দেশজুড়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে চাঙ্গা করতে নয়া নিয়ম কেন্দ্রের

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : করোনা আবহের মধ্যেই মঙ্গলবার দেশবাসীর উদ্দেশ্যে ভাষণে ২০ লক্ষ কোটির প্যাকেজ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। একইসাথে তিনি জানান, বুধবার থেকে এই প্যাকেজের বিস্তারিত বিবরণ দেবেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। সেই মর্মে বুধবার বিকেল ৪টেয় সাংবাদিক সম্মেলন বসেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। সেখানে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প শিল্পের জন্য নয়া পদক্ষেপের কথা জানালেন তিনি।

করোনার জেরে গত ২৯ মার্চ থেকে দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। জরুরি পণ্য ও পরিষেবা ছাড়া প্রায় সবকিছু বন্ধ থাকায়, তখন থেকেই ভাটা পড়েছে সরকারের ইনকামে। দেশকে সেই আর্থনৈতিক সংকট থেকে উদ্ধার করতেই বুধবার অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলির জন্য ছয়দফা পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেন।

এদিন অর্থমন্ত্রী বলেন, সমাজের বিভিন্ন অংশ থেকে আর্থিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বহু তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। তার ওপর ভিত্তি করেই এই প্যাকেজ ঘোষণা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর উদ্দেশ্যে অনুরোধ জানিয়েছেন, আত্মনির্ভর হওয়ার জন্য। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প গুলির জন্য এই প্যাকেজ বরাদ্দ হলে আত্মনির্ভরতা অনেকখানি বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একইসাথে দেশজুড়ে যাতে স্থানীয় ব্র্যান্ড গুলি প্রাধান্য পায় সেদিকেও নজর দেওয়া হবে।  

কেন্দ্রের নয়া ঘোষণা অনুযায়ী, পরিষেবা এবং উৎপাদন শিল্পের যে সমস্ত সংস্থাগুলি জড়িয়ে রয়েছে, তাদের মধ্য়ে যেগুলির লগ্নি ১ কোটি টাকার কম এবং টার্নওভার ৫ কোটি টাকার কম সেগুলিকে অতিক্ষুদ্র শিল্পসংস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ক্ষুদ্র সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে ১০ হাজার কোটি বাড়তি মূলধন এবং বাড়তি ৫০ হাজার কোটির যোগানের ব্যবস্থা করা হবে। অন্যদিকে যে সমস্ত সংস্থার লগ্নি ২০ কোটি টাকার কম এবং টার্নওভার ১০০ কোটি টাকার কম, সেই সমস্ত সংস্থাগুলি মাঝারি শিল্পসংস্থা হিসেবে বিবেচিত হবে। আরএি নতুন নিয়ম কার্যকর করতে হলে প্রয়োজনীয় আইন সংশোধন করা হবে বলেও এদিন জানান কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী 

 

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলির জন্য ছয়দফার পদক্ষেপ প্রসঙ্গে আর্থমন্ত্রী বলেন-

  • দেশের অর্থনৈতিক সংকট দূর করতে ১৫ দফা পদক্ষেপ গ্রহন কেন্দ্র সরকারের। যার মধ্যে ছটি রয়েছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য।
  • তিন লাখ কোটি ঋণ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য, দিতে হবেনা কোন গ্যারান্টি ফি।
  • প্রথম ১ বছর কোন সুদ দিতে হবেনা। ১০০ কোটি টাকা লেনদেন হলে তবেই এই সুদ পাওয়া যাবে। যার ফলে উপকৃত হবে ৪৫ লক্ষ কোটি শিল্প ইউনিট। ঋনের মেয়াদ থাকবে ৪ বছর পর্যন্ত। 
  • ঝিমিয়ে পড়া ও ক্ষুদ্র মাঝারি শিল্পের জন্য ২০ হাজার কোটি ঋণ দেবে সরকার।
  • ১০ হাজার কোটি বাড়তি মূলধন, বাড়তি ৫০ হাজার কোটির যোগানের ব্যবস্থা করবে কেন্দ্র।
  • মাঝারি শিল্পের ক্ষেত্রে বছরে লগ্নি ২৫ কোটি টাকা। টার্নওভারের সীমা বাড়িয়ে করা হল ১০০ কোটি টাকা।
  • অতি ক্ষুদ্র শিল্পের লগ্নি সীমা বাড়িয়ে ১ কোটি, টার্নওভার পাঁচ কোটি পর্যন্ত করা হল।
  • ২০০ কোটির কম বরাতে গ্লোবাল টেন্ডার দেওয়া হবেনা।
 

 

Inform others ?
Show Buttons
Hide Buttons