বিকেল ৪টেয় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : মঙ্গলবার বিকেল ৪টেয় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তরফ থেকে টুইটে জানানো হয়েছে একথা। মনে করা হচ্ছে, করোনা ভাইরাসের  জেরে হওয়া দেশের পরিস্থিতি এবং চিনের সঙ্গে সাম্প্রতিক উত্তেজনা, মূলত এই দুই বিষয় নিয়েই বক্তব্য রাখতে পারেন তিনি। লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় চিন সীমান্তে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে ৫৯ টি চিনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ১৫ জুন দু’দেশের সেনার মধ্যে সংঘর্ষের জেরে কর্নেল সহ ২০ জন ভারতীয় সেনা প্রাণ হারান এবং আহত হন ৭০ জনেরও বেশি সেনা। তারপর থেকেই দু’দেশের মধ্যে সীমান্তে উত্তেজনা যেন আরও বাড়ছে। রবিবার ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদী ভারত-চিন উত্তেজনার বিষয়ে বলেন, “লাদাখে ভারতের দিকে যারা চোখ তুলে তাকিয়েছে তারা যোগ্য জবাব পেয়েছে। ভারত যদি বন্ধুত্ব করতে জানে, তবে কীভাবে পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানানো উচিত সেটাও জানে।”

রবিবার প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “কারওকে ভারত মাতার সম্মান খর্ব করার অনুমতি যে দেওয়া হবে না, তা স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন আমাদের সাহসী জওয়ানরা। এমনকী যে জওয়ানরা শহিদ হয়েছেন তাঁদের পরিবার বীর সন্তানদের আত্মত্যাগের জন্যে গর্ব অনুভব করছেন। এটাই দেশের শক্তি। আপনারা নিশ্চয়ই দেখেছেন যে, যাঁদের সন্তানরা শহিদ হয়েছিলেন, সেই বাবা-মা বলেছেন, তাঁদের বাড়ির অন্যান্য ছেলেদেরও সেনাবাহিনীতে পাঠাবেন তাঁরা”।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারত যেভাবে কঠিন সময়ে বিশ্বকে সাহায্য করেছিল, তাতে শান্তি ও উন্নয়নে ভারতের ভূমিকা আরও জোরদার হয়েছে। গোটা বিশ্ব ভারতের বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের চেতনা অনুভব করেছে। আমরা ভারতের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত রক্ষায় ভারতের শক্তি দেখেছি, তার প্রতিশ্রুতি রক্ষাও দেখেছি। তাই এবার সীমান্ত রক্ষায় দেশের শক্তি বাড়াতে দেশের আরও উদ্যোগী হওয়া উচিত। দেশকে যদি আমরা স্বাবলম্বী করতে পারি তবেই আমরা আমাদের শহিদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধাঞ্জলি দিতে পারবো।”

সোমবার রাতেই আনলক-২ নিয়েও নির্দেশিকা জারি করে কেন্দ্র। ১ জুলাই থেকে একমাসের জন্যে এই নির্দেশিকা কার্যকর করা হবে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, কনটেনমেন্ট জোনগুলোতে ৩১ জুলাই পর্যন্ত কড়া লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। অন্য় দিকে, রাত ১০টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত দেশজুড়ে চলবে নাইট কারফিউ। তবে, জরুরি পরিষেবা কারফিউয়ের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়, ৩১ জুলাই পর্যন্ত স্কুল-কলেজ, কোচিং ইনস্টিটিউশন সহ সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। অনলাইনেই পড়াশুনো চলবে। কনটেনমেন্ট জোনের বাইরে নিয়মবিধি মেনে ১৫ জুলাই থেকে রাজ্য় ও কেন্দ্রের ট্রেনিং ইনস্টিটিউশনকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে।

কেন্দ্রীয় নির্দেশিকায় আরও জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক উড়ান, মেট্রো রেল, সিনেমা হল, জিম, সুইমিং পুল, বিনোদন পার্ক, থিয়েটার, বার, অডিটোরিয়াম আপাতত বন্ধ থাকবে। বন্ধ থাকবে খেলা, সামাজিক-রাজনৈতিক-ধর্মীয় অনুষ্ঠানও।

Inform others ?
Show Buttons
Hide Buttons