পরিযায়ী শ্রমিকদের ট্রেন ভাড়ার খরচ বহন করবে কংগ্রেস, জানালেন সনিয়া

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : লকডাউনে বিভিন্ন রাজ্যে আটকে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরাতে ‘শ্রমিক স্পেশ্যাল’ ট্রেন চালাচ্ছে কেন্দ্র। তবে ওই ট্রেনের টিকিটের দাম পরিযায়ীদের মেটাতে হবে, তাঁরা না পারলে ওই ভাড় দিতে হবে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের সরকারকে। মোদী সরকারের এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই বিতর্ক দানা বাঁধে। এরই মাঝে বড় ঘোষণা করলেন কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী। অসহায় পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরাতে রেল ভাড়া জোগাবে দেশের সবচেয়ে প্রাচীন রাজনৈতিক দলটি। সোমবার এক বিবৃতিতে কেন্দ্রকে বিঁধে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন কংগ্রসের অন্তর্বর্তীকালীন সভানেত্রী।

সনিয়ার দাবি, লকডাউন-পর্বে বিষয়টি নিয়ে বারবার কেন্দ্রের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে কংগ্রেস। পরিযায়ী শ্রমিকরা যাতে সুরক্ষিত ও বিনামূল্যে রেলযাত্রা করে ভিটেয় ফিরতে পারেন, তা নিয়ে কেন্দ্রের কাছে দরবার করা হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘বারবার বলা সত্ত্বেও আমাদের দাবি পুরোপুরি উপেক্ষা করেছে কেন্দ্র ও রেল মন্ত্রক।’ সেজন্য প্রদেশ কংগ্রেসের তরফে প্রত্যেক পরিযায়ী শ্রমিকের ট্রেন ভাড়ার টাকা বহন করা হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে বলে জানান সনিয়া। তিনি বলেন, ‘দেশবাসীর প্রতি এটা কংগ্রেসের মানবিক সহায়তা এবং তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়।’ 

মায়ের সুরে সোমবার কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন রাহুল গান্ধীও। সোমবার একটি টুইটবার্তায় তিনি বলেন, ‘একদিকে ভিনরাজ্যে আটকে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকদের থেকে ভাড়া নিচ্ছে রেল মন্ত্রক। অন্যদিকে, পিএম-কেয়ার্স তহবিলে তারা ১৫১ কোটি টাকা দান করছে। দয়া করে এই হেঁয়ালির সমাধান করুন।’ টুইটের সঙ্গে রেলের অনুদান দেওয়া সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনের স্ক্রিনশটও পোস্ট করেছেন রাহুল।

এদিকে, সনিয়ার বিবৃতির পর সব রাজ্যের কংগ্রেস নেতৃত্বকে স্থানীয়ভাবে সাহায্য করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপেকর নিয়ে নির্দেশ দিয়েছেন কোষাধ্যক্ষ আহমেদ প্যাটেল।

তৃতীয় পর্যায়ের লকডাউনের শুরুতেই দেশজুড়ে করোনা সংক্রমিত ৪২,৫৩৩ জন। গত ২৪ ঘন্টায় ২,২৭০ জনের শরীরে জীবাণুর হদিশ মিলেছে। অ্যাকটিভ কেস ২৯,৪৫৩। তবে, ১১,৭০৬ জন সুস্থ হয়ে ওঠায় আশার আলো দেখছে স্বাস্থ্যমন্ত্রক। ভারতে এখনও পর্যন্ত কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১,৩৭৩ জনের।

তৃতীয় পর্যায়ের লকডাউনে বাংলায় কোথায় কী ধরনের গতিবিধিতে ছাড় মিলবে, তা নির্ধারণে আজ বৈঠকে বসছে রাজ্য প্রশাসন। মুখ্যসচিব রাজীব সিনহার নেতৃত্বাধীন টাস্ক ফোর্স এই ছাড়ের বিষয়টি স্থির করবে। রাজস্বের কথা বিবেচনা করে মদের দোকান খোলায় রাজ্য সরকার ছাড় দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

পৃথিবীব্যাপী করোনা আক্রান্তের সংখ্যা সোমবার ৩.৫ মিলিয়ান ছাড়িয়েছে। বেড়েছে মৃত্যুর সংখ্যাও।

 

Inform others ?
Show Buttons
Hide Buttons