ধ্বংসস্তুপে দাঁড়িয়ে গোটা বাংলা, কেন্দ্রকে রাজনীতি না করার অনুরোধ মমতার

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : মঙ্গলবার গভির রাত পর্যন্ত ধ্বংসলীলা চালিয়েছে ঘূর্ণিঝড় আমফান। যার জেরে ব্যপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে গোটা বাংলা। আগামী ২ থেকে ৩ দিন সময় লাগবে এই ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করতে। নবান্ন থেকে এদিন এমনটাই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। এদিন মমতা বলেন, ‘একটা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দাঁড়িয়ে আমরা। সাধারণ মানুষকে নিয়ে মোকাবিলা করে যাচ্ছি। দিঘাতে যতটা ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হয়ছিল ততটা ক্ষতি হয়নি। আগে থেকে প্রশাসন কড়া ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হয়েছে। পাঁচ লক্ষ মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কারণে রক্ষা করে গিয়েছে। তবে দুই ২৪ পরগনা পুরো ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। অনেক জায়গায় মানুষ গাছ পড়ে মারা গিয়েছেন। আমি নবান্নে নিজের ঘরেও ঢুকতে পারিনি। পুরো বিল্ডিংয়ের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় আট জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও উত্তর ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকার পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ। সব সর্বনাশ হয়ে গিয়েছে। আমরা নিজেরা খুব স্তম্ভিত। খুব খারাপ লাগছে। যা দেখলাম তাতে করোনার থেকেও বড় বিপর্যয় হয়ে গেল।’

এখানেই শেষ না করে মুখ্যমন্ত্রা এগিন আরও বলেন, ‘এই যে ধ্বংসলীলা দেখলাম তা ১৯৩৭ সালের কথা মনে করিয়ে দিল। কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। আজকে যে তাণ্ডব দেখেছি তাতে খুব আঘাত পেয়েছি। কেন্দ্রীয় সরকারের কাজে আবেদন থাকবে এই সময় রাজনীতি না করে বাংলার পাশে দাঁড়ান। আমরা যেখানে কাজ করছি সেই নবান্নেরও অনেক ক্ষতি হয়েছে। আমি সাধারণ মানুষকে আবেদন করব এখনই রিলিফ ক্যাম্প ছেড়ে কোথাও যাবেন না। সরকারি আধিকারিকদের পরামর্শ মেনে চলুন।  পরিস্থিতি সামলাতে ১০-১২ লাগবে। এই সময়টা আমাদের সকলকেই ধৈর্য ধরে থাকতে হবে।’ একইসাথে এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে রামকৃষ্ণ মিশন ও ভারত সেবাশ্রমকে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য অনুরোধ জানান তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘আগে থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলে মৃত্যুর সংখ্যা হয়ত অনেকটা কমেছে কিন্তু সব মিলেয়ে অত্যন্ত সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে গোটা বাংলা। কিন্তু, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা ধ্বংস হয়ে গেছে। রাস্তা, ঘরবাড়ি ও ব্রিজ সব ভেঙে পড়েছে। তবে এখনও সব খবর পাইনি। অনেক মানুষ গাছ ও বাড়ি ভেঙে মারা গিয়েছেন। কেউ কেউ আহত হয়েছেন। বিদ্যুৎ নেই। জল নেই। পুকুরগুলি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। দিকে দিকে ধ্বংসের চিহ্ন। বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। আস্তে আস্তে হয়ত ঝড়ের দাপট কমবে। কিন্তু, এর মধ্যে ধানের ক্ষেত থেকে শুরু করে সব নষ্ট হয়ে গিয়েছে। খুব খারাপ লাগছে। বুলবুলের সময় মেরামত করেছিলাম। আজ যেটা হল, সেটা ধ্বংস। করোনার জন্যে এমনিতেই রাজ্যের আয় বন্ধ। তারপর যা ক্ষতি হল তা হয়তো কয়েক হাজার কোটিতে পোঁছে যাবে।’

 

 

 

Inform others ?
Show Buttons
Hide Buttons