কৃষিক্ষেত্রে ৮ ঘোষণা, নজর প্রশাসনিক সংস্কারেও

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : করোনার জেরে সংকটের মুখে দেশের আর্থনীতি। তাই দেশের আর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে মঙ্গলবার জাতীর উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে গিয়ে ২০ লক্ষ কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একইসাথে তিনি ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গড়ে তোলারও কথা বলেন। কিন্তু এই আর্থিক প্যাকেজে ঠিক কী কী থাকছে তা প্রধানমন্ত্রীর কথা মতোই বুধবার থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে শুরু করেছেন কেন্দ্রীয় আর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণ। সেই মর্মেই বুধ ও বৃহস্পতিবারের মতো ফের শুক্রবার তৃতীয় দফায় আর্থিক প্যাকেজের ব্যাখ্যা দেন তিনি। 

প্রথম দিনের ব্যাখ্যায় ক্ষুদ্র, মাঝারি ও অতিক্ষুদ্র শিল্পের এক নয়া সংজ্ঞা তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। এই সমস্ত শিল্পগুলিকে চাঙ্গা করতে একগুচ্ছ ঘোষণাও করেন তিনি। তবে কর্মসংস্থান, অর্থের জোগান বা পরিযায়ী শ্রমিকদের হাতে সরাসরি টাকা তুলে দেওয়ার বিষয়ে কিছুই ঘোষণা না হওয়ায়, তা বেশ খুশি করতে পারেনি দেশের সব শ্রেণীর মানুষদের। বৃহস্পতিবার ফের দ্বিতায় দফায় শ্রমিক, হকার, ক্ষুদ্র চাষী ও কর্মসংস্থানের জন্য একগুচ্ছ পদক্ষেপ ঘোষণা করে ২০ লক্ষ কোটির প্যাকেজ ঘোষণা করেন সীতারামণ। এরপর তৃতীয় দফায় শুক্রবার কৃষি, মৎস্য, পশুপালন, দুগ্ধজাত পণ্যের ক্ষেত্রে আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী।

  • এদিন কৃষির পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ করা হয় ১ লক্ষ কোটি টাকা। যার মধ্যে রয়েছে কৃষিপণ্য সংরক্ষন, উপযুক্ত পরিকাঠামো তৈরি। এই পরিকাঠামোর আওতায় থাকবে হিমঘর ও শস্যগুদাম গুলিও। এদিন অর্থমন্ত্রী জানান, লকডাউন চলাকালীন আগামী ২ মাসে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে (এমএসপি) কৃষকদের থেকে ৭৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকার খাদ্য শস্যের ক্রয় করা হয়েছে। একইসাথে কৃষি ক্ষেত্রে এদিন ১১ টি ত্রাণ প্যাকেজ ঘোষনা করা হয়।  
  • ক্ষুদ্র খাদ্য প্রস্তুতকারক সংস্থার জন্য বরাদ্দ হয়েছে ১০,০০০ কোটি টাকা। যার জেরে এই ধরনের প্রায় ২ লক্ষ সংস্থা উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই প্যাকেজের আওতায় রয়েছে বিভিন্ন অর্গানিক ও হার্বাল খাদ্যসামগ্রীও। এই প্রকল্প মূলত ‘ভোকাল ফর লোকাল’-এর অন্তর্ভুক্ত।
  • মৎসচাষের জন্য বরাদ্দ হয়েছে, ২০ হাজার কোটি। যার মধ্যে মৎসচাষীদের জন্য ১১ হাজার কোটি, পরিকাঠামোর জন্য ৯ হাজার কোটি বরাদ্দ হয়েছে। একইসাথে প্রায় ৫৫ লক্ষ কর্মসংস্থানেরও সুযোগ দেওয়া হবে।
  • পালিত পশুদের টিকাকরণের জন্য দেওয়া হবে ১৩,৩৪৩ কোটি টাকা। যার ফলে এবার থেকে ১০০ শতাংশ পালিত পশুর টিকাকরণ নিশ্চিত করা হবে। এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত করা হয়েছে মোট ৫৩ কোটি পালিত পশুকে। ইতিমধ্যেই ১.৫ কোটি পালিত পশুর টিকাকরণ হয়ে গিয়েছে।
  • দুগ্ধ শিল্পের উন্নয়নে দেওয়া হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। নজর দেওয়া হবে তুন প্রকল্পে এবং পণ্য রপ্তানিতে। একইসাথে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাগুলিকেও আংশগ্রহনে জন্য উৎসাহ দিতে হবে।
  • ঔষধি গাছের চাষের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৪০০০ কোটি টাকা। যার ফলে উপকৃত হবেন বহু স্থানীয় চাষি। একইসাথে কৃষকদের ৫০০০ কোটি টাকা আয়ের সংস্থান হবে। 
  • মৌমাছি পালনের জন্য দেওয়া হবে ৫০০ কোটি টাকা। যার ফলে প্রায় ২ লক্ষ মৌমাছি প্রতিপালক উপকৃত হবেন। একইসাথে এই কাজে মহিলাদের বেশি করে উৎসাহিত করা হবে।
  • এছাড়া, কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্য বরাদ্দ হবে ৫০০ কোটি টাকা। পরিবহনে দেওয়া হবে ৫০ শতাংশ ভর্তুকি। একইসাথে কৃষিপণ্য সংরক্ষনেও ৫০ শতাংশ ভর্তুকি দেবে সরকার।
 

 

 

Inform others ?
Show Buttons
Hide Buttons