শিশুদের যৌননির্যাতন নিয়ে একের পর এক বিতর্কিত রায় দেওয়া বোম্বে হাইকোর্টের বিচারপতির ভবিষ্যৎ হয়ে পড়ল অনিশ্চিত

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : অনাবৃত স্তন স্পর্শ না করলে তা যৌন নির্যাতনের আওতায় পড়ে না রায় দেওয়ার পর যৌনাঙ্গ দেখানো বা জোর করে হাত ধরে রাখা যৌন নির্যাতন নয় বলে রায় দেন বোম্বে হাইকোর্টের নাগপুর বেঞ্চের বিচারপতি পুষ্পা গানেদিওয়ালা। দুই রায় নিয়েই বিতর্ক ছড়ায় দেশজুড়ে। এবার এই বিতর্কিত রায়ের জেরেই অনিশ্চিত হয়েল পড়ল এই বিচারপতির ভবিষ্যৎ।

১৯ জানুয়ারি বোম্বে হাইকোর্টের নাগপুর বেঞ্চ একটি রায়ে জানিয়েছিল, যৌনাকাঙ্খা নিয়ে যতক্ষণ না পোশাক খোলা হচ্ছে বা পোশাকের ভিতর হাত ঢোকানো হচ্ছে বা অঙ্গপ্রবেশ হচ্ছে  ততক্ষণ তা যৌন নির্যাতনের আওতায় পড়ে না অর্থাৎ যৌন নির্যাতনের ক্ষেত্রে ত্বকের সাথে ত্বকের স্পর্ষ না হলে তা যৌন নির্যাতন হিসাবে গন্য হবে না। পকসো আইনের এহেন ব্যাখা দিয়ে পকসো আইন অনুযায়ী ৩ বছরের বদলে ১ বছরের সাজা শোনায় আদালত। 

তার পরেই, এক পঞ্চাশ বছরের ব্যক্তির বিরুদ্ধে এক ৫ বছরের শিশুকে জোর করো ধরে রাখা ও যৌনাঙ্গ প্রদর্শনের অভিযোগ করেছিল শিশুটির পরিবার। পকসো আইনের আওতায় সেশন কোর্ট অভিযুক্তকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা ও ৫ বছরের কারাদন্ড দিলেও তা  বদলে দেয় নাগপুর বেঞ্চ। বিচারপতি এই রায়ের ব্যাখায় বলেন, যেহেতু যৌনাঙ্গ দেখানো ত্বকের সাথে ত্বকের স্পর্শ বা অঙ্গ প্রবেশ (পেনিট্রেশন) নয় তাই এটি যৌন নির্যাতনের আওতায় পড়ে না। বিচারপতি পুষ্পা গানেদিওয়ালা শাস্তির মেয়াদ কমিয়ে ৩৫৪ ও ৩৪২ নং ধারা অনুযায়ী ১ বছরের সশ্রম কারাদন্ডের শাস্তি দেন অভিযুক্তকে।

এবার এই দুই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের জেরেই চাকরি পাকা হচ্ছে না এই বিচারপতির। পুষ্পা গানেড়িওয়ালাকে স্থায়ী বিচারপতি হিসাবে নিয়োগের জন্য সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়াম কেন্দ্রীয় সরকারকে যে সুপারিশ করেছিল, তা তারা প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে বলে জানা যাচ্ছে।

 

Inform others ?
Show Buttons
Hide Buttons