গ্রীষ্মকালে কমবে করোনার প্রকোপ, জানালেন বিশেষজ্ঞেরা

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : ভারতীয় গ্রীষ্মের দাবদাহ ধীর করতে পারে করোনা সংক্রমণের গতি। দেশের অন্যতম প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ইন্সিটিউট অব হেল্থ এবং মার্কিন ‌যুক্ত রাষ্ট্রের অবস্থিত বিশ্বের সর্ববৃহৎ বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সংস্থার সাথে ‌যুক্ত দুই ভারতীয় মাইক্রোবায়ালজিস্টের মতে, ভারতের জলবায়ু গ্রীষ্ম প্রধান হওয়ার ফলে এখানে গ্রীষ্মে কোভিড সংক্রমণের গতি কিছুটা কমবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে গ্রীষ্মের তাপমাত্রার পারদ ‌যত চড়বে, তত এই মারণ ভাইরাসের সংক্রমণ ক্ষমতা ধীর হবে। মাননীয় মাইক্রোবায়োলজিস্ট অধ্যাপক ওয়াই সিং জানান, এপ্রিল মাসের শেষের দিকে ভারতে তাপমাত্রা থাকার কথা ৪০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের মত। আবহাওয়া এই তাপমাত্রায় পৌঁছলে কোভিড-১৯ ‌যে দ্রুততার সাথে ছড়াচ্ছে তা হবেনা। অধ্যাপক সিং মার্কিন সেনার পরীক্ষাগারে প্রজেক্ট অ্যান্থ্র্যাক্স শীর্ষক গবেষণায় এই কথা বলেন।

অধ্যাপক সিং জানান, করোনা ভাইরাস সাধারণত ‌যে কোনো ক্ষেত্র থেকে ড্রপলেটস বা এরোসেল আকারে একজনের শরীর থেকে অন্য জনের শরীরে সংক্রামিত হয়। আবহাওয়া উষ্ণ থাকলে কোভিড সংক্রামিত রোগীর শরীর থেকে নির্গত ড্রপলেট বেশিক্ষণ অ্যাকটিভ থাকতে পারবে না, তা বাষ্পিভুত হয়ে ‌যাবে। এর ফলে কোনো সমতল জায়গা ‌যেখানে সংক্রামিত রোগী ছুঁয়েছেন সেখান থেকে সংক্রমণের সম্ভবনা থাকবেনা।

প্রখ্যাত বাইরেলজিস্ট ডাঃ অখিল সি ব্যানার্জী জানান, তাপমাত্রা ৩৯ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড হলে এই ভাইরাস নিস্ক্রিয় হয় অনেক দ্রুত। তবে ‌যদি কোনো ব্যক্তি কোনো কোভিড-১৯ পজিটিভ রোগীর বেশ কাছে থাকেন তবে তাঁর নিশ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে এই ভাইরাস তাঁর শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

ডাঃ ব্যানার্জী জানান, তাপমাত্রা বৃদ্ধি কোভিড সংক্রমণের প্রতিরোধে কাজে লাগলেও সমস্ত বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্তের জন্যে প্র‌য়োজন ‌যথেষ্ঠ পরিমাণে তথ্য, ‌যা এই মুহুর্তে আমাদের কাছে নেই। ফলে কোনো নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছন এখনই সম্ভব না। ডাঃ ব্যানার্জী বহুদিন ইন্সটিটিউট অব ইমিউনোলজির সাথে ‌যুক্ত ছিলেন এবং বিশ্ব বন্দিত সংক্রামক ব্যাধী বিশেষজ্ঞ অ্যান্তনি ফসির সাথেও কাজ করেছেন।

‌যদিও আবহাওয়া বিশেষে কোভিড-১৯ এর আচরণগত পরিবর্তনের গবেষণা এখনও চলছে, তা সত্বেও বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়েই জানাচ্ছেন কোভিড ভাইরাসের সংক্রমণ বেশি দেখা ‌যায় ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল মাস প‌র্যন্ত, ‌‌যখন আবহাওয়া তুলনামুলক শীতল থাকে। এবং এপ্রিল থেকে জুন মাস প‌র্যন্ত এর সংক্রমণের গতি ধীরে ধীরে কমতে থাকে।

অ্যাসোসিয়েসন অব মাইক্রোবায়েলজির প্রাক্তন সেক্রেটারি অধ্যাপক প্রত্যুশ শুক্লা জানান, কিছু বিশেষজ্ঞ জুন থিয়োরির কথা বলেছেন ‌যা অবসম্ভাবি ভাবে আবহাওয়া ও তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে ‌যুক্ত। তবে তাঁদের চিনা সহ‌যোগীদের সাথে কথা বলে  জানতে পারা ‌যাচ্ছে উষ্ণ আবহাওয়ায় এই ভাইরাসের শক্তি ক্ষয় হয় এবং খুব দ্রুত নিস্ক্রিয় হয়।

 

Inform others ?
Show Buttons
Hide Buttons