প্রয়াত সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, অবসান অধ্যায়ের! শোকবিধ্বস্ত বাঙালি

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : শেষ রক্ষা আর হল না। চলেই গেলেন ফেলুদা। মানে বাঙালির অপু তথা অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। রবিবার বেলা ১২টা ১৫ মিনিটে কলকাতার ভেলভিউ হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫। তাঁর জীবনাবসানে কার্যত বাংলার চলচ্চিত্র জগত ও সাংস্কৃতিক জগতে এক অধ্যায়ের অবসান ঘটলো। কারণ সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় শুধু অভিনেতা ছিলেন না, ছিলেন একাধারে নাট্যকার ও আবৃত্তিকারও। এমনকি কলমও ধরেছেন একাধিকবার। একই সঙ্গে আজীবন থেকে গিয়েছেন বামপন্থায় বিশ্বাসী। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হওয়ার পাশাপাশি রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে সরকারি সম্মাণ গ্রহণ করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ বাঙালি।

৮৫টি বসন্ত পেরিয়ে আসা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুর খবর পাওয়া মাত্রই বেলভিউ হাসপাতালে চলে আসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পূর্তমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় সহ অনেকেই। গত দেড় মাস ধরে এই হাসপাতালেই ভর্তি ছিলেন এই প্রবাদপ্রতীম অভিনেতা। কোভিডে আক্রান্ত হয়েই গত ৬ অক্টোবর এই হাসপাতালে ভর্তি হন সৌমিত্রবাবু। চিকিৎসকেরাও যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন তাঁকে সুস্থ করে তুলতে। একসময় চিকিৎসাতে সাড়াও দিচ্ছিলেন। মনে হয়েছিল এবার হয়তো ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠবেন। কিন্তু রবি বেলায় সেই শেষরক্ষা আর হল না। বা ফেরার দেশে পাকাপাকি ভাবেই পাড়ি জমালেন বাংলার অন্যতম এই সেরা অভিনেতার। মহানায়ক উত্তমকুমারের পরেই বাঙালির হৃদয়ে যার জায়গা। প্রবাদপ্রতীম অভিনেতার প্রয়াণে তাই শোকস্তব্ধ বাংলার সিনেমামহল থেকে নাট্যকুল।

১৯৩৫ সালে মধ্য কলকাতার মির্জাপুর স্ট্রিটে যা বর্তমানে সূর্য সেন স্ট্রিট নামেই পরিচিত সেখানেই জন্মগ্রহণ করেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের। তবে নিজেকে বরাবরই কৃষ্ণনগরের ছেলে বলে পরিচিতি দিতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। কারন ছোটবেলার একটা বড় অংশই কেটেছে তাঁর কৃষ্ণনগরে। সেখানেই নাটক তথা অভিনয়ের সঙ্গে তাঁর হাতেখড়ি। ছোট থেকেই করতেন অভিনয়। ছিল নাটকের প্রতি হাওড়ায় চলে আসে সৌমিত্রর পরিবার। স্কুল জীবন শেষ করে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করার আগেই শিশির ভাদুড়ির অভিনয়ে মুগ্ধ হয়ে অভিনয়কেই পেশা হিসাবে আঁকড়ে ধরার ইচ্ছা চেপে গিয়েছিল সৌমিত্রের মনে।  ঠিক সেই সময়, ১৯৫৫-৫৬ সালে সত্যজিৎ রায় যখন ‘অপরাজিত’র জন্য নতুন মুখ খুঁজছিলেন তখনই তাঁর সঙ্গে বছর ২০-২১শের সৌমিত্রর দেখা হয়। জীবন ঘোরার পালা সেই থেকেই। এই সৌমিত্রের চেহারাই হয়ে উঠলো সত্যজিত রায়ের সৃষ্টি গোয়েন্দা প্রদোষচন্দ্র মিত্রের চেহারা। জন্ম নিল বাঙালির ফেলুদা।

Inform others ?
Show Buttons
Hide Buttons