‘চলছে তোষণের রাজনীতি’, মমতাকে পাল্টা ১৪ পাতার পত্রবোমা ধনকড়

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক :  করোনা আবহেও বহাল থাকল রাজ্য-রাজ্যপাল পত্রযুদ্ধ। রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধানের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ হয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধেবেলা ৫ পাতার চিঠি রাজ্যপালকে পাঠান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর পাল্টা জবাবে শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রীকে ১৪ পাতার চিঠি লিখে পাঠালেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। সেই চিঠির প্রতিটি লাইনে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর দোষ গুলি তুলে ধরে তাঁর কড়া সমালোচনা করেছেন। 

এই চিঠিতে একদিকে রাজ্যপাল মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মুসলিমদের তোষণ করার অভিযোগ যেমন তুলেছেন তেমনই অন্যদিকে রাজ্য করোনা মোকাবিলায় ব্যর্থ বলেও দাবি করেন। মুখ্যমন্ত্রী ৫ পাতার চিঠির উত্তরে এদিন রাজ্যপাল তাঁর ১৪ পাতার চিঠিতে লেখেন,  “রাজ্য সরকার করোনা ঠেকাতে একেবারে ব্যর্থ। শুধুমাত্র সকলের চোখ এড়াতে রাজনীতি করা হচ্ছে। একইসাথে মুসলিম তথা সংখ্যালঘু তোষণের রাজনীতিও চালাচ্ছে সরকার। করেনা নিয়ে তথ্য গোপন করা হচ্ছে। আমার ভাষা সম্পর্কে আপনার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যে। আপনি বলছেন রাজ্যপাল মনোনীত, রাজ্যপাল মনোনীত নন, রাজ্যপাল নিযুক্ত। সংবিধান মেনেই রাজ্যকে কাজ করতে হয়। কিন্তু সেখানে আমাকে অন্ধকারে রেখেই সমস্ত কাজ করা হচ্ছে।”

চিঠিতে নিজামুদ্দিন প্রসঙ্গে মমতাকে একহাত নেন ধনকড়। রাজ্যপালের কথায়, নিজামুদ্দিনের অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে সংবাদিকদের তরফে মুখ্যমন্ত্রীকে কোন প্রশ্ন করা হলে, তিনি মেজাজ হারিয়ে ফেলছেন। এমনকি ‘সাম্প্রদায়িক প্রশ্ন করবেন না’ বলেও সাংবাদিকদের ধমক দিচ্ছেন তিনি। কিন্তু একজন প্রশাসনিক প্রধানের এই ধরনের আচরণ একেবারেই বেমানান। তিনি এদিন চিঠিতে আরও লেখেন, ‘আপনি নিজের বিবেকের কথা শুনুন এবং রাষ্ট্রীয় বিধি মেনে চলুন। বাইরের জগতের দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে নিজেকে আয়নার সামনে দাঁড় করান।’

এদিন করোনা নিয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার দিকেও আঙুল তুলেছেন রাজ্যপাল। তাঁর দাবি হাসপাতালে টেস্টের পরে করোনা পজেটিভ ধরা পড়লেও, সেই খবর চেপে দেওয়া হচ্ছে। বহু নাগরিকই করোনা পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত থাকছেন। ১৪ পাতার দীর্ঘ এই চিঠিতে মমতা সরকারের বিরুদ্ধে ৩৭ দফা অভিযোগ করেছেন রাজ্যপাল। মুখ্যমন্ত্রীর পাল্টা জবাবে রাজ্যপালের পাঠানো এই চিঠি রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাতকে আরও চরম পর্যায়ে নিয়ে যাবে বলেই অনুমান করা হচ্ছে। 

 

Inform others ?
Show Buttons
Hide Buttons