লকডাউনের সময়সীমা বেড়ে হল ৩-রা মে, ঘেষণা প্রধানমন্ত্রীর

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে ‌যে লকডাউনের সময়সীমা বাড়ানো নিয়ে ঘোষণা হবে তা জানাই ছিল সকলের, বাড়লে তা কবে প‌র্যন্ত বাড়ানো হবে তাই নিয়ে ছিল জল্পনা। অর্থনৈতিক বিপ‌র্যয়েরই বা কি হবে? সামাল দেওয়া হবে কিভাবে? উৎপাদন কি আংশিক ভাবে শুরু করা হবে। এই সমস্ত প্রশ্ন ঘিরে তৈরি হয়েছিল বেশ জল্পনা।

মঙ্গলবার ঠিক সকাল ১০টার সময় জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন নরেন্দ্র মোদী। লকডাউনের সময়সীমা বাড়িয়ে করা হল ৩রা মে প‌র্যন্ত। অর্থাৎ সমগ্র এপ্রিল মাসই বাড়িতে বন্দি থাকতে হবে দেশবাসিকে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জানান, আগামীকাল অর্থাৎ বুধবার কেন্দ্রের তরফ থেকে একটি বিস্তারিত গাইডলাইন ঘোষণা করা হবে  লকডাউন চলাকালীন পরিস্তিতির পরিচালনা নিয়ে।

তিনি এও জানান, হটস্পট গুলি চিহ্নিত করা ছাড়াও ‌যে সমস্ত এলাকায় করোনার প্রভাব কম সেই সমস্ত এলাকায় শর্ত স্বাপেক্ষ ছাড় দেওয়া হবে লকডাউনের নিষেধাজ্ঞায়। ইতিমধ্যেই দেশের আক্রান্ত অঞ্চল গুলিকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। সবুজ, কমলা ও লাল। ‌যে সমস্ত এলাকায় করোনা আক্রান্ত নেই সেই গুলি সবুজ, ‌যেখানে ৩০০র কম আক্রান্ত সেখানে কমলা, এবং ৩০০র বেশি আক্রান্ত এলাকা গুলি লাল বিভাগের অন্তর্গত।

এছাড়া গোটা দেশে বেশ কয়েকটি হটস্পট চিহ্নিত করে সীল করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী ২ সপ্তাহ কড়া প‌র্যবেক্ষণ করবেন সরকারি আধিকারিকেরা, এবং সেই অনু‌যায়ি লকডাউন সিথিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষকে নতুন বর্ষের শুভেচ্ছা জানান, তার সাথে এও জানান ‌যে এই লকডাউনের জেরে শত অসুবিধার সম্মুখীন হয়েও ‌যে সকলে লকডাউন নিষ্ঠার সাথে পালন করেছেন তাতে তিনি অত্যন্ত খুশি।

গোটা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংক্রমণের জেরে ভয়াবহ অবস্থা। এমনও দেশ আছে ‌যাদের একমাস আগেও ভারতের মতই আক্রান্তের সংখ্যা থাকা সত্বেও তাঁরা এই মহামারিকে রুখতে পারেননি। ‌যা ভারত পেরেছে। ভারতে করোনা আক্রান্ত চিহ্নিত হওয়ার বেশ আগে থেকেই করোনা সংক্রামিত দেশ গুলি থেকে আগত ‌যাত্রীদের জন্য এয়ারপোর্টে স্ক্রিনিং এর ব্যবস্থা শুরু করেছিল ভারত।  তাঁদের আইসোলেশনে রাখার ব্যবস্থাও শুরু করা হয় তখনই। 

দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ৫০০র মধ্যে থাকাকালীনই লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ‌যার ফলে ব্যাপক পরিমানে সংক্রমণ রোখা গেছে দেশে। ভারতের সিমীত পরিকাটামো থআকা সত্বেও তৎপরতার সাথে গোটা পরিস্থিতি সামলানো গেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সমস্ত রাজ্য সরকার গুলিরও প্রশংসা করেন করোনা মোকাবিলার জন্য।

তাঁর বক্তব্যে দেশের বিজ্ঞানীদের তিনি আহ্বান জানান, মানবতার জন্য করোনার প্রতিশেধক আবিস্কারের কাজে নি‌যুক্ত হওয়ার কথা বলেন। এছাড়াও অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিক ও পরি‌যায়ী শ্রমিকদের খাওয়া ও থাকার ব্যবস্থার ব্যপারেও আশ্বাস দেন তিনি। আগামীকাল ‌যে গাইডলাইন জারি হবে তাতে বিস্তারিত ভাবে বলা থাকবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আটকে থাকা মানুষগুলির সমস্যার সুরাহা। 

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জানান, এই লকডাউন দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তবে তা ভারতবাসীর প্রাণের থেকে বেশি মুল্যবান নয়। তাই হাজার ক্ষতি স্বীকার করেও এই লকডাউন দীর্ঘায়িত করতে তিনি  তৈরি এবং ভারতবাসীকেও তাঁর সাথে এই সিদ্ধান্তে সহ‌যোগীতার আহ্বান জানান তিনি।

আগামী দিনে সকল ভারতবাসীকে একত্রে করোনা মোকাবিলায় ডাক দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, বাড়ির বৃদ্ধ ‌য‌াঁরা অসুস্থ, দুর্ব্বল তাঁদের খেয়াল রাখতে হবে বাড়ির লোককে। লকডাউন ও সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং এর কড়া ভাবে পালন করতে হবে। মাস্কের ব্যবহার করতে হবে। আরোগ্য সেতু অ্যাপ ব্যবহারের পরামর্শও দেন তিনি।

Inform others ?
Show Buttons
Hide Buttons