সমন্বয় রাখতে আসরে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবীদ অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে দেশে অর্থনৈতিক অবস্থার কথা, প্রান্তিক মানুষের কথা, কীভাবে সাহা‌য্য করা উচিত কেন্দ্রের সেই সমস্ত বিষয়ে এবার নোবেল জয়ী অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে আলোচনা করলেন প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। আলোচনায় বাঙালী অর্থনীতিবীদ খানিকটা ক্ষোভের সুরেই বলেন কেন্দ্র ও রাজ্যের পরিচালনায় ভারসাম্য থাকা উচিত। কিন্তু কেন্দ্র করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর জোর দিতে গিয়ে ভারসাম্য নষ্ট করছে।

তিনি বলেন, করোনা প্রতিরোধে একটি কেন্দ্রীয় উদ্যোগের প্রয়োজন থাকলেও সেক্ষেত্রে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার গুলির মধ্যে ‌যাতে ছন্দ পতন না হয় তা খেয়াল রাখতে হবে। কেন্দ্রের তরফ থেকে রাজ্য সরকার গুলিকে তাদের পরিচালন পদ্ধতি নির্ধারণের স্বাধীনতা দেওয়া উচিত, কারণ তারা রাজ্যের অবস্থা সম্পর্কে অনেক বেশি অবগত। এমনকি রাজ্যগুলি লকডাউন মানবে কিনা সেই ক্ষেত্রেও স্বাধীনতা দেওয়ার কথা বলেন অর্থনীতিবীদ অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়।

করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউন পরিচালনার দায়িত্বের ক্ষেত্রে বিকেন্দ্রীকরণের ওপর জোর দিয়ে অভিজিৎ বলেন, বর্তমানে রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে মতবিরোধ দৃশ্যমান, ‌যা দেশের এই পরিস্থিতিতে একেবারেই কাম্য নয়।

তিনি রাহুলকে জানান, এই সমগ্র পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকারের দুটি ভিন্ন ভুমিকা আছে। প্রত্যেক রাজ্যের প্রয়োজন অনুসারে সেই ভুমিকার তারতম্য থাকবে। কিন্তু এই গোটা প্রক্রিয়ায় একটি ছন্দ থাকতে হবে দুই সরকারের মধ্যেই।

কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে সমস্ত রাজ্যের সমস্ত মানুষ প‌র্যন্ত পৌঁছনো সম্ভব না। কেন্দ্রের বর্তমানে উচিত রাজ্য সরকারগুলির জন্য তহবিল তৈরি করা। এবং রাজ্য সরকারকে স্বরাজ্যের জন্য আর্থিক পরিকল্পনা তৈরী করতে দেওয়া। রাজ্যগুলি নিজেদের পরিকল্পনা অনু‌যায়ী নিজেরা এবং স্বেচ্ছাসেবি সংস্থাগুলির সাহা‌য্যে অনেক বেশি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছতে পারবে।

তিনি এও জানান, এই প্রক্রিয়া শুরু করতে গেলে কিছু টাকা চুরী ‌যাবে। কিছু ক্ষতির সম্মুখীন হবে সরকার। কিন্তু এই কাজ একেবারেই না করলে ক্ষতি হবে সাধারণ মানুষের এবং তা হবে অনেক বেশি পরিমানে। কিন্তু বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের পরিচালন পদ্ধতি একেবারে আলাদা। রাজ্য স্তরে কোনোরকম স্বাধীনতা না দিয়ে একটিই নির্দেশিকা দিয়ে গোটা দেশকে চালানো হচ্ছে। সমগ্র দেশের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীভুত করার জন্যে বিভিন্ন রাজ্যে তৈরি হচ্ছে অসন্তোষ। ভারতের মত বৈচিত্র্যপুর্ণ দেশে পরিচালন প্রক্রিয়ার এমন সরলীকরণ ভবিষ্যতে অসুবিধার সৃষ্টি করবে।

কংগ্রেস নেতা, সাধারণ মানুষের জন্য আর্থিক পরিকল্পনা কেমন হবে তা জানতে চাইলে, আবারও অভিজিৎ জানান, সাধারণ মানুষের কাছে অর্থ সাহা‌য্য পৌঁছনো বেশ জটিল। বহু মানুষের জনধন অ্যাকাউন্ট নেই, নেই রেশন কার্ডও। পরি‌যায়ী শ্রমিকদের কাছেও নেই প্রয়োজনীয় নথি ‌যা দিয়ে অর্থ সাহা‌য্য পেতে পারেন তারা।  

Inform others ?
Show Buttons
Hide Buttons