বাড়ি ফিরতে চেয়ে এক হাজার শ্রমিকের ভীড় মুম্বাইয়ের বান্দ্রায়, লাঠি চার্জ করল পুলিশ

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : আজ সকালেই প্রধান মন্ত্রী করোনা মোকাবিলায় লকডাউনের সময়সীমা বাড়িয়ে ৩-রা মে প‌র্যন্ত করে দিয়েছেন। লকডাউনের এই দ্বিতীয় পর্ব আরও কঠিন নিয়মে থাকতে হবে বলে জানান তিনি। আর ঠিক সেই একই দিনে কয়েক ঘন্টার ফারাকে বাণিজ্য নগরী মুম্বাইয়ে দেখা গেল এক অন্য চিত্র। কাতারে কাতারে পরি‌যায়ি শ্রমিক এসে জড়ো হয় বান্দ্রা রেলওয়ে স্টেশনে বাড়ি ফেরার আশায়।

‌মঙ্গলবার সকালেই জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে বারবার সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং এর কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আর সেই সোশ্যাল ডিসট্যান্সিংই প্রায় নস্যাৎ করে হাজার খানেক শ্রমিক জড়ো হন বাড়ি ‌যাওয়ার জন্য। লকডাউন দীর্ঘায়িত হওয়ার ঘোষণার কিছুক্ষণ পরেই তাঁরা বিক্ষোভ করতে থাকেন। তাঁদের দাবি ছিল হয় সরকারি ভাবে তাঁদের বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক, নাহলে তাঁদের এখানেই খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা করা হোক।

বাড়ির থেকে দুরে তাঁদের না মিলছে প‌র্যাপ্ত পরিমানে খাবার না মিলছে থাকার জায়গা। এমনকি পাওয়া ‌যাচ্ছেনা পানীয় জলও। এইজন্যেই বাড়ি ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন তাঁরা। লকডাউনের প্রথম পর্ব শেষ হওয়ার কথা ছিল ১৪ তারিখ, ফলে তাঁরা ভেবেছিলেন ট্রেন বা বাস চলতে পারে। ফলে শতাধিক মানুষের জমায়েত হয়। তবে বেগতিক দেখে লাঠি চার্জ করেছে পুলিশ। এতে বেশ কিছু মানুষ জখমও হয়েছেন।

লকডাউনের জেরে চলছে না ট্রেন। এর আগেও রাজধানীতে ২৯শে মার্চ দিল্লির আনন্দবিহারেও প্রায় একই ঘটনা ঘটে।  প্রায় ১০ হাজার মানুষ জড়ো হন বাড়ি ফিরবেন বলে। মঙ্গলবার বেলার দিকে তাঁরা সকলে বান্দ্রা স্টেশনের বাইরে বাস টার্মিনাসে জড়ো হয়ে, তাঁদের বাড়ি ‌যাওয়ার জন্য বাসের ব্যবস্থা করার দাবি করেন। মূলত বিহার ও বাংলা থেকে আসা এরা  সকলেই দিনমজুর, ফলে এদের উপার্জন একেবারে বন্ধ।

আজকের বান্দ্রার এই চিত্র স্বভাবতই প্রশ্ন তুলেছে সরকারের ভুমিকায়। তবে এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দিকেই আঙুল তুলেছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের ছেলে আদিত্য ঠাকরে। তিনি এদিন ট্যুইট করে বলেন, বান্দ্রা স্টেশনের ঘটনা থামানো গেলেও এর দায় কেন্দ্রীয় সরকারের, কারণ এরা খাবার বা বাসস্থান চায়না, চায় বাড়ি ফিরতে।

Inform others ?
Show Buttons
Hide Buttons