ফিরে দেখা ইরফান খানের জীবনের সেরা কিছু চলচ্চিত্র

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : বুধবার মাত্র ৫৩ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন অভিনেতা ইরফান খান। সাড়ে তিন দশক ধরে প্রসারিত তাঁর উজ্জ্বল,বর্ণময় অভিনয় জীবন।

> সুদক্ষ অভিনেতা হতে গেলে প্রয়োজন নেই সিক্স প্যাক বডির  তা ইরফান খান বুঝিয়ে দিয়েছেন তাঁর সাড়ে তিন দশক লম্বা কেরিয়ারে। বুধবার মাত্র ৫৩ বছর বয়সে থেকে গেল এই অসম্ভব প্রতিভাশালী অভিনেতার জীবন। ইরফান খানের অকাল প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা দেশ।

>১৯৬৭ সালের ৭ জানুয়ারি সাহাবজাদে জন্মগ্রহণ করেন ইরফান আলি খান। রাজস্থানের জয়পুরে জন্ম অভিনেতার। তবে ছোটবেলায় অভিনয় নয় ক্রিকেট খেলাই ছিল ইরফানের প্রিয়।

>হঠাৎ ই নাটকের দিকে মন যায় তার, ১৯৮৪ সালে ন্যাশান্যাল স্কুল অফ ড্রামায় সুযোগ পান ইরফান খান। এই ঘটনাই পুরোদস্তুর পাল্টে দিয়েছিল ইরফানের জীবন।

>আশির দশকের দ্বিতীয়ার্ধে মুম্বইতে এসে টেলিভিশনে অভিনয় জীবন শুরু করেন ইরফান। চাণক্য, ভারত এক খোঁজ, সারা জাহান হামার’র মতো ধারাবাহিকে অভিনয় করেছিলেন ইরফান। পাশাপাশি নিয়মিত থিয়েটারেও কাজ করছেন।

>তার কেরিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন পরিচালক মীরা নায়ার। ১৯৮৮ সালে এই হলিউড পরিচালকের সালাম বম্বে ছবিতে অভিনয় করেন ইরফান। অস্কার মনোনীত এই ছবির সঙ্গেই রূপোলি সফর শুরু অভিনেতার। অন্যধারার ছবির ক্ষেত্রে বেশ পরিচিত নাম হয়ে উঠেন ইরফান খান।

>নয়ের দশকেও মূলধারার বলিউড ছবি থেকে দূরেই ছিলেন ইরফান খান। ২০০৩ সালে বিশাল ভরদ্বাজের মকবুল ছবিতে অভিনয় করে সংবাদ শিরোনামে আসেন ইরফান। শেক্সপিয়ারের ম্যাকবেথের ভারতীয় অ্যাডাপশন এই ছবি।

>২০০৪ সালে প্রথমবার মেনস্ট্রিম ছবিতে লিড রোলে অভিনয় করেন ইরফান। ছবির নাম ছিল রোগ।সেই বছরই হাসিল ছবিতে অভিনয়ের জন্য খলনায়ক হিসাবে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পান ইরফান খান।

>অনুরাগ বসুর লাইফ ইন এ মেট্রো ছবিতে ইরফানের অভিনয় সাড়া ফেলেছিল। কঙ্কনার সঙ্গে ইরফানের কেমিস্ট্রি মন কেড়ে নেয় সকলের। ২০০৭ সালে মুক্তি পায় এই ছবি।

>এরপর বলিউডের পাশাপাশি তাল মিলিয়ে হলিউড ছবিতেও অভিনয় শুরু করেন ইরফান। ২০০৮ সালে অস্কার জয়ী ছবি স্লামডগ মিলিয়নিয়ারে ও অভিনয় করেন তিনি।

>লাইফ অফ পাই,জুরাসিক ওয়ার্ল্ড, দ্য আমেজিং স্পাইডারম্যান, ইনফার্নোর মতো নামকরা হলিউড ছবিতে অভিনয় করেছেন ইরফান খান।

>২০১১ সালে ভারত সরকারের তরফে তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মান দেওয়া হয়।

>২ বছর পর মুক্তি পায় ইরফানের কেরিয়ারের অন্যতম সেরা ছবি লাঞ্চ বক্স। এই ছবি কান চলচ্চিত্র উত্সবে পুরস্কৃত হয়। ছিনিয়ে নেয় বাফটা মনোনয়ন।

>২০১৭ সালে মুক্তি পায় ইরফান খান অভিনীত হিন্দি মিডিয়াম এবং করিব করিব সিঙ্গল। হিন্দি মিডিয়াম ছবির সঙ্গে ফিল্মফেয়ারের মঞ্চে সেরা অভিনেতার পুরস্কার জিতে নিয়েছিলেন ইরফান খান।

>২০১৫ সালে সুজিত সরকারে পিকু ছবিতে অমিতাভ বচ্চন ও দীপিকা পাড়ুকোনের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেন নেন ইরফান। বাবা-মেয়ের সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে তৈরি এই ছবিতেও নিজের অভিনয় দক্ষতার ছাপ রাখেন ইরফান।

>২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইরফান খানের নিউরো এন্ডোক্রিন টিউমারে আক্রান্ত হওয়ার খবর সামনে আসে, এরপর দীর্ঘ সময় লন্ডনে চিকিৎসা চলেছে ইরফান খানের।

>গত বছর এপ্রিলে ভারতে ফিরেছিলেন অভিনেতা। ক্যানসার যুদ্ধে জয়ী হয়েছিলেন তবে তারপর থেকেই নিয়মিত চিকিত্সার মধ্যেই ছিলেন ইরফান খান।

>অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা বেশিদিন দূরে রাখতে পারেনি তাকে। ক্যানসার জয় করে বক্স অফিসে ইরফানের কামব্যাক করেন। তাঁর শেষ ছবি ছিল আংরেজি মিডিয়াম মুক্তি পেয়েছিল গত মাসেই।

>ইরফান রেখে গেলেন তাঁর স্ত্রী সুতপা শিকদার ও দুই পুত্র বাবিল খান ও অয়ন খানকে।

>কোলনে সংক্রমণ নিয়ে মঙ্গলবার ২৮শে এপ্রিল মুম্বইয়ের কোকিলাবেন হাসপাতালে ভর্তি হন অভিনেতা। কিন্তু লড়াই শেষে থেমে গেল, শেষ হয়ে গেল তার যাত্রাপথ। বুধবার সকলের মন ভেঙে চিরনিদ্রায় চলে গেলেন পর্দার পান সিং তোমার।

Inform others ?
Show Buttons
Hide Buttons