সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকবে বাইকে, অভিনব উদ্যোগ যুবকের

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : করোনা ভাইরাসের জেরে দেশজুড়ে লকডাউনের ফলে গৃহবন্দি দশা কাটাচ্ছেন দেশবাসী। খুব প্রয়োজন ছাড়া যাতে সাধারণ মানুষ বাড়ির বাইরে না বের হন, সেবিষয়ে বারে বারে সরকারের তরফে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এমনকি বাইরে বেরোলেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলা হচ্ছে। করোনা সংক্রমণ রুখতে এই সামাজিক দূরত্বকে গুরুত্ব দিতে এবার এক বিশেষ মোটরবাইক তৈরি করে ফেললেন ত্রিপুরার এক ব্যক্তি। 

যাত্রী এবং চালকের মধ্যে ১ মিটারের ব্যবধান রাখতেই মূলত এই বিশেষ মোটরবাইক তৈরি করেন বছর ৩৯-এর ওই ব্যক্তি। মাঝপথেই স্কুল ছেড়ে দেওয়া পার্থ সাহা নামের ওই ব্যক্তি জানান, গাড়ির যন্ত্রংশ এবং পুরনো গাড়ি বিক্রেতার কাছে তিনি একটি একটি পুরনো বাইক কেনেন। এরপর প্রথমে গাড়ি থেকে ইঞ্জিনটি বের করে সেটিকে দুভাগে ভাগ করেন। তারপর ইঞ্জিনের দুটি অংশের মাঝে এক মিটারের বেশি (৩.২ ফুট) লম্বা রড লাগিয়ে দেন। যার ফলে প্রয়োজনীয় দূরত্ব বজায় রাখতে বাইকটির দুটি সিটের মধ্যে দূরত্ব বেড়ে যায়। এবিষয়ে পার্থ সাহা এক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “এই বাইকে এখন আমি এবং আমার মেয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে যাত্রা করতে পারি। “

অন্যান্য দেশের মতো ভারতেও করোনার সংক্রমণ রুখতে এবং এই মারণ ভাইরাসের বিস্তার রোধ করতে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার জন্য নির্দেশিকা জারি হয়েছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩৩,০০০ ছাড়িয়েছে। যার মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১,০৭৪ জনের। আগামী ১৪ এপ্রিল জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানিয়ে দেন লকডাউনের মেয়াদ ৩ মে পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হল। তখনও পার্থ সাহা নামের ওই ব্যক্তি আঁচ করতে পারেন, খুব শীঘ্রই এই মারণ ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই শেষ হচ্ছেনা।

টিভি সারাইয়ের দোকানে কর্মরত পার্থ বাবু জানান, পুরনো মোটরবাইক দিয়ে এই যানবাহন তৈরি করতে তাঁর সঞ্চয়ের থেকে বেশ কিছু টাকা খরচা হয়েছে। তবে লকডাউন উঠলে মেয়েকে স্কুল ও টিউশনে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই যানবাহনটি ব্যবহার করার পরিকল্পনা নিয়ে এই যানবাহনটি তিনি তৈরি করেন বলে জানিয়েছেন। কারন তিনি চাননা তাঁর মেয়ে ভিড়ের মধ্যে স্কুল বাসে উঠুক।

পার্থবাবুর তৈরি এই যানবাহনটি ব্যাটারি চালিত। এছাড়া সর্বাধিক গতি ৪০ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা। এর ব্যাটারিটি চার্জ করতে প্রায় ঘন্টা তিনেক সময় লাগে। একবার চার্জ দিলে ব্যায় হয় ১০ টাকার কারেন্ট। বাইকটি একসাথে ৮০ কিলোমিটার চলতে পারে। পার্থবাবুর এই আবিষ্কারের প্রশংসা করেছেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। তাঁর কথায়, প্রয়োজনীয়তাই আবিষ্কারের জননী! কোভিড-১৯ এর মতো এক মহামারীতে সচেতনতা তৈরি করার জন্য এই বিশেষ মোটরবাইক বানানোর জন্য আমি পার্থ সাহাকে অভিনন্দন জানাই।”

Inform others ?
Show Buttons
Hide Buttons