সরকারি সুরক্ষার দাবি, যৌনকর্মী-রূপান্তরকামীদের আবেদন খারিজ দিল্লি হাই কোর্টের

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : করোনার জেরে গত ২৫ মার্চ থেকে দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। তখন থেকেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে বহু মানুষের আয়। যৌন পল্লিতে আনাগোনা বন্ধ হয়েছে খদ্দেরের। প্রয়োজনীয় খাদ্য সহ বহু জিনিসের জোগান থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে যৌনকর্মী ও রূপান্তরকামীদের। তাই তাঁরা যেন খাদ্য, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ঠিকমতো পান, তাই দিল্লি হাই কোর্টে মামলা দায়ের করে আপ সরকার। কিন্তু সোমবার তা খারিজ করে দেওয়া হয়।

লকডাউনের জেরে কোন আয় না থাকায় যৌনকর্মী ও রূপান্তরকামীরা সত্যিই সমস্যায় পড়ছেন। তবে সেবিষয়ে কোন রকম আবেদন শুনতে নারাজ বিচারপতি রাজীব সাহাই ও সঙ্গীতা ধিঙ্গরা সেহগাল। কিন্তু কেন এই মামলা খারিজ করা হল পরে তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। 

লকডাউনের মধ্য়ে সারাদিন বাড়িতে থাকায় পরিবারের সদস্যদের থেকে যেমন নানা কুকথা শুনতে হচ্ছে তেমনি বাইরে গেলেও রেহাই নেই রূপান্তরকামী মানুষগুলোর। ত্রান নিতে গিয়েও তাঁদের দাঁড়াতে হচ্ছে লাইনের একেবারে পিছনে। সবাই ত্রান নিয়ে যাওয়ার পর যা বাঁচছে তাই পেটের দায়ে তাঁদের সংগ্রহ করতে হচ্ছে। তবে বেশ কিছু সংস্থার তরফে এই সমস্ত মানুষগুলোর উদ্দেশ্যে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে সেই সংখ্যাটাও অনেকটা কম হওয়ায় তাদের সাহায্য খুব কম সংখ্যক মানুষই পাচ্ছেন। 

 যৌন পল্লিগুলির চিত্রটাও খানিকটা একইরকম। মাত্র কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবি সংস্থা তাঁদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে ঠিকই, কিন্তু তাতে আর কদিন! সরকারের তরফে সেভাবে কোন ত্রানই তাঁদের কাছে পৌঁছাচ্ছেনা। এমনকি বেশ কয়েকটি যৌনপল্লীতে প্রবেশ ও বাইরে যাওয়ার পথ বন্ধ করে দেওয়ার ফলে সামনের কোন বাজারেও যেতে পারছেননা তাঁরা। 

তাঁদের এই সংকটের কথা বিবেচনা করে দিল্লি হাই কোর্টে মামলা করে আপ সরকার। যৌনকর্মীদের সহযোগিতার স্বার্থে একটি কমিটি তৈরির পরামর্শ দেন আইনজীবী অনুরোগ চৌহান। এমনকি রূপান্তরকামী ও যৌনকর্মীদের সরকারি সাহায্যের জন্য একটি টোল ফ্রি নাম্বারেরও দাবি করা হয়। যদিও সোমবার সেই মামলা খারিজ করে দেয় দিল্লি হাইকোর্ট। যার ফলে এই দুই গোষ্ঠির মানুষগুলো আবার নতুন করে হতাশা হয়ে পড়েছেন ।

 

Inform others ?
Show Buttons
Hide Buttons