প্রয়াত বিশিষ্ট নাট্যকার ঊষা গঙ্গোপাধ্যায়

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক :

প্রায়ত বিশিষ্ট নাট্যকার ঊষা গঙ্গোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার সকালে দক্ষিণ কলকাতার তাঁর নিজের বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। প্রাথমিকভাবে আনুমান করা হচ্ছে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই মৃত্যু হয়েছে ঊষাদেবীর। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। এই বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্বের মৃত্যেুতে শোকের ছায়া নেমেছে নাট্য ও সংস্কৃতি জগতে। 

স্থানীয় সুত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে হঠাৎ করেই সাউথ সিটির উল্টো দিকে নিজের বাড়িতেই তাঁকে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন প্রতিবেশীরা। তড়িঘড়ি তারা চিকিৎসকে ডাকেন। কিন্তু ততক্ষনে চিরনিদ্রায় বিলীন হন ঊষাদেবী। জানা গিয়েছে, সপ্তাহ খানেক আগেই মারা গিয়েছেন তাঁর ভাই, তখন থেকেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। ইতিমধ্যেই ঊষা গঙ্গোপাধ্যায় মৃতদেহ পোস্টমর্টেমে জন্য পাঠানো হয়েছে। 

১৯৪৫ সালে রাজস্থানের যোধপুর জন্ম হয় ঊষা গঙ্গোপাধ্যায়ের ৷ ছোটবেলা সেখানে কাটলেও পরে তিনি চলে আসেন কলকাতায়। ছোটবেলা থেকেই নাচ-গান ও নাটকের প্রতি আলাদা একটা আবেগ ছিল তাঁর। তিনি নিজে হিন্দিভাষী হলেও বাংলা থিয়েটারে তাঁর অবদান ছিল অসামান্য। হিন্দি সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করে ভবানীপুর এডুকেশন সোসাইটি কলেজে একসময় শিক্ষকতাও করেছেন তিনি। 

শিক্ষকতা চলাকালীন ১৯৭৬ সালে রঙ্গকর্মী গ্রুপ থিয়েটার তৈরি করেন ঊষাদেবী। সেই দলের প্রযোজনায় ‘মহাভোজ’, ‘রুদালি’, ‘কোর্ট মার্শাল’ এবং ‘অন্তর্যাত্রা’-র মতো নাটকগুলো পরিবেশিত হয়। যা সেসময় বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছিল। ১৯৮১-৮২ সালে পর পর তিনবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পান। এরপর ১৯৯৮ সালে উত্তরপ্রদেশ সংগীত নাটক আকাদেমির সফদার হাসমি পুরস্কার ও দিল্লির সংগীত নাটক আকাদেমি পুরস্কার, ২০০৩ সালে প্রভা খৈতান পুরস্কার, ২০০৪ সালে ভারতীয় ভাষা পরিষদের গরিমা সম্মান পান। ২০০৮ সালে শিক্ষকতা থেকে অবসর নেন ঊষা গঙ্গোপাধ্যায়। 

 

 

Inform others ?
Show Buttons
Hide Buttons