ঘরে নেই চাল, পাথর ‘রান্না’ করে ক্ষুধার্ত শিশুদের ভোলালেন মা

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : করোনা ভাইরাসের জেরে চলছে লকডাউন। গৃহবন্দি দশা কাটাচ্ছে বিশ্বের প্রতিটি মানুষ। কাজ না থাকায় পেটে টান পড়েছে বহু মানুষের। অনেকের বাড়িতেই হয়তো খাবারের দানাটুকুও নেই। তাই সন্তানদের কান্না থামাতে এবার নুড়ি-পাথর দিয়েই রান্নার আয়োজন করলেন মা। 

কেনিয়ার মোম্বাসায় আট সন্তানকে নিয়ে বাস বিধবা পেনিনাহ কিটসার। ঘরে একদানা খাবার নেই, বেশ কয়কদিন থেকেই সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে পারেননি এই মহিলা। তাই খিদের জ্বালায় কাঁদতে থাকা সন্তানদের ভোলাতে পাথর ও নুড়ি জোগাড় করে তা দিয়েই মিছিমিছি রান্না করতে থাকেন। হাঁড়িতে ভাত ফুটছে, এই আশায় তখন বুক বাঁধত সন্তানেরাও। কিছুক্ষনের মধ্য়ে খাবার পাবো এই আশায় থাকতে থাকতে একসময় ঘুমিয়ে পড়ত তারা। কিন্তু এই ভাবে আর কতদিন! একদিন মোহভঙ্গ ঘটল সন্তানদেরও। 

এরইমধ্য়ে পুরো ঘটনাটি প্রতিবেশীদের নজরে পড়ে। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ সাহায্যের হাতও বাড়িয়ে দেন পেনিনাহের দিকে। তবে প্রতিবেশীদের মধ্য়ে থেকেই একজন এই বিষযটি সংবাদমাধ্যমে জানান। এরপর থেকেই বিভিন্ন দিক থেকে সাহায্য আসতে শুরু করে। এই সাহায্যের ফলেই সন্তানদের মুখে দুমুঠো খাবার তুলে দিতে পেরে এদিন খুশিতে ভরে ওঠে পেনিনাহর মন। একইসাথে এদিন তাঁর প্রশ্ন, ‘মানুষ এখনও এতো ভালোবাসতে পারে?’

মাস খানেক আগেই দুষ্কৃতিদের হাতে খুন হন পেনিনাহর স্বামী। তখন থেকেই  দারিদ্রতা তাঁদের নিত্য সঙ্গী।প্রতিবেশীদের বাড়িতে কাজ করেই কোন ভাবে আট সন্তানের মুখে অন্ন তুলে দেন তিনি। কিন্তু করোনার জেরে এখন কাজও বন্ধ। গত কয়েক মাস কোন উপার্জন না থাকায় এই ভাবেই সন্তানদের কাছে পাথর দিয়ে মিছিমিছি রান্না করার অভিনয় করেন তিনি। এবিষয়ে বিধবা পেনিনাহ বলেন, ‘বাচ্চাদের খাওয়ানোর মতো কিছু ছিল না আমার কাছে। তাই ডেকচিতে পাথর ফেলে রান্না করতাম। যাতে ওদের মনে হয়, খাবার তৈরি হচ্ছে।’ কিন্তু বেশ কিছুদিন এভাবে চালানোর পর সন্তানদের কাছে ধরা পড়ে যান তিনি। তাঁর এই রান্নার কৌশল যে মিথ্যা তা ধরে ফলে সন্তানেরা।

লকডাউনে দুস্থ মানুষদের খাদ্য পৌঁছে দিতে উদ্যোগ নিয়েছে মোম্বাসা প্রশাসন। বিনামূল্যেই প্রশাসনের তরফে খাপার মিলছে বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু সেখান থেকে কোন খাদ্যশস্য পাননি বলেই জানান পেনিনাহ। 

Inform others ?
Show Buttons
Hide Buttons