সংকটে অর্থনীতি, ৫ লক্ষ কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত রেলের

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : চারিদিকে শুধু আতঙ্কের একটাই নাম, করোনা। আর এই মহামারী রুখতে প্রাণপণে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দেশের প্রশাসন। এই মারণ ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে গত ২৫ মার্চ থেকে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে লকডাউন। জরুরি পণ্য ও পরিষেবা ছাড়া প্রায় সমস্ত কিছুর ওপরেই সরকারের কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। যার জেরে সংকটের মুখে পড়েছে দেশের অর্থনীতি। তাই দেশের আর্থিক পরিস্থিতি চাঙ্গা করতে চতুর্থ দফার লকডাউন থেকেই একাধিক ক্ষেত্রে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে সরকারের তরফে। পঞ্চম দফায় সেই ছাড়পত্রের বিষয়টি আরও বেড়েছে। ইতিমধ্যেই নিজেদের খরচ কম করতে কর্মী ছাঁটাই শুরু করেছে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা। এবার সেপথে হেঁটেই ৫ লক্ষ কর্মী কম করার সিদ্ধান্ত নিল ভারতীয় রেলও।

রেলের তরফে নেওয়া এমন সিদ্ধান্তের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই অল ইন্ডিয়া রেল ফেডারেশনের ডাকে পূর্ব রেলের সদর দপ্তর ফেয়ারলি প্লেস, হাওড়া, শিয়ালদহ, আসানসোল, মালদহ ডিআরএম দপ্তরের সামনে কালো ব্যাজ পরে সোমবার বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন কর্মীরা। একইসাথে বিক্ষোভ চলে জামালপুর, কাঁচড়াপাড়া, লিলুয়া ওয়ার্কশপেও। দেশের অর্থনীতির কথা চিন্তা করে খরচ কমানোর নাম করে এই ভাবে কর্মী ছাঁটাইয়ের বিষয়টি মানা হবেনা বলে এদিন সাফ জানিয়ে দেন কর্মীরা। তাঁদের কথায়, কর্মী ছাঁটাই না করেও অনেক উপায়ে খরচ কমানো সম্ভব।

সম্প্রতি কলকাতায় দক্ষিণ-পূর্ব রেলের সদর দপ্তরে কর্মরত ৯১ জন নন-গেজেটেড ও দু’জন গেজেটেড কর্মীকে ছাঁটাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এখনও পর্যন্ত রেলে প্রায় ১৩ লক্ষের মতো মানুষ কাজ করেন। তাঁদের অর্ধেককেই এবার ছাঁটাই করতে চাইছে রেল। মেনস ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অমিত ঘোষের কথায়, “দেশজুড়ে কর্মী ছাঁটাই করার পরিকল্পনা রয়েছে রেলের। ৩০ বছর চাকরি বা ৫৫ বছর বয়স, যেটা আগে হবে সেই হিসেব করে কর্মীদের স্বেচ্ছাবসর দেওয়ার কথা ভাবছে রেল। এছাড়া বিভিন্ন দপ্তরের সংযোজন ঘটিয়ে কর্মী সংকোচন করা হতে পারে। তবে এটা আমরা মেনে নেব না। এর প্রতিবাদে তীব্র আন্দোলন চলবে।” 

 

 

Inform others ?

হয়তো আপনার চোখ এড়িয়ে গেছে !

Show Buttons
Hide Buttons