হটস্পট চিহ্নিত কলকাতা, একগুচ্ছ নয়া পদক্ষেপ প্রশাসনের

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : করোনা মোকাবিলায় দেশ জুড়ে দ্বিতীয় দফার লকডাউন শুরু হয়েছে. তৈরি হয়েছে নতুন গাইডলাইনও। কেন্দ্রের তরফ থেকে ১৭০ টি জেলাকে হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই এলাকাগুলিতে চলাচল থাকবে নিয়ন্ত্রিত। জরুরী পরিষেবা ও চিকিৎসার কারণ ছাড়া এখানে কেউ ঢুকতে বা বেরোতে পারবে না।

এই ১৭০ টি জেলার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের ৪ টি জেলা – কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগণা ও পূর্ব মেদিনিপুর আছে। এই এলাকাগুলিকে স্পর্শকাতর হিসেবে এখানকার বিধি নিষেধেও কিছু বদল করা হচ্ছে। এখানে সংক্রমণ রুখতে ‌যথা‌যথ ব্যবস্থা নিচ্ছে কলকাতা পুলিশ।

চিহ্নিত জেলাগুলিকে বিশেষ প‌র্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে। ‌যে সমস্ত এলাকায় সংক্রমণের খোঁজ মিলছে, সেই সমস্ত এলাকা গুলিকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এরপর সেখান থেকে একাধিক সংক্রমণের খোঁজ পাওয়া গেলে সেই এলাকাটিকে কোর বা বাফার এরিয়া হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

এই কোর জোন চিহ্নিত করা হচ্ছে ‌যে এলাকা গুলিতে, সেখানে বাসিন্দারা বাড়ি থেকে বেরতে পারবেন না। জরুরী প্রয়োজনে বা অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের প্রয়োজনে সাহা‌য্য করবে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। অত্যন্ত জরুরী প্রয়োজন বা চিকিৎসাজনীত প্রয়োজনে অনুমতি নিতে হবে স্থানীয় পুলিশের কাছ থেকে। তবে বাফার জোনের মানুষ জরুরী প্রয়োজনে বেরতে পারবেন বাড়ি থেকে তবে সেক্ষেত্রেও অনুমতি নিতে হবে আগে।

আক্রান্ত হলে আগে তাঁদের বাসসস্থান ও আশে পাশের এলাকা স্যানিটাইজ করা হবে। এছাড়াও পৌরসভার তরফ তেকে সমস্ত এলাকায় নিয়মিত জিবানুনাশক স্প্রে করা হবে। হটস্পট চিহ্নিত এলাকার মানুষকে আস্বস্ত করতেই প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে হটস্পট ঘোষণা হলেও নিত্য জীবন ব্যহত হবেনা। প্রয়োজনীয় দ্রব্য পাওয়া ‌যাবে।

এই জরুরী পরিস্থিতর মোকাবিলা কিভাবে হবে সেই নিয়ে আজই আলোচনায় বসেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম, আবাসন দফতরের সচিব ওঙ্কার সিংহ মিনা, পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা।

স্যানিটাইজেশন ও অন্যান্য ব্যবস্থার সাথে সাথে এই সমস্ত এলাকার মানুষ ‌যাতে সুরক্ষিত থাকেন তার জন্যও তৎপর থাকবে পুলিশ। বাসিন্দাদের সুরক্ষার জন্য সমস্ত রকম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিটি বরোতে একজন করে নোডাল অফিসার নি‌য়োগ করা হয়েছে ‌যারা নিয়মিত এলাকার খবর দেবেন স্বাস্থ্য ভবনে। শহরে মাস্ক ছাড়া বাইরে বেরোনো নিষিদ্ধ হয়েছে। ফলে রাস্তায় কড়া নজর রাখছে পুলিশ। মাস্ক ছাড়া বাইরে এলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শহরের বাজার গুলিতেও নজর দেওয়া হচ্ছে। বাজারে স্বল্প পরিসরে একাধিক ব্যবসায়ি গা ঘেঁষাঘেঁষি করে পসরা নিয়ে বসেন। তা আর হবেনা। নির্দিষ্ট দুরত্ব মেনেই বসতে হবে তাঁদের। পুরসভার তালিকাভুক্ত ও তার বাইরে সমস্ত বাজারে সামাজিক দুরত্বর বিধি মেনে চলায় জোর দেওয়া হচ্ছে। সুত্রের খবর এরপর সমস্ত বাজারে চলবে পুলিশি নজরদারি।

শহরের বিভিন্ন বস্তি এলাকাতেও নজরদারী বাড়ানো হবে। পুরসভার স্বাস্থ্য দফতরের কর্মিদের সাথে পুর প্রতিনিধিরাও এবার এই কাজে সহায়তা করবে। প্রয়োজনে খাবার, মাস্ক, ও স্যানিটাইজার সমস্ত কিছু সরবরাহ করা হবে এই এলাকাগুলিতে। বিভিন্ন এলাকায় বাংলা, হিন্দি ও উর্দুতে চলবে মাইকিংও।
বিভিন্ন থানাকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জমায়েতের ব্যপারে নজরদারি চালাতে। শহরের বিভিন্ন অলিগলি ছাড়াও প্রয়োজনে আবাসনের ভেতরেও চলবে নজরদারি।

 

 

Inform others ?
Show Buttons
Hide Buttons