পুলিশের চোখ এড়িয়ে চলছে বেআইনি আধার কার্ড প্রস্তুতি

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : বেআইনি ভাবে আধার কার্ড তৈরি হচ্ছে ক্যানিংয়ে। পুলিশ প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে দিনের পর দিন অনৈতিকভাবে  ভাবে আধার কার্ড তৈরি হচ্ছে । ক্যানিং থানার অন্তর্গত ট্যাংরাখালি কলেজ হাট এলাকায়। ফিরোজ লস্কর নামে এক যুবক তানিশা মোবাইল ও স্টুডিও নামে দোকান খুলেছেন সেখানে। সেই দোকানের দোতলার ঘরে বেআইনি ভাবে দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হচ্ছে আধার কার্ড।

 

বছর খানেক আগেও ব্লক স্তরে প্রশাসনের উদ্যোগে আধার কার্ড তৈরির কাজ চলছিল। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকার বেশ কিছু ফ্রাঞ্চাইজিও দিয়েছিল এই আধার কার্ড তৈরির জন্য। এক্ষেত্রে আধার কার্ড তৈরির ক্ষেত্রে মাত্রাতিরিক্ত টাকা নেওয়া সহ বিভিন্ন ধরণের বেনিয়মের অভিযোগ ওঠায় সেগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে। তারপর থেকে বিগত বেশ কয়েকমাস ধরে কেন্দ্রের নির্দেশে কোথাও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের মাধ্যমে, কোথাও পোস্ট অফিসের মাধ্যমে আধার কার্ড তৈরি বা সংশোধন করার কাজ চলছে। এতে সাধারণ মানুষের হয়রানি বাড়লেও এর ব্যাতিরেকে কোথাও আধার কার্ড তৈরির অনুমতি দেয়নি কেন্দ্র। ফলে আধার কার্ড তৈরি কিম্বা সংশোধনীর জন্য দিনের পর দিন হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। সাধারণ মানুষের সেই হয়রানির সুযোগ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েই বিগত বেশ কয়েকমাস ধরে কার্ড পিছু ৩৫০ টাকা করে নিয়ে একচেটিয়া বেআইনি ভাবে আধার কার্ড তৈরি করা হচ্ছে এই কলেজ হাট এলাকায়। টাকা বেশি খরচ হলেও হয়রানি এড়াতে দূর দুরান্ত থেকে সাধারণ মানুষজন এখানে আধার কার্ড তৈরি করতে আসছেন। প্রতিদিন শতাধিক মানুষ এখানে আসছেন আধার কার্ড তৈরির জন্য।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেল মানুষের ভিড়ে থিক থিক করছে পনেরো বাই আট ফুটের ঘরটি। সেখানে বসে একের পর এক মানুষের আধার কার্ড তৈরির যাবতীয় কাজ করে চলেছেন দুই যুবক। একজন দোকানের মালিক ফিরোজ আর অন্যজন কর্মচারী। সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের দেখে হকচকিয়ে যান সকলেই। তড়িঘড়ি বন্ধ করে দেন কম্পিউটার, প্রিন্টার সহ অন্যান্য মেশিনপত্র।  কিভাবে সরকারি কিট, সফটওয়ার এরা যোগাড় করছেন? কার্যত যখন কেন্দ্রের অনুমোদন ছাড়া এগুলো করা যায় না, তাহলে কিভাবে হচ্ছে এগুলি? ঘটনার কথা জানতে পেরে বিডিওর নির্দেশে ক্যানিং থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্তে যায়। কিন্তু, পুলিশ আসার আগাম খবর পেয়েই দোকান বন্ধ করে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত। অভিযুক্তকে না পেয়ে থানার তরফ থেকে ঐ দোকানটি সিল করে দেওয়া হয়েছে আপাতত। পাশাপাশি অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।

Inform others ?
Show Buttons
Hide Buttons