পাশে দাঁড়াতেন ইরফান, শ্রদ্ধা জানিয়ে গ্রামের নামকরণ তাঁর নামেই

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : গত ২৯ এপ্রিল চির দিনের মতো পৃথিবী থেকে বিদায় নেন বলিউডের বিশিষ্ট অভিনেতা ইরফান খান। তাঁর মৃত্যু বলিউড থতেকে শুরু করে হলিউড তারকাদরেও শোক প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছে। এবার প্রয়াত অভিনেতা ইরফান খানের নামে নিজেদের গ্রামের নাম রাখার সিদ্ধান্ত নিলেন মহারাষ্ট্রের একটি গ্রামের বাসিন্দারা। 

বাকি আর পাঁচটা গ্রামের সাথে মহারাষ্ট্রের লগতপুরি গ্রামের সেরকম কোন পার্থক্য নেই। আর এই গ্রামে সিনেমা হল তো দূর অনেক বাড়িতে টিভি পর্যন্ত নেই। তবে গ্রামবাসীরা সকলেই প্রায়াত অভিনেতা ইরফান খানকে চেনেন। বড় থেকে শুরু করে ছোট সকলেই ইরফানের একটি হলেও সিনেমা দেখেছন। এমনকি তাঁর ছবি দেখার জন্য নাসিকের প্রেক্ষাগৃহ যেতে ৩০ কিলোমিটার পথ পাড়িও দিয়েছেন। অনেকেই এবার টেলিভিশনে ইরফানের ছবি দেওয়ার অপেক্ষায় থেকেছেন। এমনকি অভিনেতা নিজেও এই গ্রামের সাথে এতখানি জড়িয়েছিলেন যে, সেখানে বাগানবাড়ি তৈরি করার জন্য জমিও কিনে ফেলেছিলেন। নানা ভাবে গ্রামবাসীদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। অ্যাম্বুলেন্স থেকে শুরু করে দুঃস্থ শিশুদের পড়ার খরচও বহন করেছেন তিনি। তাই এবার অভিনেতা ইরফান খানের মৃত্যুর পর তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং তাঁকে স্মরণীয় করে রাখতে লগতপুরি গ্রামের নাম পরিবর্তন করে হিরো-চি-ওয়াদি রাখার সিদ্ধান্ত নিলেন গ্রামবাসীরা। মারাঠি ভাষায় যার অর্থ হিরোর প্রতিবেশী।

লগতপুরি গ্রামের জেলা পরিষদের এক সদস্যের কথায়, “যখনই আমাদের তাঁর প্রয়োজন হত, তিনি আমাদের পাশে এসে দাঁড়াতেন। তিনি আমাদের গ্রামের জন্য একটি অ্যাম্বুল্যান্স দিয়েছেন। যাতে জরুরি কোন প্রয়োজনে গ্রামবাসীরা খুব শীঘ্রই  হাসপাতাল বা চিকিতসকের কাছে যেতে পারেন। শিক্ষার্থীদের জন্যও একটি স্কুল খোলার ব্যবস্থা করেন তিনি। সেই স্কুলের সমস্ত খরচও তিনিই বহন করতেন। যাদের প্রয়োজন, সেইসব পড়ুয়াদের বইপত্র দিয়েও সাহায্য করেছেন তিনি।” ইফরান খান যে ওই গ্রামের বহু পরিবারের অভিভাবক ছিলেন তাও এদিন জানান সেখানকার এক গ্রামবাসী। 

 

 

 

Inform others ?
Show Buttons
Hide Buttons