বাড়ছে চিকিৎসকদের আত্মহত্যার প্রবণতা, চিন্তায় দেশের প্রশাসন

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : করোনা আবহের মধ্য়ে এবার এক নতুন আতঙ্ক গ্রাস করছে রাশিয়াকে। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে যখন হিমসিম খাচ্ছেন দেশের প্রশাসন তখন সেখানে এবার নতুন করে ঘটছে চিকিৎসক আত্মহত্যার ঘটনা। জানা গিয়েছে, গত দুসপ্তাহে মোট তিনজন রুশ ডাক্তার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। তাঁদের মধ্য়ে দুজন মারা গিয়েছেন। অপর একজন বর্তমানে চিকিৎসাধীন। তাঁর অবস্থা বেশ সংকটজনক বলেই জানা গিয়েছে। কিন্তু কেন হঠাৎ চিকিৎসকদের মধ্যে আত্মঘাতী হওয়ার প্রবণতা বেড়েছে, তা নিয়েই এখন চিন্তায় পড়েছে প্রশাসন। 

করোনার জেরে ঘুম উড়েছে গোটা বিশ্বের মানুষের। দিনের পর দিন যেভাবে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যয়া বাড়ছে তাতে উদ্বেগ বাড়ছে প্রতিটি দেশের প্রশাসনের। এই মারণ ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সাধারণ মানুষকে গৃহবন্দি থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাও নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোন স্বার্থ ছাড়াই সাধারণ মানুষের সেবার কাজে নিজেদের নিযুক্ত রেখেছেন চিকিৎসকরা। প্রতি নিয়ত তাঁরা করোনার ভাইরাসের সাথে পরোক্ষ ভাবে সাথে লড়াই করে চলেছেন। ইতিমধ্য়েই করোনা প্রাণ কেড়েছে বহু চিকিৎসকের। কিন্তু এই সংকটের মুহুর্তে রুশ চিকিৎসকদের এই আত্মহত্যার ঘটনা নতুন করে চিন্তায় ফেলছে প্রশাসনকে। 

রাশিয়ার করোনা পরিস্থিতি এখন সংকটজনক। প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি মানুষের সংক্রমণের খবর মিলেছে ভ্লাদিমির পুতিনের দেশে। আর এই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় রাশিয়ার ডাক্তারদের মধ্যে অস্বাভাবিকতা যে সেদেশের প্রশাসনের কাছে বেশ চিন্তার কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রুশ চিকিৎসকদের আত্মহত্যার এই ঘটনাকে ট্র্যাজেডি বলেই দাবি করেছেন। করোনার চিকিৎসা নিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ব্যপক দ্বন্দ্ব চলছে। এমনকি স্বাস্থ্যকর্মীরা কর্তৃপক্ষের দ্বারা অনেক ক্ষেত্রে নিপীড়িত হচ্ছেন বলেও জানা গিয়েছে। সংকটের মুখে এই সমস্ত আবাঞ্ছনীয় প্রতিকূলতা তাঁরা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করছেন বলেও মনে করছেন অনেকে।

দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট জানাচ্ছে, করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করতে নেমে রকার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভয়ানক মানসিক ও শারীরিক চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে চিকিৎসকদের। রুশ চিকিৎসক আলেক্সান্ডার শুলেপভ গত শনিবার হাসপাতালের একটি জানলা দিয়ে ঝাঁপ দেন। তিনি অ্যাম্বুলেন্সে জরুরি চিকিৎসা দিতেন বলেই জানা গিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে সেদিন তাঁকে তড়িঘড়ি উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অসুস্থ অবস্থাতেও তাঁকে কাজ করতে বাধ্য করা হয় বলে অনেকে জানিয়েছেন। এর আগে আরও যে দুই চিকিৎসক আত্মহত্যা করেন তাঁরা হলেন এলেনা নেপোমনিয়াশছায়া ও নাতালিয়া লেবেদেভা (স্টার সিটির ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল সার্ভিসের প্রধান)। তবে চিকিৎসারত অবস্থায় তাঁরা দুজনেই মারা যান। 

 

 

Inform others ?
Show Buttons
Hide Buttons