মেধা ও প্র‌যুক্তির মেল বন্ধনে তৈরি নয়া জাতীয় শিক্ষা নীতি, সপক্ষে সওয়াল নমোর

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী ইউজিসি আয়োজিত কনক্লেভ অন ট্রান্সফরমেশন রিফর্মস ইন হাইয়ার এডুকেশন এর ভিডিও কন্ফারেন্সে জাতীয় শিক্ষানীতির সপক্ষে সওয়াল করলেন। এই নীতিতে দেশের কোনো সম্প্রদায় বা সমাজের কোনো একটি অংশ বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে তা কেউ বলতে পারেননি। এতেই তিনি সবচেয়ে খুশি বলে জানান। ‌

তিনি জানান, এর আগে দেশে শিক্ষা কতকটা ইঁদুর দৌড়ে পরিনত হয়েছিল। এক এক সময়ে এক একটি জীবিকার জন্য পড়াশোনা করানো হয় পড়ুয়াদের। কখনও ইঞ্জিনিয়ার কখনও বা ডাক্তারি পড়ার পেছনে ধাওয়া করে পড়ুয়া ও শিক্ষকরা। এর ফলে পড়ুয়াদের আগ্রহ ও প্রবণতা সঠিকভাবে বিশ্লেষণ না করেই একটি গড়পড়তা শিক্ষা পায় তারা। এই নতুন শিক্ষা নীতিতে ঔৎসুক্য, উৎকর্ষ ও চাহিদার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

এই নয়া জাতীয় শিক্ষা নীতি সম্পর্কে ঘোষণার পর থেকেই দেশ জুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছিল। তার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ৩৪ বছর ধরে ‌যে শিক্ষা নীতি চলে আসছিল তা নিয়ে বারংবার আপত্তি ও অভি‌যোগ এসেছে সাধারণ মানুষের মধ্যে থেকে, সর্বাপেক্ষা পড়ুয়াদের মধ্যে থেকে। তাই এর বদল করা হল। এই বদল দেশবাসী চেয়েছিল। গত তিন-চার বছর ধরে সমীক্ষার পর এই বদল আনা হয়েছে। এই পরিবর্তন গোটা সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিতে পারে। এই নীতিতে মেধা ও প্র‌যুক্তির মেলবন্ধন ঘটানো হয়েছে।

নয়া শিক্ষানীতিতে পঞ্চম শ্রেণি প‌র্যন্ত পড়ুয়াদের মাতৃভাষায় পড়াশোনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছো‌টোবেলায় পড়ুয়ারা তাদের মাতৃভাষায় শিখতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করে। সমীক্ষায় দেখা গেছে বেশ কিছু জিনিস তাদের মাতৃভাষায় বুঝতে সুবিধা হয়। তাই প্রাথমিক ভাবে মাতৃভাষা বা আঞ্চলিক ভাষা শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এই নীতিতে।

তিনি জানান, এতদিন প‌র্যন্ত শিক্ষাক্ষেত্রে কী ভাবা হবে তা বলে দেওয়া হত। কিন্তু নয়া নীতিতে কিভাবে ভাবা হবে তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পুরানো ও নতুন শিক্ষানীতির মধ্যে এইটাই অন্যতম পার্থক্য। সারাজীবন একই চাকরী বা একই জীবিকায় আটকে থাকতে হবে না। বিশ্ব শিক্ষানীতি থেকে এই নীতি অনুপ্রাণিত। ‌যুব সমাজ ও শিক্ষাবিদদের পাশে তিনি আছেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

Inform others ?
Show Buttons
Hide Buttons