কোভিড -১৯ চিকিৎসায় অ্যান্টি ম্যালেরিয়া ওষুধ প্রয়োগের জন্য মোদীকে অনুরোধ করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক :  গোটা বিশ্বে মহামারীর আকার ধারণ করেছে, সারা বিশ্বে ১১ লক্ষ ছাড়িয়েছে আক্রান্তের সংখ্যা। এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি কোনো প্রতিষেধক। বিশ্ব জুড়ে বহু দেশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এর প্রতিষেধক আবিস্কারের। ইতিমধ্যেই মার্কিন চিকিৎসকদের মতে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনাইন এর কার্যকারিতা এই রোগে বেশ। এবং ক্লোরোকুইনাইন উৎপাদনে সর্ববৃহৎ হল ভারতবর্ষ। কিন্তু ইতিমধ্যেই এই ওষুধ তৈরির উপাদান রফতানি বন্ধ করেছে ভারত সরকার গত ২৫ শএ মার্চ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার জানান যে করোনা প্রতিরোধের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে হাইড্রোক্সাইক্লোরোকুইন অনুরেধ জানিয়েছেন মার্কিন চিকিৎসকদের চাহিদা অনুপাতে এই ওষুধ রফতানিতে অনুমতি দিতে। মার্কিন যুক্ত রাষ্ট্রে বর্তমানে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা সবথেকে বেশি, ফলে এই ওষুধএর প্রয়োজনও বিপুল। তাঁদের এই বিপদের সময়ে ভারতের কাছে এই অনুরোধ রক্ষার আন্তরিক প্রচেষ্টা আশা করেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের দৈনিক সাংবাদিক বৈঠকে বলেন যে, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর টেলিফোলের কথোপকথনে তিনি এই হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনাইন রফতানির কথা জানিয়েছেন। এর সাথে সিনি এও বলেন যে প্রধানমন্ত্রী তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে দেখছেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদী এই ফোন কল সম্পর্কে টুইট করেলেও, আমেরিকান রাষ্ট্রপতির নির্দিষ্ট অনুরোধের কথা উল্লেখ করেননি।
তিনি কেবল বলেছেন যে, তাদের মধ্যে ‘ভাল আলোচনা হয়েছে, এবং কোভিড -১৯-এর লড়াইয়ে ভারত-মার্কিন জোট একত্রে কাজ করবে। ভারত সমস্ত শক্তি দিয়ে সাহায্য করবে মার্কিন যুকক্ত রাষ্ট্রকে।
শনিবার, হোয়াইট হাউসের তরফ থেকে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের ফোলের কথোপকথনের একটি লিখিত সংস্করণ

পড়ার সময় বলেন, করোনা মহামারী চলাকালীন সারা বিশ্বে ওষুধ ও চিকিৎসার যন্ত্রপাতির গ্লোবাল সাপ্লাই চেইনে যে ছেদ পড়েছে তা সামলানোর ব্যপারেও সম্মত হয়েছে দুই রাষ্ট্র প্রধান। বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য সঙ্কটের সময় তারা যথাসম্ভব সরবরাহ অব্যাহত রাখতে প্রস্তত।
বিশ্বের মধ্যে ভারত হাইড্রোক্সাইক্লোরোকুইনের অন্যতম বৃহত্তম উৎপাদনকারী, যা ম্যালেরিয়া এবং লুপাসের চিকিৎসার জন্য কয়েক দশক ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। করোনাভাইরাস রোগীদের ক্ষেত্রে কাজ করে এমন স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারদের জন্য প্রোফিল্যাক্টিক হিসাবে ওষুধটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট জানান, তারা বহুল পরিমাণে হাইড্রোক্সাইক্লোরোকুইন তৈরি করলেও,তাদের ১.৫ মিলিয়ন মানুষ রয়েছে ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই ওষুধের চাহিদা খুব বেশি।
তবে কোনও প্রমাণ নেই যে হাইড্রোক্সাইক্লোরোকাইন করোনভাইরাসটির বিরুদ্ধে কাজ করে। কিছু গবেষণা এবং পরীক্ষা হয়েছে, তবে বিজ্ঞানীরা এবং বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে এর কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্য।
মার্কিন ড্রাগ নিয়ন্ত্রক, খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন কর্তৃক মার্চ মাসের মাঝামাঝি করোনায় গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জন্য নির্ধারিত হাইড্রোক্সাইক্লোরোকুইন (বা ক্লোরোকুইন) ব্যবহারের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। গত সপ্তাহে এটিকে জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে।

Inform others ?
Show Buttons
Hide Buttons