডের মধ্যবর্তি অতিঘনজনবসতি পুর্ণ এলাকা।
  • মুক্তারামবাবু স্ট্রীট এবং নারকেল ডাঙা মেন রোডের দুপাশের অতিঘনবসতিপুর্ণ এলাকা।
  • অতি স্পর্শকাতর নারকেল ডাঙা নর্থ রোড, – গোটা এলাকাটি মুলত রাজাবাজার এলাকা হিসেবেই পরিচিত।
  • কলিন স্ট্রীট, রিপন স্ট্রীট, ম্যাকলয়েড স্ট্রীট থেকে বেনিয়া পুকুর এবং কড়েয়া সং‌যোগকারী অংশ।
  • আহিরীপুকুর ফার্স্ট লেন এবং হাতিবাগান রোড।
  • গিরিশ পার্ক, মানিকতলা, শ্যাম পুকুর স্ট্রীট, তালতলা, মুচি পাড়ার বেশ কিছু এলাকা।
এছাড়া পূর্ব ও দক্ষিণ কলকাতার বেশ কিছু অঞ্চল। এই সমস্ত এলাকায় ১৪ দিন সময়ের মধ্যে একাধিক সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। ফলে এই এলাকাগুলিকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এই সমস্ত এলাকায় ঢোকা বেরোনোর রাস্তায় ব্যারিকেড করেছে পুলিশ। এই এলাকা গুলিতে বাইরে থেকে কেউ প্রবেশ করতে পারবে না, এবং ভেতরের কেউ বাইরে আসতে পারবেন না।

উত্তর কলকাতার বেলগাছিয়া  বস্তি অঞ্চল এবং তার আশে পাশের এলাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাজাবাজার, নারকেলডাঙা, গার্ডেনরীচ, মেটিয়াবুরুজের মত এলাকায় চলছে কড়া পুলিশি টহলদারি। যে ওয়ার্ড থেকে করোনা আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া ‌‌যাচ্ছে, সেই বাড়ি ও গলি সিল করে দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় বাড়ানো হচ্ছে নাকা চেকিং। ঘিঞ্জি বাজার গুলিকে অপেক্ষাকৃত খোলা বিস্তৃত এলাকায় স্থানান্তরিত করার ব্যবস্থা চলছে।

অতিঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বাড়িতে বাড়িতে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে ফোনে। আক্রান্ত এলাকায় কাজ করছেন স্বাস্থ্য কর্মিরা। পুর এলাকার বিভিন্ন জায়গায় জীবানুমুক্তির কাজ চলছে। স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত এলাকাগুলিতে রাস্তা ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেওয়া হচ্ছে।

 

Inform others ?
Show Buttons
Hide Buttons