‘ভূতে ধরেছে’ সন্দেহে ঝাড়ফুঁক, কুসংস্কারের বলি ২ শিশু

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : ‘ভূতে ধরেছে’, এই সন্দেহে চলল ঝাড়ফুঁক। ‌যার জেরে প্রাণ হারাল ২ শিশু। জানা গিয়েছে, কুসংস্কারের কারনে চিকিৎসকের কাছে না নিয়ে গিয়ে ঝাড়ফুঁক করানো হয়। কিন্তু অবস্থা ক্রমশ্য খারাপ হওয়ায় মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ‌যাওয়া হয় তাঁদেরকে। ২ জন শিশুর মৃত্যু হলেও এখনও প‌র্যন্ত সংকটজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে আরও দুই শিশু।

সুত্রের খবর, শুক্রবার বিকালে মালদহের গাজোলের কদমতলা গ্রামে খেলছিল কিছু শিশু। কিন্তু বা‌ড়ি ফিরে তারা জানায়, তাদের শরীর খারাপ লাগছে। এরপরেই তাদের অভিভাবকরা সন্দেহ করতে থাকেন ওই শিশুদের ‘ভূতে ধরেছে’। সাথে সাথে তাঁরা ওঝাকে খবর দেন। ওঝা এসেই শুরু করে দেন ঝাড়ফুঁক। প্রায় ঘন্টা দুয়েক পর শিশু গুলি ‌যখন নেতিয়ে পড়ে তখন পরিজনেরা তাদের উদ্ধার করে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ‌যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। রাস্তাতেই একজন শিশুর মৃত্যু হয়। বাকি তিনজন শিশুকে হাসপাতেলে ভর্তি করা হলে কিছুক্ষনের মধ্যেই মৃত্যু হয় অপর এক শিশুর। আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাকি ২জন মালদহ মেডিক্যালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে।

মৃত ওই দুই শিশুর নাম ফিরোজ রহমান এবং শফিকুল আলম। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকদের অনুমান, খেলার সময় কোন বিষাক্ত ফল খেয়ে নেয় শিশুরা। এই বিষক্রিয়া থেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ে তারা। তবে ঝাড়ফুঁক না করিয়ে ‌যদি প্রথমেই চিকিৎসকের কাছে তাদের নিয়ে ‌যাওয়া হত তাহলে তারা প্রানে বেঁচে ‌যেতে পারত বলে দাবি টিকিৎসকদের। এবিষয়ে গাজোলের বিধায়ক বলেন, মুসলমান অধ্যুষিত কদমতলা গ্রামে বেশিরভাগ মানুষই এখনও শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। তাই কুসংস্কার দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে ওই এলাকায়। ‌যার জেরে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে। তিনি জানান, এর আগে বাসিন্দাদের ভাবনাচিন্তা বদলের জন্য বিজ্ঞান মঞ্চের সদস্যরা বহুবার সচেতনতা প্রচার করেছেন, কিন্তু তাতেও কোন কাজ হয়নি।

Inform others ?
Show Buttons
Hide Buttons