পরিযায়ী শ্রমিকদের মানসিক সুস্থতার জন্য ‘টেলি কাউন্সেলিং’-এর সিদ্ধান্ত প্রশাসনের

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : লকডাউনের জেরে ভিনরাজ্যে আটকে পড়েছেন পরিযায়ী শ্রমিকেরা। নিজেদের বাড়ি ফেরা তো বর্তমানে একেবারে অনিশ্চিত। তার মধ্য়ে ফোনেও অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের মানুষগুলোর সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়ে উঠছেনা। এই পরিস্থিতিতে পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য টেলি কাউন্সেলিং-এর ব্য়বস্থা করল প্রশাসন। এর ফলে নিজেদের প্রিয়জনদের সাথে মন খুলে কথা বলতে পারবেন তাঁরা। 

ইতিমধ্যেই কতজন পরিযায়ী শ্রমিক আটকে রয়েছেন তার হিসাব জানাতে প্রতিটি জেলাকে নির্দেশ দিয়েছে শ্রম দফতর। সেই হিসাবটা পাওয়া গেলেই তাঁদের সংখ্যা অনুযায়ী স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে খাবার, ওষুধ, বাসস্থানের ব্যবস্থাও করা হবে বলেও জানানো হয়েছে শ্রম দফতরের তরফে। তবে শুধু থাকা খাওয়াই নয়। এর বাইরেও তাঁদের মানসিক স্বাস্থ্যের কথা মাতায় রেখে টেলি কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করছে প্রশাসন। 

ইতিমধ্য়েই দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলা প্রশাসনের তরফে দেশের বিভিন্ন জেলায় আটকে থাকা শ্রমিক এবং তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। সংগ্রহ করা হয়েছে তাঁদের মোবাইল নম্বরও। এরপরেই ওই রাজ্যের স্থানীয় প্রশাসনের যোগাযোগ করে খাবার, ওষুধ ও বাসস্থানের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। একইসাথে করা হয়েছে টেলি কনফারেন্সের ব্যবস্থাও। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলা প্রশাসন সুত্রে জানানো হয়েছে, এই কাউন্সেলিংয়ের জন্য আট জন প্রশিক্ষক ও চার জন কাউন্সেলরকে যুক্ত করা হয়েছে। দিনে দুবার এই ব্যবস্থার মাধ্যেমে তাঁরা ফ্রিতে কল করতে পারবেন । 

এপ্রসঙ্গে জেলাশাসক পি উলগানাথন বলেন, “ভিনরাজ্যে আটকে পড়া শ্রমিকরা বাড়ি ফিরতে না পেরে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছেন। তাঁরা আত্মীয়-পরিজনদের সঙ্গে কথা বলতে চাইছেন। এই অবস্থায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের মনের জোর ফিরিয়ে দেওয়াটাই মূল লক্ষ্য ছিল। তাই টেলি কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।” এখানেই শেষ না করে তিনি আরও জানান, এই কাজের জন্য বিভিন্ন হাসপাতাল ও প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কাউন্সেলর ও প্রশিক্ষকদের নিয়োগ করা হয়েছে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপে যে শ্রমিকেরা খুশি হয়েছেন তাও এদিন জানান জেলাশাসক। 

 
Inform others ?
Show Buttons
Hide Buttons