বকেয়া বেতন না মিটিয়েই কারখানা বন্ধের নোটিশ, ধুন্ধুমার শ্যামনগর জুটমিলে

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : শ্যামনগর ওয়েভারলী জুটমিল বন্ধের নোটিশকে কেন্দ্র করে এবং বকেয়া টাকা না পাওয়ার জন্য মিলের ভিতরে এবং গেটের সামনে তুমুল বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। এমনকি জুটমিলের ভিতরে ব্যাপক ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় ম্যানেজমেন্টের দুটি গাড়িতে । ঘটনার জেরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। এমনকি আতঙ্কে মিল ছেড়ে পালিয়েও ‌যান আধিকারিকেরা। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন জগদ্দল থানার পুলিশ। পুলিশের গাড়িও ভাঙচুর করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন শ্রমিকেরা।

শ্রমিক-মালিক বিরোধের জেরে গত ৩০ জানুয়ারি থেকে কারখানার উৎপাদন বন্ধ করে দেন শ্রমিকরা। মূলত তাঁদের বেতন ঠিকমতো দেওয়া হচ্ছেনা বলেই এদিন অভি‌যোগ তোলেন তাঁরা। তবে শুধুমাত্র বেতন নয়, প্রয়োজন হলে তাদের পিএফ ও গ্র্যাচুইটির টাকাও তাঁরা তুলতে পাচ্ছেননা বলে জানান ওই মিলের শ্রমিকেরা। তবে এখানেই শেষ নয়, তাঁরা এদিন আরও অভি‌যোগ করেন, তাঁদের বেতন থেকে পিএফ বাবদ ‌যে টাকা কাটা হয়, তা সরকারের ঘরে বা পিএফ দফতরে জমা পড়ছে না। সেই টাকা মালিকপক্ষের তরফে আত্মসাৎ করে নেওয়া হচ্ছে।

এই জুটমিল প্রায় ৩ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। ৩০ জানুয়ারির পর সেই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে শ্রমিক সংগঠনগুলির সঙ্গে মালিকপক্ষ বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে মালিকপক্ষের তরফে জানানো হয়, আগামী মাসের ১৭ তারিখে ফের কারখানা খোলা হবে এবং তাঁদের বকেয়া বেতনও মিটিয়ে দেওয়া হবে।

এই আশ্বাসের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শ্যামনগরের ওয়েভারলি জুটমিলে মেন্টেনেন্সের কাজ শুরু হয়। মালিকপক্ষ জানায়, ২০ ফেব্রুয়ারি কারখানার সমস্ত শ্রমিকদের বকেয়া বেতন মিটিয়ে দেওয়া হবে এবং ২১ শে ফেব্রুয়ারি থেকে এই কারখানায় কাজ শুরু হবে। কিন্তু ২০ তারিখ শ্রমিকদের অ্যাকাউন্টে কোন বেতন না ঢোকায় শুক্রবার সকালে দল বেঁধে কারখানায় ‌যান তাঁরা। কিন্তু গেটের সামনে গিয়ে তাঁরা দেখেন কারখানা খোলা তো দূরস্ত বরং নতুন করে কারখানায় সাসপেনশন অফ ওয়ার্কের নোটিশ ঝুলিয়ে দিয়েছে মালিকপক্ষ। এই ঘটনার জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে পড়েন শ্রমিকরা। কারখানায় ঢুকেই তাঁরা ভাঙচুর চালাতে শুরু করে দেন। খবর পাওয়ার সাথে সাথেই জগদ্দল থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী উপস্থিত হয় ঘটনাস্থলে।  

Inform others ?
Show Buttons
Hide Buttons