হাথরাসের ঘটনায় অভি‌যুক্তের সঙ্গে নিয়মিত ‌যোগা‌যোগ ছিল নি‌র্যতিতা তরুণীর, দাবি উত্তরপ্রদেশ পুলিশের

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : হাথরাস গণধর্ষণ মামলায় ‌যোগীরাজ্যের পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে প্রথম থেকেই। এখনও প‌র্যন্ত তারা মৃতার গণধর্ষণের অভি‌যোগ মানতে নারাজ। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের দাবি ‌যৌনাঙ্গে একাধিক আঘাতের চিহ্ন থাকলেও সেখানে শুক্রাণুর কোনো চিহ্ন পাওয়া ‌যায়নি। সাধারণত শুক্রাণুর আয়ু থাকে তিনদিন। ফলে নি‌র্যাতিতার শারীরিক পরীক্ষা এক সপ্তহ পর হলে তার শরীরে ‌যে শুক্রাণুর চিহ্ন পাওয়া ‌যাবে না তা বলাই বাহুল্য। এই বিষয়ে ‌যোগী পুলিশের দাবি এখনও বদলায়নি। এতেমধ্যেই আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে ‌উত্তরপ্রদেশের পুলিশ ‌যার জন্য এই মামলার মোড় ঘুরতে পারে।

উত্তরপ্রদেশ পুলিশের দাবি হাথরাস কান্ডে মূল অভি‌যুক্ত সন্দীপ সিংয়ের সাথে আগেই ‌যোগা‌যোগ ছিল মৃতার। ঘটনার আগে তাঁদের মধ্যে ফোনে কথা হয় প্রায় ১০৪ বার। নি‌র্যাতিতা তরুণী ও অভি‌যুক্ত সন্দীপ একই গ্রামের বাসিন্দা। এই সন্দীপ সহ আরও চারজনের বিরুদ্ধে ঐ তরূণী কে অত্যাচারের পর খুনের অভি‌যোগ উঠেছে।

তদন্তের প্রাথমিক স্তরে পুলিশ নি‌র্যাতিতা তরুণীর বাড়ির সমস্ত ফোন এবং অভি‌যুক্তদের ফোনগুলি বাজেয়াপ্ত করে। এই ফোন থেকেই তাঁরা জানতে পারেন নি‌র্যাতিতা তরুণী অভি‌যুক্তের সঙ্গে নিয়মিত ‌যোগা‌যোগ রাখতেন। পুলিশ জানায়, একটি নির্দিষ্ট নম্বর থেকে ঐ তরুণী সন্দীপকে ফোন করত। ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে তাদের ফোনে ‌যোগা‌যোগ হয়। এরপর থেকেই তরুণী তার দাদার ফোন নম্বর থেকে সন্দীপকে ফোন করতেন।

উত্তরপ্রদেশ পুলিশের দাবি, মোট ১০৪ টি ফোনের মধ্যে ৬২ টি কল আউটগোয়িং এবং ৪২ টি ইনকামিং। ফোনের টাওয়ার লোকেশন থেকে জানা গেছে নি‌র্যাতিতার গ্রাম বুলগঢ়ির থেকে বেশ খানিকটা দুরের অঞ্চল থেকে এই ফোন করা হত। এই সমস্ত ফোন রেকর্ড ঘেঁটেই পুলিশ জানিয়েছে তরুণীর সঙ্গে অভি‌যুক্তের নিয়মিত ‌যোগা‌যোগ ছিল।

হাথরাসে গত ১৪ সেপ্টেম্বর ঐ তরুণী তার মায়ের সাথে ক্ষেতে কাজ করতে গেলে সেখান থেকে তাকে টেনে নিয়ে গিয়ে অদূরে একটি ক্ষেতে তাকে নিগ্রহ করে অভি‌যুক্ত, বলে জানায় পুলিশ। তবে তরুণীর পরিবারের প্রাথমিক স্তর থেকেই অভ‌ি‌যোগ তাকে গণধর্ষণ করে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ঐ দিনই নি‌র্যাতিতাকে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে আলীগড় হাসপাতালে ভর্তী করা হয়। তার ঘাড়ে ও মেরুদন্ডে গুরুতর আঘাত ছিল। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর তাকে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়, ২৯ সেপ্টেম্বর সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।

হাথরাসের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। এর মধ্যে পরিবারকে আটকে রেখে গভীর রাতে তরুণীর দেহ জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে সাধারণ মানুষ। সিট গঠন করলেও শেষ রক্ষা করতে পারেননি ‌যোগীজি। ঘটনার তদন্তের ভার তুলি দিতে হয়েছে সিবিআই এর হাতে।

Inform others ?
Show Buttons
Hide Buttons