লকডাউনে গৃহবন্দি থাকলেই মিলবে সোনা, অভিনব প্রতিযোগিতার আয়োজন এই গ্রামে

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : করোনা সংক্রমণ ঠেকানোর একমাত্র উপায় গৃহবন্দি থাকা। বাড়ি থেকে না বেরোলেই এই মারণ ভাইরাসের হাত থেকে বাঁচতে পারবে দেশবাসী। আর ঠিক সেকারনেই জরুরি কারন ছাড়া বাইরে বেরোতে নিষেধ করছে রাজ্য ও কেন্দ্র সরকার। ঝুঁকি কম করতে রাস্তা-ঘাটে মোতায়ন করা হয়েছে পুলিশ কিন্তু তাও বারে বারে উঠে আসছে নিয়মভঙ্গের অভিযোগ। তাই এবার সাধারণ মানুষকে ঘরবন্দি রাখতে এক বিশেষ উদ্যোগ নিল কেরল প্রশাসন। 

করোনার কিভাবে মানুষকে ঘরে রাখা যায়, সেবিষয়ে এক নয়া পন্থা অবলম্বন করেছে কেরলের মালাপ্পুরম জেলার থাজেখোড়ে গ্রাম পঞ্চায়েত। এক্ষেত্রে ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। রয়েছে নানান আকর্ষনীয় পুরষ্কারও। কিন্তু কী এই প্রতিযোগিতার বিষয়বস্তু? ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে বলা হয়েছে, লকডাউন যতদিন চলবে ততদিন যে সমস্ত পরিবারগুলি সবচেয়ে বেশি বাড়িতে থাকবে তাঁদের পুরষ্কৃত করা হবে। প্রথম পুরস্কার হিসাবে দেওয়া হবে সোনা। দ্বিতীয় হলে মিলবে রেফ্রিজারেটর। এবং তৃতীয় পুরস্কার ওয়াশিং মেশিন। এর পরেও রয়েছে ৫০টি সান্ত্বনা পুরস্কার। ইতিমধ্যেই ওি গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে নেওয়া এমন পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে গোটা রাজ্য। 

করোনা আতঙ্কে কাঁপছে গোটা দেশ। কিন্তু এই মারণ ভাইরাস ভয়াবহ রূপ নিয়েছে মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, রাজস্থান ও গুজরাটের মতো রাজ্যগুলিতে।যদিও কেরলেই প্রথম করোনা আক্রান্তের হদিশ মেলে। তারপর এক এক করে বৃদ্ধি পেতে থাকে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। তবে বর্তমানে সেখানরার পরিস্থিতি অনেকটাই সুস্থ ও স্বাভাবিক। কমেছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। রাজ্য সরকারের উদ্যোগেই সেখানে করোনা দমন সম্ভব হয়েছে। এবার সেরাজ্যের মালাপ্পুরম জেলার থাজেখোড়ে গ্রাম পঞ্চায়েত করোনা মোকাবিলায় নিল আরও এক নয়া পদক্ষেপ। যা গোটা দেশের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে। 

ওই গ্রামে প্রায় দশ হাজার পরিবারের বসবাস করেন বলে জানিয়েছেন গ্রাম পঞ্চায়েতের সভাপতি একে নসর। তিনি আরও বলেন, লকডাউনের পরেই বিজয়ীদের হাতে পুরষ্কার তুলে দেওয়া হবে। তবে গ্রামে কেউ নিয়ম ভাঙছেন কি না তা দেখার জন্য বেশ কয়েকজনকে নিয়োগ করা হয়েছে। নিয়ম ভঙ্গ করে বাইরে বেরোলেই তাকে বাদ দেওয়া হবে প্রতিযোগিতা থেকে। কিন্তু  গ্রাসবাসীদের হাতে কিভাবে পুরষ্কার তুলে দেওয়া হবে, সেবিষয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতের সভাপতি বলেন, “আশা করছি ৩ মে এই প্রতিযোগিতা শেষ হবে। সেটা পঞ্চায়েতই ঠিক করবে। প্রতিযোগিতার মেয়াদ শেষে পর্যবেক্ষকদের থেকে ফলাফল জানতে চাওয়া হবে। তারপর সেই সব পরিবারকে একটি করে কুপন দেওয়া হবে। তাদের মধ্যেই লাকি ড্রয়ের মাধ্যমে বেছে নেব বিজয়ীদের।” 

 

 

 

Inform others ?
Show Buttons
Hide Buttons