করোনার থাবা- বাতিল হতে পারে টোকিও অলিম্পিক

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : করোনাভাইরাসের কড়াল গ্রাসে বেড়ে চলেছে মৃত্যু মিছিল।  চিনের ন্যাশনাল হেল্থ কমিশন জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় এই মারণ ভাইরাসের বলি হয়েছেন আরও ৫২ জন। এর ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২,৭১৫ জন। নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৪০৬ জন। আগের দিন এই সংখ্যাটা ছিল ৫০৮। চিনে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৭৮,০৬৪।

মঙ্গলবার নতুন করে আক্রান্তদের মধ্যে ৪০১ জনই হুবেই প্রদেশের। আগের দিনের থেকে যদিও এই সংখ্যা তুলনামুলক ভাবে কম। সোমবার হুবেইতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৪৯৯ জন। চিনের বাইরেও উদ্বেগ বাড়িয়েছে এই মারণ ভাইরাস। দক্ষিণ কোরিয়ায় লাফিয়ে বেড়েছে আক্রান্তের সংখ্যা।
অপরদিকে, এক মার্কিন সৈনিকের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলেছে। আমেরিকার সেনাবাহিনীর তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, ২৩ বছরের এক জওয়ান এই রোগে আক্রান্ত। আপাতত তাঁর বাড়ি কোয়ারেনটাইনে রয়েছেন তিনি।

এ দিকে, আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির এক শীর্ষ কর্তা জানিয়েছেন, মে মাসের মধ্যে করোনাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে না-পারলে টোকিয়ো অলিম্পিক ২০২০ বাতিল করতে হতে পারে। এটির তারিখ পরিবর্তন  বা  স্থান পরিবর্তন করা যাবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ইরানের উপ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইরাজ হারির্চি। মঙ্গলবার তেহরানের তরফে জানানো হয়েছে, দিন দুয়েক আগে সাংবাদিক বৈঠক করার সময় হঠাৎই ভীষণ রকম ঘামতে শুরু করেন তিনি। সঙ্গে প্রবল কাশি। এ দিন জানা গিয়েছে, ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন তিনি। চিনের পর এই ভাইরাসে সবথেকে বেশি মৃত্যু এখনও পর্যন্ত ইরানেই হয়েছে। সোমবার মৃতের সংখ্যা পঞ্চাশের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে বলে শোনা গেলেও এ দিন তেহরান জানিয়েছে, ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত কয়েকশো।

ইরানের পরই দক্ষিণ কোরিয়া। এখানে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে নভেল করোনাভাইরাসে। জারের কাছাকাছি মানুষ আক্রান্ত। এমন পরিস্থিতিতে ভাইরাসে লাগাম পরাতে এই সম্প্রদায়ের ২ লক্ষ অনুগামীর মেডিক্যাল টেস্ট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। যদিও, ভাইরাস ইতিমধ্যেই এতটা ছড়িয়ে গিয়েছে যে তার ফল সামলাতেই বেগ পেতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ দিকে, ইতালির অবস্থা ক্রমেই গুরুতর হচ্ছে। উত্তর ইতালিতে ইতিমধ্যেই ভাইরাসে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ বার ভাইরাস হানা দিল দক্ষিণে। এখানকার ক্যানারি দ্বীপ পর্যটকদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয়। সেখানকারই একটি হোটেলে এক মহিলার শরীরে ভাইরাস মিলেছে। তার পর গোটা হোটেলটি বন্ধ করে দেয় প্রশাসন।
বিষয়টি এখন আর শুধু ইতালিতেই সীমাবদ্ধ নেই ইউরোপের অন্য দেশগুলি — অস্ট্রিয়া এবং ক্রোয়েশিয়াতেও নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে।

এ দিনের পরিসংখ্যান বলছে বিশ্বজুড়ে ৮৮ হাজার মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। মৃতের সংখ্যা ২৮০০ ছাড়িয়েছে। অধিকাংশই চিনের বাসিন্দা। চিনে মৃত্যুর হার কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও যে ভাবে নতুন নতুন দেশে ভাইরাস ছড়াচ্ছে তা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ছড়িয়েছে আতঙ্ক।

Inform others ?
Show Buttons
Hide Buttons