“ও অবসাদে ভোগার মতো মানুষই ছিল না”, নীরবতা ভেঙে সুশান্ত সম্বন্ধে বললেন অঙ্কিতা

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু যেন হঠাৎ করেই তাঁর ভক্তদের মাথায় বিনা মেঘে বজ্রপাত ঘটিয়েছে। মাত্র ৩৪ বছর বয়সেই জীবনের পথচলা থেমে যায় বলিউডের এই সৌম্যদর্শন অভিনেতার। ১৪ জুন, সুশান্ত সিং রাজপুতকে তাঁর বাড়িতে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়, যা দেখে প্রাথমিকভাবে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলেই মনে করছে পুলিশ। কিন্তু হঠাৎ কেন এই চরম সিদ্ধান্ত নিতে গেলেন বলিউডের এই উঠতি অভিনেতা? অনেকেই তাঁর আত্মহত্যার বিষয়টি বিশ্বাস করছেন না। এর পিছনে অন্য কোনও রহস্য আছে বলে মনে করছে সুশান্তের পরিবারও। এবার সুশান্তের মৃত্যু নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন তাঁর একসময়ের সবচেয়ে কাছের মানুষ অঙ্কিতা লোখাণ্ডে। রিপাবলিক টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, সুশান্ত এমন মানুষই নন যিনি আত্মহত্যা করতে পারেন। পাশাপাশি সুশান্তের মানসিক অবসাদে ভোগার বিষয়টিও মানতে নারাজ অঙ্কিতা।

অঙ্কিতা লোখাণ্ডে এবং সুশান্ত সিং রাজপুত প্রায় ৬ বছর ধরে লিভ ইন করতেন। পরে যদিও অঙ্কিতার সঙ্গে আর সম্পর্ক রাখতেন না অভিনেতা। তবু এখনও সুশান্তের কথা বলতে গিয়ে অঙ্কিতার চোখে জল আসে। তিনি বলেন, “সুশান্ত আত্মহত্যা করার মতো মানুষই নয়। আমরা যখন একসঙ্গে ছিলাম তখন আমরা অনেক কঠিন পরিস্থিতি দেখেছি। কিন্তু ও সবসময় খোশমেজাজেই থাকতো। যতটুকু আমি ওকে জানি, ও কখনোই অবসাদে ভুগতে পারে না। আমি সুশান্তের মতো মানুষ জীবনে আর কখনও দেখিনি, ও নিজেই  নিজের স্বপ্নগুলোকে সত্যি করতে পারতো। ওর একটা ডায়েরি ছিল, তার মধ্যে ও ৫ বছরের একটি পরিকল্পনা করেছিল এবং ৫ বছর পর সেটা সব পূরণ করতেও পেরেছিল। যখন ওর সম্পর্কে মানসিক অবসাদে ভোগার কথা ওঠে তখন এটা আমায় খুব কষ্ট দেয়। ও হয়তো কখনো উদাস থাকতে পারে বা রেগে থাকতে পারে কিন্তু অবসাদে ছিল এটা মেনে নিতে পারছি না।”

সুশান্ত সিং রাজপুত সম্পর্কে বলতে গিয়ে অঙ্কিতা লোখাণ্ডে আরও বলেন, “আমি যে সুশান্তকে জানতাম সে একটি ছোট শহর থেকে এসেছিল। অভিনয়ের পাশাপাশি ও আরও অনেক কিছু শিখেছিল। সুশান্ত কে এবং কী ছিলেন তা বোধহয় আমার মতো করে কেউ জানে না। প্রত্যেকেই লিখছেন যে তিনি কতটা হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। এই সব পড়ে খুব খারাপ লাগে।” একসময় সুশান্তের প্রিয় মানুষটি আরও বলেন, “ও খুব ছোট ছোট জিনিসেও আনন্দ পেতো। আমি চাষাবাস করতে চেয়েছিলাম। তখন ও আমাকে বলেছিল যে কিছু না হলে আমি আমার শর্ট ফিল্ম বানাব। আমি জানি না এরপর ঠিক কী পরিস্থিতি হয়ে ছিল, তবে আমি এটা আবার বলতে পারি যে ও অবসাদে ভোগার মতো মানুষ ছিল না। আমি ওকে মানুষের মনে একজন অবসাদগ্রস্ত মানুষ হিসাবে থাকতে দিতে পারি না। ও একজন হিরো ছিল এবং সকলের অনুপ্রেরণা ছিল।”

 

Inform others ?
Show Buttons
Hide Buttons