স্বাস্থ্যকর্মীদের উপর হামলা রুখতে এল অধ্যাদেশ

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মহামারী আইন ফিরিয়ে আনার কথা ঘোষণা করল কেন্দ্র। শুক্রবার ক্যাবিনেট মিটিং সেরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর জানালেন, স্বাস্থ্যকর্মীদের আঘাতের ঘটনা এই আইনে জামিন অযোগ্য অপরাধ বলে বিবেচিত হবে। দোষী সাব্যস্ত হলে ছয় মাস থেকে সাত বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে।

এদিন জাভড়েকর বলেন, “যখন গোটা দেশ স্বাস্থ্যকর্মীদে কুর্নিশ করছে তখন কিছু মানুষ স্বাস্থ্যকর্মীদের বারবার আঘাত করছেন। বলছেন, তাঁরাই নাকি সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। আমরা এই আক্রমণ কিছুতেই বরদাস্ত করব না।”

একটি টুইটবার্তায় শাহ বলেন, ‘চিকিৎসকদের সুরক্ষা ও সম্মানের সঙ্গে কোনওরকম আপস করা হবে না। তাঁদের কাজের জন্য সবসময় উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। আমি চিকিৎসকদের আশ্বস্ত করেছি যে মোদী সরকার তাঁদের (সুরক্ষায়) প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ও তাঁদের প্রস্তাবিত প্রতিবাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়েছি।’

শাহের আশ্বাসের পর নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসে আইএমএ। জানানো হয়, প্রতিবাদ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেওয়া হচ্ছে। তার কিছুক্ষণ পরই অধ্যাদেশ নিয়ে আসে কেন্দ্র। সাংবাদিক বৈঠকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পৌরহিত্যে বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্বাস্থ্যকর্মীদের উপর হামলার ঘটনা রুখতে ১৮৯৭ সালের মহামারী আইনে (এপিডেমিক ডিজিজ অ্যাক্ট) পরিবর্তন করে একটি অধ্যাদেশ আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জাভড়েকর বলেন, ‘স্বাস্থ্যকর্মীদের উপর কোনও হিংসা বা তাঁদের হেনস্থার ঘটনা আর বরদাস্ত করা হবে না।’

তিনি আরও জানান, ১৮৯৭ সালের মহামারী আইন ফিরিয়ে আনার ফলে চিকিৎসকের হেনস্থায় যুক্ত যে কোনও অপরাধীকে ১ লক্ষ টাকা থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা দিতে হবে। তাঁর কথায়, “এই আইন সমস্ত চিকিৎসা কর্মীদের বিমার আওতাও আনবে।” আপাতত অর্ডিন্যান্সটি রাষ্ট্রপতিভবনে পাঠানো হয়েছে। তিনি স্বাক্ষর করলেই আইনটি বলবৎ হবে।

নয়া অধ্যাদেশে আরও একটি বিশেষ নিয়ম রয়েছে বলে জানান জাভড়েকর। সেই নিয়ম অনুযায়ী, হামলর ফলে যদি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের গাড়ি বা ক্লিনিক ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে বাজারদর অনুযায়ী যত টাকা ক্ষতি হয়েছে, তার দ্বিগুণ অর্থ হামলাকারীদের দিতে হবে। দ্রুত তদন্ত শেষেরও বিধান রয়েছে। একইসঙ্গে চিকিৎসকদের দাবি মেনে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের বিধান রয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যকর্মীদের উপর হামলা হলে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হবে। ৩০ দিনের মধ্যে তদন্ত পুরো হবে। সিনিয়র ইন্সপেক্টর পর্যায়ের একজন অফিসার তদন্ত করবেন। এক বছরের মধ্যে শাস্তি কার্যকরী হবে।।

 

Inform others ?
Show Buttons
Hide Buttons