রবিবার রাতে সব আলো নিভে গেলেও বিকল হচ্ছেনা বিদ্যুৎ পরিষেবা

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : ৫ এপ্রিল, রবিবার রাত ৯ টায় ৯ মিনিটের জন্য সব আলো নিভিয়ে প্রদীপ কিংবা মোমবাতি জ্বালানোর নিদান দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এর পর থেকেই দেশের বিদ্য়ুৎ ব্য়বস্থা বিকল হয়ে যাওয়া নিয়ে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। হঠাৎ করে দেশ জুড়ে রাত ৯ টার সময় বিদ্যুতের চাহিদা কমে যাওয়ার পর ফের যখন ৯ মিনিট পরে সমস্ত কিছু সচল হবে তখন দেশের বিদ্য়ুৎ ব্য়বস্থা বিকল হয়ে যাওয়া সম্ভাবনা থাকছে। 

এবিষয়ে পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট এবং তামিলনাড়ু সহ আরও কিছু রাজ্যের গ্রিড ম্যানেজাররা নিজ নিজ রাজ্যের লোড ডেসপ্যাচ সেন্টারের মাধ্যমে তাঁরা জানিয়ে দিয়েছেন যে আপৎকালীন পদক্ষেপ হিসেবে তাঁরা সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকছেন। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, রবিবার রাত ৯ টায় আলো নিভিয়ে এই গ্রিড কী বিকল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে? এছাড়া এর ফলে কী দীর্ঘক্ষনের জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হতে পারে? 

এককথায় বললে তার উত্তর হবে ‘না’। ভারতে গড়ে বিদ্যুতের চাহিদা ১৬০ গিগাওয়াট বা ১৬০,০০০ মেগাওয়াট। কিন্তু লকডাউনের জেরে তা ৩০ শতাংশ কমে গিয়েছে। গ্যাসচালিত প্লান্ট এবং হাইডেল-পাওয়ার গুলিকে মিনিট কয়েকের মধ্যেই বন্ধ করা যায় এবং লকডাউনের জেরে বিভিন্ন থার্মার পাওয়ার প্ল্যান্ট গুলিতেউ কাজ কম হওয়ায় উৎপাদনের মাত্রা কম করা হয়েছে। ফলে সেক্ষেত্রেও বিদ্যুতের চাহিদা বেশ খানিকটা কমে গিয়েছে। পাওয়ার সিস্টেম অপারেশন কর্পোরেশন (পসকো), যা জাতীয় লোড-নিয়ন্ত্রক কর্পোরেশন আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিস্থিতি সহজেই আয়ত্তে আনার ক্ষমতা রাখে। 

দ্বিতীয়ত, যদি প্রত্য়েকে রাত ৯ টায় তাঁদের বিদ্য়ুৎ পরিষেবা বন্ধ রাখে তাহলে কী গ্রিডটি দিলে গ্রিড-এর কার্যকলাপের ওপর কী প্রভাব পড়বে?

এবিষয়ে বলা যায়, বিদ্যুৎ পরিষেবা যদি পুরোপুরি বন্ধ করা থাকে তাহলে, সমস্ত পাওয়ার স্টেশনগুলি উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সিতে যেতে পারে, কারণ এতে বিদ্যুতের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায় এবং গ্রিড ট্রিপিংয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু তাতে বিদ্য়ুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা থাকেনা।

তবে ৯ মিনিটের জন্য দেশের সমস্ত আলো নিভিয়ে দেওয়া হলেই এই গ্রিড বিকল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা যদিও খুবই কম, তবু গ্রিড পরিচালকরা একটা বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন। তবে এই বড় ইউনিট বিকল হয়ে গেলে তার বিকল্প ব্যবস্থাও রয়েছে। বর্তমানে লকডাউনের জেরে যেহেতু অধিকাংশ কলকারখানা এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, হোটেল, কারখানা, মল, রেলস্টেশন, বিমানবন্দর বন্ধ রাখা হয়েছে তার ফলে এখন বিদ্যুতের গৃহজাত চাহিদায় বড়ো হয়ে দাড়িয়েছে। অতএব স্রেফ আলো জ্বালালেই এখন লোড অনেক বেশি বাড়ছে। ফলে সারা দেশ জুড়ে হঠাৎ করে সব আলো নিভে গেলে ফ্রিকোয়েন্সির অনেকটা পরিবর্তন ঘটতে পারে। 

 

 

 

Inform others ?
Show Buttons
Hide Buttons