‘এটা ভারতের সংস্কৃতি নয়’, অন্তঃসত্ত্বা হাতি খুনের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ জাভড়েকরের

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : “এই ঘটনার তদন্ত হবে। প্রত্যেক দোষীকে শাস্তি দেওয়া হবে। আনারসের মধ্যে বাজি ভরে টোপ দিয়ে হাতিকে নির্মমভাবে হত্যা করা ভারতের সংস্কৃতি নয়।” কেরলে গর্ভবতা হাতি হত্যার ঘটনার নিন্দায় এদিন সরব হলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর। ইতিমধ্য়েই কেন্দ্রের তরফে হাতির মৃত্যু সম্পর্কিত সমস্ত তথ্য চেয়ে পাটানো হয়েছে। 

তদন্তের স্বার্থে ইতিমধ্যেই পালাক্কড় জেলার সাইলেন্ট ভ্যালিতে উপস্থিত হয়েছে বিশেষ তদন্তকারী টিম। তাঁরা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখবে বলে জানা গিয়েছে। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তা জানিয়েছেন বিজয়ন। তবে প্রাথমিক তদন্তের রিপোর্ট বলেছে, বাজি ভর্তি আনারস খাওয়ায় তা থেকে বিস্ফোরন ঘটে ওই অন্তঃসত্ত্বা হাতির মুখে। তারপরেই প্রচুর রক্তপাত হয় তার।

কোরলে মূলত ক্ষেতে বুনো শুয়োর প্রবেশ আটকাতে আনারসের মধ্য়ে বাজি ভরে তা রেখে দেন কৃষকেরা। কিন্তু এই হাতিটি সেই বাজি ভরা আনারস কোথা থেকে পেল এখন সেবিষয়েই উঠছে নানান প্রশ্ন। বুনো শুয়োর রুখতে যে আনারস ক্ষেতে রাখা হয় সেটাই হতিটি খেয়েছিল নাকি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভবে কেউ বা কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল।

প্রসঙ্গত, পেটের দায়ে জঙ্গল ছেড়ে গ্রামে এসেছিল বছর ১৫-অর একটি গর্ভবতী হাতি। কিন্তু সেই হাতিটির হয়তো ভাবতেই পারেনি তার জন্য এমন মারাত্মক কিছু অপেক্ষা করছে। মানুষ যে এতটা নির্মম ও নিষ্ঠুর হতে পারে তা হয়তো আন্দাজও করতে পারেনি সে। তাই মানুষের দেওয়া খাবর সানন্দে গ্রহন করেছিল গর্ভবতী ওই হাতিটি। কিন্তু তাতেই ঘটল বিপত্তি। আনারসের মধ্যে বাজি ভরে তা হাতিটিকে খাবার জন্য দেওয়া হলে মুখে পোরা মাত্রই তা বিস্ফোরন ঘটায়। সাথে সাথে হাতিটির জিভ ও মুখের বেশিরভাগ অংশ পুড়ে যায়। অবশেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে গর্ভবতা মা হাতিটি। প্রচন্ড জ্বালা নিয়ে লোকালয়ের আশপাশে কয়েকদিন ধরেই ঘুরে বেড়ায় হাতিটি। এরপরেই জ্বালা কমাতে একটি নদীতে নেমে জলের মধ্য়ে নিজের মুখ ডুবিয়ে রাখকে সে। কিন্তু অবশেষে জীবনযুদ্ধে হার মানতে হয় তাকে। ইতিমধ্য়েই নৃশংস এই ঘটনার তীব্র নিন্দায় সরব হয়েছেন অনেকেই। নীন্দার ঝড় উঠেছে প্রশাসনেও। সারা দেশ জুড়ে এই ঘটনার জেরে হইচই পড়ে যায়। তারপরেই নড়েচড়ে বসে দেশের প্রশাসন।

 

Inform others ?

হয়তো আপনার চোখ এড়িয়ে গেছে !

Show Buttons
Hide Buttons